বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০
logo
ভারতকে ক্ষুব্ধ করতেই হিন্দু হত্যা
প্রকাশ : ০১ জুলাই, ২০১৬ ১৫:২২:২৫
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

ঢাকা : ভারত, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশকে ‘ক্ষুব্ধ’ করতেই জঙ্গিরা বেছে বেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসব হত্যার মাধ্যমে সরকারকে বিপদে ফেলতে চায় জঙ্গিরা। তাদের ধারণা, হিন্দুদের হত্যা করলে সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হবে ভারত। আর বৌদ্ধ-খ্রিস্টান খুন করলে আমেরিকা ও জাপান ক্ষুব্ধ হবে। আর এতে সরকার উৎখাত করে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম তাদের জন্য সহজ হবে।
শুক্রবার (১ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
গত ১৫ জুন মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক রিপন চক্রবর্তী হত্যাচেষ্টায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার খালেদ সাইফুল্লাহকে নিয়ে ডিএমপি এ সংবাদ সম্মেলন করে। তাকে ওই শিক্ষক হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলে দাবি পুলিশের।
মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে খালেদ সাইফুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ওই সময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ওই মোবাইল থেকে শিক্ষক হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনাসহ জেএমবির পরবর্তী টার্গেটের প্রচুর তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘খালেদ সাইফুল্লাহর কাছে পাওয়া মোবাইলে জেএমবির পরবর্তী টার্গেট ক্যাটাগরি পাওয়া গেছে। এই গ্রুপের টার্গেট ছিল সংখ্যালঘু, পুলিশ, পীর ও মাজারের খাদেম।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘টার্গেট বাস্তবায়নে এরই মধ্যে খালেদ সাইফুল্লাহ ৪৯ জনের একটি সুসংগঠিত গ্রুপ তৈরি করেছেন। এরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তারা জেএমবি মতাদর্শে বিশ্বাসী।’
শিক্ষক হত্যাচেষ্টা প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম জানান, খালেদ সাইফুল্লাহর বাবা কাজী বেলায়েত হোসেন মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যায় রিপন চক্রবর্তী। তখনই রিপন চক্রবর্তীকে টার্গেট করেন খালেদ সাইফুল্লাহ।
তিনি আরও জানান, হামলার এক মাস আগে হত্যার পরিকল্পনা হয়। তাদের দলনেতা কথিত আমিরের কাছে হত্যার জন্য অনলাইন অ্যাপস ‘টেলিগ্রাম’-এর মাধ্যমে অনুমতি নেন সাইফুল্লাহ। পরে তিনি ২ হাজার ৭শ টাকা দিয়ে মাদারীপুর পুরান বাজার কামারপট্টি থেকে ২টি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি চাকু কিনে কিলিং মিশন নামেন।

দেশ এর আরো খবর