বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০
logo
নৌ-ট্রানজিটের প্রথম পণ্য ভারতে যাচ্ছে কাল
প্রকাশ : ১৫ জুন, ২০১৬ ১৭:২০:১৬
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ট্রানজিট সুবিধার আওতায় ও মাশুলসহ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় পণ্য পরিবহন শুরু হবে আগামীকাল ১৬ জুন থেকে। নৌ প্রটোকল চুক্তি অনুযায়ী এই প্রথম ট্রানজিটের পণ্য যাবে ভারতে।
বেসরকারি একটি জাহাজে এক হাজার টন স্টিল শিট নিয়ে ভারতীয় স্টিল সিটের ১ হাজার মেট্রিকটনের চালানের জাহাজটি ইতোমধ্যে নৌবন্দরে কাছে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আশুগঞ্জ বন্দর পরিদর্শক।
নৌবন্দর থেকে সড়কপথে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় যাবে সিটগুলো। পণ্য পরিবহনে প্রতি টনে ১৯২ টাকা ২২ পয়সা হারে মাশুল আদায় করা হবে। তবে এই পণ্য স্থানান্তরে স্থানীয় শ্রমিক ও ট্রাক চালকরা তাদের সম্পৃক্ততার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও আশুগঞ্জ-আখাউড়া পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তার নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে ভারি মালামাল পরিবহন করলে তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাবে বলেও জানা যায়।
বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে সংশোধিত প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই প্রথম মাশুলসহ পণ্য পরিবহন করতে যাচ্ছে ভারত। আর এই চুক্তির আওতায় প্রথম চালানটি ইতোমধ্যে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পৌঁছেছে। এক হাজার মেট্রিকটন স্টিলসিট নিয়ে জাহাজটি এখন খালাসের অপেক্ষায় আছে।
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতীয় এসব পণ্য পরিবহনে প্রতি টনে ১৯২ টাকা ২২ পয়সা হারে মাশুল আদায় করা হবে। এছাড়া ভয়েজ পারমিশন ফি, পাইলট ফি, বার্দিং (অবস্থান) ফি, ল্যান্ডিং ফি, চ্যানেল চার্জ ও লেবার হোলিং চার্জ সহ জাহাজটি থেকে বাংলাদেশ পাবে দুই লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৫ টাকা।
এর আগে বিশেষ মানবিক কারণে তিন দফায়  ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ফি ছাড়াই আশুগঞ্জ নৌবন্দর ও আশুগঞ্জ-আখাউড়া প্রায় ৪৫কিলোমিটার সড়ক ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারি মালামাল এবং খাদ্যশস্য ট্রানজিট করেছিল ভারত। এবার মাশুলের আওতায় প্রথমবারের মতো পণ্য পরিবহন শুরু করল দেশটি।
স্থানীয় ট্রাক চালক ও বন্দরের শ্রমিকরা জানান, ভারতীয় পণ্য পরিবহনে তারা কাজ করতে আগ্রহী। ভারতীয় এই মালামাল পরিবহন ও স্থানান্তরে আশুগঞ্জ বন্দরের শ্রমিক ও ট্রাক ব্যবহার করা হোক। নিজ এলাকায় এই পণ্য পরিবহন ও স্থানান্তরে কাজ করতে চান তারা। অন্যত্থায় যেকোনো ধরনের আন্দোলনে যাবেন বলেও জানান তারা। এই ব্যাপারে তারা বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
আশুগঞ্জ ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইদন মিয়া মিন্টু জানান, ভারতীয় পণ্য পরিবহনে স্থানীয় ট্রাক আর শ্রমিকদের দিয়ে করানো হোক। এখানে প্রায় আড়াই শতাধিক ট্রাক আছে যা দিয়ে অনায়াসে ভারতীয় মালামাল পরিবহন সম্ভব। তবে আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়কের অনেক অংশেই ভাঙা রয়েছে। এই সড়কটি ব্যবহার করে ভারি মালামাল পরিবহন করা হলে সড়কের অবস্থা আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে এই রাস্তাটির মেরামত করাও জরুরী।
মাশুল সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিএন আশুগঞ্জ বন্দরের পরিদর্শক মো. শাহআলম বাংলামেইলকে জানান, পণ্য পরিবহনে প্রতি টনে ১৯২ টাকা ২২ পয়সা হারে মাশুল আদায় করা হবে। এছাড়া ভয়েজ পারমিশন ফি, পাইলট ফি, বার্দিং (অবস্থান) ফি, ল্যান্ডিং ফি, চ্যানেল চার্জ ও লেবার হোলিং চার্জ সহ জাহাজটি থেকে বাংলাদেশ পাবে দুই লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৫ টাকা।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. শফিকুল হক জানান, ১৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় আশুগঞ্জ নৌবন্দরের ওয়্যার হাউজে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাশুলসহ প্রথম পণ্য পরিবহন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বলেও জানান তিনি। এসময় উপস্থিত থাকবেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হেদায়েতুল আল মামুন, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দেশ এর আরো খবর