মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০
logo
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
পাকিস্তানি সেনারা অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে নিরীহ বাঙালির উপর গণহত্যা চালায়
প্রকাশ : ২৬ মার্চ, ২০১৭ ১০:১৬:২৪
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব

চাঁদপুর: ২৬ মার্চ, ২০১৭২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক গীতিনাট্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেলা কালচারাল অফিসার আবু সালেহ মোঃ আব্দুল্লাহর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল। তিনি বক্তব্যে বলেন, আমাদের ধর্মের ভাই ছিল পাকিস্তান। দ্বিজাতিক ভিত্তিতে ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানি ছিলাম। সে পাকিস্তানি সেনারা অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে নিরীহ বাঙালির উপর গণহত্যা চালায়। ২২ মার্চ পাকিস্তানি ক্যান্টনমেন্টে এই অপারেশন সার্চলাইটের নীল নকশা তৈরি করা হয়। আর হত্যাযজ্ঞের জন্য টিক্কা খানের উপর দায়িত্ব দেয়া হয়। তার নেতৃত্বেই ঘুমন্ত বাঙালি জাতির উপর  এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। তারা মেশিনগান দিয়ে ঢাকার ফার্মগেইট এলাকায় হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।  তারপর রাজারবাগ পুলিশলাইনে নির্বিচারে  গুলি বর্ষন করে পুলিশদের হত্যা করে।  এরপর  জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সাথে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান দানকারীদেরকে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, তারা দেশের বিভিন্ন জেলাতে এই গণহত্যা চালায়। তা চলতে থাকে মে মাস পর্যন্ত। রংপুরের আমিন নগর নামক বিহারী পল্লিতেও বাঙালিদেরকে হত্যা করা হয়। বর্তমান সরকার ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ঘোষণা করায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়াগুলো লেখালেখি শুরু করেছে। এই গণহত্যা ইতিহাস পৃথিবীর কোন দেশে নেই। তিনি আরো বলেন, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের ৯ মাস পালিয়েছিলাম। আজকে যারা প্রজন্ম তারা চিন্তা করতে পারবে না তার পূর্বপুরুষ রক্ত ও  ইজ্জত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে। প্রজন্মকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। তোমরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সোনার বাংলা গড়বে। মানুষের ভালোবাসার প্রথম স্থান হলো দেশের মাটি। তুমি যদি বিদেশে চাকুরী করতে যাও তাহলে বুঝবে বাংলাদেশ তোমার কাছে কেমন  ছিল। দেশপ্রেম না থাকলে কোন মানুষের মধ্যে কনফিডেন্স থাকবে না। যারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক তারা আত্মত্যাগী। যার মধ্যে দেশ প্রেম আছে সেই শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে পুলিশের একটি টহল টিম রাজারবাগ থানার দিকে যাচ্ছিল। তখন তারা দেখতে পেল বেশ কিছু পাকিস্তানিদের গাড়ি রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছে। সেই গাড়ীগুলো ছিল ট্রাকের মত। কন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের রাস্তায় পুলিশের টহল গাড়িটি ঘুরে মৌচাক রাস্তা দিয়ে রাজারবাগে যাচ্ছিল। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানিরা হামলা চালায়। তাদের প্রতিহত করতে পুলিশ অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে পাকিস্তানিরা রাজারবাগে হামলা চালিয়ে পুলিশদের হত্যা করে। সেইদিন রাজারবাগে কত পুলিশ জীবন দিয়েছিল তার হিসেব আজও  অনেকের জানা নেই। তার কারণ ছিল পাকিস্তানিরা সেইদিন রাজারবাগের অস্ত্রাগারসহ সকল অফিসিয়াল ফাইল আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল। যে কয়জন পুলিশ পালিয়ে বেঁচেছিল তারা চাকুরী ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের ৯ মাসে প্রায় ১১ হাজার পুলিশ সদস্য শহীদ হয়। বক্তারা আরো বলেন, চাঁদপুরের বড় স্টেশন মোলহেডের ২৫ মার্চের পর গণহত্যা চালানো হয়। পাকিস্তানিরা বাঙালিদের হত্যা করে মেঘনা নদীতে ফেলে দিত। পাকিস্তানিরা ২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটের নামে গণহত্যা শুরু করে। রাত ১১টায় জারি করা হয় কারফিউ। সংবাদপত্র প্রকাশনা, বাংলাদেশ  টেলিভিশন ও বেতার বন্ধ করে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকে তারা গ্রেফতার করে করাচিতে নিয়ে যায়। বিশ্বের অনেক সাংবাদিক বাংলাদেশে ছুটে আসে। অনেক সাংবাদিককে আটক করে একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের করাচিতে পাঠানো হয়। বিশ্ব মিডিয়ার সাংবাদিকরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল সেইদিন। তারা ৯ মাস যুদ্ধের অনেক তথ্য ভিডিও চিত্র ধারণ করে রেখেছিলেন। আজ সেগুলো বিভিন্ন ডকুমেন্টরী হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছে।  বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখনি। ৭১ সালে বঙ্গবন্ধু কিভাবে এদেশের মানুষকে একত্রিত করেছিলেন তা আমরা দেখেছি। তখন এদেশে শুধু আওয়ামী লীগ ছিল না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ছিল। বঙ্গবন্ধুর ডাকে এদেশকে শত্রু মুক্ত করতে তারা  সেদিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১ মাস থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে বাঙালি জাতি। চাঁদপুর শহরের ১৪ কোয়ার্টার ও বিডি হল মাঠে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ নেয়া শুরু  করে চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। পরে এরা মুক্তিযুদ্ধে  অংশ নিয়ে দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক পতিœ অধ্যাপিকা আকতারি জামান, পুলিশ সুপার সামছুন্নাহার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের  ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল  হাফিজ খান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী প্রমুখ। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু আবৃতি পরিষদের শিশু শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর