সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯
logo
ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালিও আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
ভূমির মালিকদের প্রতি কর্মকর্তাদের সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল, ২০১৭ ১১:১৩:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চাঁদপুর শহরের ইলিশ চত্ত্বর এলাকা
জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের নেতৃত্বে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়। পরে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে ভূমি সেবা সপ্তাহের আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর ম-লের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর রাষ্ট্র। এদেশের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভর করে। তবে বর্তমানে এ কৃষি অনেকাংশে কমে এসেছে। আধিকাল থেকে ভূমি ব্যবস্থাপনার ভালো না থাকায় অনেক ভূমির মামলা হয়েছে। আমরা জনগণের সেবা দিতে  চাবি পেয়েছি। বর্তমানে জমির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রামের অনেক আবাদী জমির মালিকরা চাষ বাস না করে খালি ফেলে রেখেছে। তার কারণ, হলো এ এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রবাসী। আপনারা যারা এ্যাসিল্যান্ড ও তহশিলদার রয়েছেন আপনারা ভূমির সঠিক দলিল করতে হবে। আমরা জমি নবায়ন করছি। অল্প কিছু জমি খারিজ করেছি। মূল রেজিষ্ট্রারে তার খারিজ নাম্বার তুলতে হবে। তাহলে আর জমির মালিকরা ভুক্তভোগী হবে না। দাখিলার মাধ্যমে খাজনা আদায় করতে হবে। এসিল্যান্ডগণ খারিজ অর্ডার দিলে সঠিকভাবে খারিজ করবেন এবং তার কপি জমির  মালিককে বুঝিয়ে দিতে  হবে। যদি কখনো তহশিলদার পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তখন খারিজদাতা ও জমির  মালিক ওই কাগজ দেখে তার সম্পত্তি বুঝে নিতে পারবে। তিনি উদাহরণ টেনে  বলেন, ডাক্তারের কাছে রোগী যেমন সেবা পেয়ে থাকে তেমনি  আপনারা যারা এ্যাসিল্যান্ড ও তহশিলদার রয়েছেন তাদের  কাছে গিয়ে ভূমি মালিকরা সেই ধরনের সেবা পাবে, এমন মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার আপনাদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। আপনারা অর্থের লোভ করবেন না। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা আপনাকে ক্ষমা করবে না। আপনারা মা-বাবার সন্তান নন, আপনারা হলেন সরকারের। আর আপনার সন্তান হলো জনগণ। তাই জনগণের সাথে বেইমানী করবেন না। তিনি ভূমি রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা একটি ব্যক্তিগতভাবে রেজিস্টার তৈরি করবেন। ওই রেজিস্টারে আপনারা প্রতিদিন  কী কার্যক্রম করছেন তা লিখে রাখবেন। এভাবে দু’এক মাস কাজ করলে আপনাদের মন-মানসিকতার  পরিবর্তন হবে। ভূমি আইন জনগণের সেবা করছে। এ আইনকে অমান্য করাযাবে না। যে সম্পত্তি মালিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে ওই সম্পত্তি কালেক্টরে নিয়ে আসতে পারে। তিনি আরও বলেন,  যখন এসিল্যান্ড ছিলাম তখন বাড়ি থেকে ডেকে এনেও খাস জমি দিতে পারেনি। আর এখন  খাস সম্পত্তি নিতে ব্যস্ত। আপনারা ভূমি আইন মেনে চলবেন। ভূমি আইন মেনে কাজ করবেন। আর  আইন মেনে জনগণকে সেবা দিবেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন বলেন, আমি চাঁদপুরে আসার আগে  শুনেছি কর  আদায়ে চাঁদপুর জেলা প্রথম স্থানে ছিল। কিন্তু  ২০১৭ সালে আমি চাঁদপুরে আসার পর সারাদেশের মধ্যে চাঁদপুর ৬ নাম্বার। ভূমি কর্মকর্তারা অন্যায় করতে পারে। তাতে আমি  কিছু মনে  করি  না। কিন্তু  ভূমি আইন না জানাটা হলো ভূমি কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় অন্যায়। তাই ভূমি আইন মেনে আপনারা  কাজ করবেন।
            অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মোঃ আব্দুল হাই এর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন কমিশনার ভূমি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, কচুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশ্রাফ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জি.এম শাহীন, সাবেক সভাপতি বি.এম হান্নান, চাঁদপুর সদর এ্যাসিল্যান্ড অভিষেক দাস, হাজীগঞ্জ উপজেলা এ্যাসিল্যান্ড শেখ সালেহ, ফরিদগঞ্জ ভূমি অফিস (কানুনগো) সম্পক ত্রিপুরা শাহরাস্তি উপজেলার টামটা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান মিয়া।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর