শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০
logo
ফরিদগঞ্জের শোল্লায় দুর্বৃত্তরা ৬ হাজার গাছের চারা কর্তন করেছে
প্রকাশ : ২৪ মার্চ, ২০১৭ ১২:২৯:৪৩
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা গ্রামে শোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের পিছনে স্থানীয়দের ৮১ শতাংশ বনায়নের প্রায় ৬হাজার মেহগুনি গাছ কর্তন করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকাল ১১টায় প্রায় শতাধিক লোক একত্রিত হয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে এসব গাছ কর্তন করে। এ সময় বনায়নের রক্ষনা-বেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আবু তাহের ওরফে মনু মিজি (৬৫) কে মারধর করে গুরুতর আহত করেন তারা। তিনি বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
          ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বনায়ন কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানাগেছে, শোল্লা গ্রামের মৃত এমদাদুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মো. নাছিরুল ইসলাম চৌধুরী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপর পওর বিভাগ থেকে  ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল ৮১ শতাংশ ভূমি  ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বনায়নের শর্তে লীজ গ্রহন করে। লীজের শর্তানুযায়ী স্থানীয় ভূমিহীন ও বনায়নে আগ্রহী ব্যাক্তিদের নিয়ে ১৫ সদস্য কমিটি করে বনায়ন করেন। কিন্তু এক সময় তিনি বনায়নের উদ্দেশ্যে পরিবর্তন করে ওই ভূমি বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য মতামত প্রকাশ করেন। এতে করে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন।
          কমিটির সদস্য শাকিল চৌধুরী জানান, সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের লীজ গ্রহিতা ও বনায়ন কমিটির সভাপতি নাছিরুল ইসলাম চৌধুরী এলোমেলো কথা বলার কারণে এবং কমিটির সভায় উপস্থিত না থাকায় আমরা অন্যান্য সদস্যরা সভা করে তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি প্রদান করি। নিয়মানুযায়ী নতুন কমিটির রেজুলেশন কপি পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয়ে জমা দিয়ে রিসিভ কপি গ্রহন করি। এরপরই তিনি ষড়যন্ত্র করে আমাদের লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা মূল্যবান এসব গাছ বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী, কয়েকজন শিক্ষক ও বহিরাগত শতাধিক লোক নিয়ে কর্তন করেন। আমাদের কমিটির নতুন সভাপতি রহিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসীন চৌধুরীসহ কেউ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না। কমিটির ১৫ সদস্যদের মধ্যে আহত মনু মিজিই ছিলেন।
          স্থানীয় বাসিন্দা বাসিন্দা শাহজাহান, জয়নাল ও মহসিন বেপারী জানান, সকাল ১০টার পর হঠাৎ করে বহিরাগত কিছু লোক ও স্কুলের ছাত্ররা এসে দা দিয়ে গাছগুলো প্রায় ১ঘন্টা সময় নিয়ে কর্তন করেন। এসব গাছের কিছু অংশ তারা বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় নিয়ে রাখেন এবং পরপরই বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেন।
          বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুর রহমান জানান, বনায়ন কমিটিতে নাছিরুল ইসলাম চৌধুরীর না থাকলেও তার নামেই লীজ। তার নির্দেশেই আমরা গাছ কর্তন করেছি। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলা-ধুলার করার জন্য লীজকৃত ভূমি পরিস্কার করার জন্য বলেছেন। তিনি আমাদের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এই বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেই গাছ কর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
          এই বিষয়ে নাছিরুল ইসলাম চৌধুরীর বক্তব্যের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
          ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন গাছ কর্তন করা হলে, তারাই নিয়ম মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তারপরেও গাছ কর্তনের জন্য কেউ আবেদন করলে, আমরা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বিষয়টি দেখার জন্য বলি। শোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের কোন ব্যক্তি আমাদের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেননি।
          পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, গাছ কর্তনের বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমাদের কাছ থেকে গাছ কাটার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। এই বিষয়ে জানার জন্য সেকশান অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা গাছ কর্তন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করা হবে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর