মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
ফের সক্রিয় জেএমবি
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৬ ১০:৩৬:২১
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে করে জেলার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ জানান, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে ৬৩ জেলায় একযোগে একই সময়ে সিরিজ বোমা হামলার অংশ হিসেবে গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে বোমা হামলা হয়।
এ ছাড়াও পলাশবাড়ীর হরিণাবাড়ী এলাকায় ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ব্র্যাক অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হতাহত না হলেও এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। এসব পৃথক ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় গা ঢাকা দেয় তথা কথিত জেএমবি’র সদস্যরা। সম্প্রতি, ওই সংগঠনের সদস্যরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান জানান, গত ২৫ মে সকাল ৬টার দিকে জেলার মহিমাগঞ্জ বাজারের জুতা ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিক নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দ রানী প্রামাণিক বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যামামলা করেন। এ হত্যার দায় আইএস তাদের ওয়েব সাইটে স্বীকার করলেও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ ও পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম তা প্রত্যাখান করে জানান, গাইবান্ধায় আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবর রহমান জানান, মামলা তদন্তকালে আব্দুল আল মাসুদ (২১), আতিকুর রহমান আতিক (২০) , ইউসুফ উদ্দিন সাদ্দাম (২৫) ও নজির হোসেনসহ (২৫) ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে নজির হোসেন আদালতে স্বেচ্ছায় ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র হত্যা ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দেয়ায় তাকে বাদ দিয়ে পুলিশ অপর ৩ জনের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এরা সকলেই জেএমবির সদস্য।
গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নূরন্নবী জানান, এর আগে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জেএমবির ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা জেলা কারাগারে রয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামের চিহ্নিত জেএমবি ক্যাডার জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে গত বুধবার গভীর রাতে জেএমবি সদস্যরা গোপন বৈঠক করছিল। খবর পেয়ে গাইবান্ধা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে কথিত জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযান চালায়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ করে গুলি ছোড়ে জেএমবি সদস্যরা। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে অন্যরা পালিয়ে গেলেও তুহিন (২৮) নামে জেএমবি’র এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তুহিন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তরফ সর্দার গ্রামের বাছেদ আলীর ছেলে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ জানান, জেএমবি মুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, জেলার সাত থানা পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থা জেএমবি নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। অচিরেই গাইবান্ধা জেলা জেএমবি মুক্ত হবে।

দেশ এর আরো খবর