শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০
logo
বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার আয়োজনে জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে ডাঃ দীপু মনি এমপি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশু-কিশোরদেও ভালোবাসতেন
প্রকাশ : ২৬ মার্চ, ২০১৭ ১০:০৬:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
মার্চ মাস বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস : জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
চাঁদপুর:বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৪ মার্চ শুক্রবার চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রতিযোগিতা ও গণহত্যা দিবসের গণস্বাক্ষর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডাঃ দীপু মনি এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সংগঠনটির সাথে যার নাম জড়িত সেই তিনি শৈশব কৈশোরে শিশুদেরকে ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা কেন করছে তা তোমাদের জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। সেই দিন দেশ বাসীকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য তৈরি করেছিলেন। সেদিন যদি স্বাধীনতার ঘোষনা দিতেন তাহলে আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদী হয়ে যেতাম। যার জন্য তিনি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ৭ মার্চ তিনি বলেছিলেন আমি যদি হুকুম দিতে নাও পারি তোমরা শত্রুর মোকাবেলা কর। তাই বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে বাঙালি জাতি ঝাপিয়ে পড়েছিল। এই স্বাধীনতার জন্য কিশোর বয়সে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানে ২৩ বছরের মধ্যে ১৩ বছর অর্থাৎ ৪ হাজার ৬শ’ ৮২ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তোমরা যারা এখন শিশু রয়েছ তোমরা বই পড়তে ভালোবাস। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে তোমরা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর বই পড়তে হবে। তার জীবন সম্পর্কে শিখতে হবে। তাই বেশি বেশি পড়ালেখা করতে হবে। তোমরা তোমাদের পাশের মানুষকে ভালোবাসবে। তবেই সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবে। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তবে ৯ ডিসেম্বর গণহত্যা দিবস। গত ১১ মার্চ সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই এ বছর থেকে গণহত্যা দিবস পালন করা হবে। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা যে গণস্বাক্ষরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে আমি তার উদ্বোধন করছি।
সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল। এ সময় বক্তারা বলেন, মার্চ মাস বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির কালো অধ্যায় ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। এই গণহত্যা দিবসটি এই বছরই  পালন করা হচ্ছে। এটিকে আন্তর্জাতিক দিবস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজকে সোনামনিদের মাধ্যমে যে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছি সেই দেশের ইতিহাস জানতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সঠিক ইতিহাস শিক্ষা দিতে হবে। আপনার শিশুকে যদি বড় করে দেখতে চান তাহলে শিশুদেরকে আপনারা সাপোর্ট দিতে হবে। গণহত্যা দিবস কেন পালন করা হচ্ছে তা শিশুদের শিখাতে হবে। কোন শিশুর মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা না থাকে সেই শিশু ভালো মানুষ হবে না। তাই শিশুদের জাতীয় সংগীত ও ৭ মার্চের ভাষণ শিখাতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা স্কাউট কমিশনার অজয় ভৌমিক। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরন। দুইটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক পতœী অধ্যাপিকা আকতারি জামান, পুলিশ সুপার সামছুন্নাহার, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডঃ বিনয় ভূষণ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ মজিবুর রহমান ভুইয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সাাবেক সভাপতি অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম, সংগঠনের উপদেষ্টা অ্যাডঃ শহীদুল্লাহ কায়সার, ডাঃ পীযুষ কান্তি বড়–য়া, চরচেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিতু মিয়া বেপারী প্রমুখ। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাংকন, দেশাত্মবোধক, নজরুল সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, পল্লীগীতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান, একক অভিনয়, সাধারণ নৃত্য, লোক নৃত্যের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের পরিচালনায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর  মেলা চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ আমির উদ্দিন ভুইয়া মন্টু।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর