বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
চাঁদপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
জঙ্গিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়
প্রকাশ : ২৮ মার্চ, ২০১৭ ১০:২১:০৮
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর জেলার সর্বত্র মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বেশ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন দল এ দিবসটি নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করেছে। তবে মূল আয়োজন ছিলো জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিকে ঘিরে।


২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন, চাঁদপুরের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিলো : 'মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার'। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদ হোসেনের সভাপ্রধানে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন ও চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শরীফ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এমএ মতিন মিয়া। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকার উপর আলোচনা করেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপিকা মাসুদা নূর খান।


জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আবু ছালেহ মোঃ আব্দুল্লাহর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু ভঁূইয়া। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জীবন কানাই চক্রবর্তী, চাঁদপুর সদর অ্যাসিল্যান্ড অভিষেক দাস, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, রহিম বাদশা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল রুবেল, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি পীযুষ কান্তি রায় চৌধুরীসহ মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠক, অভিভাবকবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা। আলোচনা পর্বের এক পর্যায়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে এবং ২৫ মার্চ সংঘটিত গণহত্যায় পাকবাহিনী যে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে প্রথম আক্রমণ করেছিলো, তার উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করে চাঁদপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সকল পর্যায়ের শিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশের আপামর স্বাধীনতাকামী জনতা। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকাকে আজ স্বমহিমায় তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের প্রত্যাশা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের একটি উন্নত, সুন্দর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করা। এ প্রত্যয় নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সামিল হবার আহ্বান জানান তিনি।


পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকবাহিনীর প্রথম আক্রমণের শিকার হয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। স্বাধীনতার আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্যে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশকে এগিয়ে নিতে এবং প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে ইতিহাস জানার বিকল্প নেই। তিনি সত্যিকার ইতিহাস জানার জন্যে নতুন প্রজন্মের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।


চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহম্মেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাঙালি জাতি ছিলো শোষিত বঞ্চিত এবং পরাধীন। আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই শোষিত বাঙালির মুক্তির ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের সকল ধরনের দিকনির্দেশনা দিয়ে জাতিকে জাগ্রত করেছেন। মূলত এটিই ছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা। তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ন্যায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি যখন ক্ষমতায় ছিলো তারা তখন এদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতার স্বপ্ন সোনার বাংলা বিনির্মাণে যখন অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছেন, সংবিধান অনুযায়ী মানুষের মৌলিক চাহিদাকে যখন সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবারো জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে। যত বাধাই আসুক সকল ষড়যন্ত্র ও অপশক্তিকে প্রতিহত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়বই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে আমরা রুখবই।


এছাড়া অন্য সকল বক্তা জঙ্গিবাদ মুক্ত দেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর আগে ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে অঙ্গীকারে এবং এরপর মুক্তিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে সকালে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ, মার্চপাস্ট, শারীরিক কসরতমহ অন্য সকল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর