মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০
logo
মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান স্থগিত
প্রকাশ : ২৯ মে, ২০১৬ ১৭:০১:১৫
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

চাঁদপুর : সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের চরপুটিয়া এলাকার বনডাকাত মাস্টার বাহিনী সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় এ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব ৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম। আত্মসমর্পণে পরবর্তী দিনক্ষণ কবে সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়েছে। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক বাংলামেইলকে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান স্থগিতের কথা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যোগ দিতে পারেননি। বনডাকাতও তার কাছে ছাড়া আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়নি বলে র‌্যাবকে জানায়। এতে নির্ধারিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।
 
রোববার (২৯ মে) দুপুর ২টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও র‌্যাবের প্রধান বেনজীর আহমেদের উপস্থিতিতে বনডাকাত বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। ওই অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অস্ত্র ও গুলি তুলে দেয়ার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে।
আনুষ্ঠানিক অস্ত্র সমর্পনের আগে রোববার ভোরে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৮) কাছে এ অস্ত্র জমা দেয় ডাকাত বাহিনীর ৭ সদস্য।
গত ৩ মে ‘মাস্টার বাহিনী’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও র‌্যাবের মহাপরিচালকের কাছে আত্মসমর্পণের আগ্রহ জানিয়ে আবেদন করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রক্রিয়া শেষে আজ (রোববার) আত্মসমর্পণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।  
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাস্টার বাহিনীর প্রধান মোস্তফা (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আব্দুল লতিফ একজন মাছ ব্যবসায়ী। ডাকাত মোস্তফার ছোট ভাই কামরুল ২ বছর আগে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
সুন্দরবনের জেলেদের ত্রাস ছিল ডাকাত মাস্টার বাহিনী। নৌকা ও জেলেদের জিম্মি করে বড় অংকের টাকা মুক্তিপণ দাবি করতো এই মাস্টার বাহিনী।
রোববার বেলা ১১ টা ৪০ মিনিটে র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম আত্মসমর্পণ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সুন্দরবনের অভ্যান্তরে হাড়বাড়িয়ার চরাপুটিয়া এলাকায় র‌্যাবের কাছে এ ডাকাত বাহিনীর সাত সদস্য আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে অস্ত্রসস্ত্র জমা দেয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আসতে পারছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ডাকাতরাও তার কাছে ছাড়া আত্মসমর্পণ করতে রাজি হচ্ছেন না। এজন্য আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।’
এর আগে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনা র‌্যাব-৬ জানায়, রোববার মংলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন মাস্টার বাহিনীর দস্যুরা।
সূত্র বলছে, আত্মসমর্পণে যাওয়া দস্যুরা সকাল ১১টা পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ৫১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ হাজার গুলি জমা দিয়েছেন।
র‌্যাবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের পশ্চিম উপকূল এবং সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালদের ত্রাস ছিল ডাকাত মাস্টার বাহিনী। নৌকা ও জালের হিসাব করে নির্ধারিত হারে ডাকাতদের চাঁদা দিতে হতো জেলে ও বনজীবীদের। এতোদিন অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল এ বাহিনীর সদস্যরা। ডাকাতদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল, মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, খুলনা ও সাতীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
আত্মসমর্পণের পর দস্যুদের আইনের কাছে সোপর্দ করতে স্থানীয় পুলিশও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। গেল প্রায় তিন-চার দিন ধরে সুন্দরবনের অন্যতম বড় এই ডাকাত বাহিনীর আত্মসমর্পণ গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। নাটকীতার মাঝে সকালে তারা র‌্যাবের কাছে অস্ত্র জমা দেয়। দুপুরে মংলা ফুয়েল জেটিতে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার হয়। মন্ত্রী আসতে না পারায় আত্মসমর্পণ স্থগিত করা হয়েছে।
 

দেশ এর আরো খবর