শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
চাঁদপুরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
পরীক্ষার কাজে যারা জড়িত তাদেরকে সরকারের দেয়া সকল নীতিমালা মানতে হবে
প্রকাশ : ১৫ মার্চ, ২০১৭ ১১:১১:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর:আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এইচএসসি, আলিম, বিএম ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা। এ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৪ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল। শুরুতেই পরীক্ষার কার্যবিবরণী ও নীতিমালা পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব-শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আব্দুল হাই।
            সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, পরীক্ষার কাজে যারা জড়িত তাদের সরকারের দেয়া সকল নীতিমালা মেনে কাজ করতে হবে। সরকারের বেধে দেয়া নীতিমালার বাইরে কোন শিক্ষক কাজ করলে শিক্ষকসহ ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবছর প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্টরাই প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত থাকে। কিন্তু এখানে আমাদের কিছুই করার থাকে না, কারণ প্রশ্নের বা-েল বহন করতে এবং খুলতে কাউকে না কাউকে তো আমাদের বিশ্বাস করতে হয়। বিশ্বাসের মাধ্যমেই আমাদের সভ্যতা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ যদি নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কাজ করে তবে আমরা কি করতে পারি। প্রযুক্তির সুবিধা নিয়েই কেউ কেউ প্রশ্ন ফাঁসের মতো জঘন্য কাজ করে যাচ্ছে। তবে এটি বন্ধ করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
            তিনি বলেন, আমরা সবাই নীতি কথা বলি অথচ সৎ-সাহসী লোকের সংখ্যা খুবই কম। তাই আপাতত নীতি আদর্শের কথা কম বলে নকলমুক্ত পরীক্ষার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। শিক্ষার মানোন্নয়নে অনেক কিছুর প্রয়োজন রয়েছে, এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নীতিকথা বললেই হবে না। আমাদের দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের দীর্ঘ তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায়না, এখানে মানোন্নত শিক্ষা তো দূরে থাক, এর ধারে কাছেও আমরা নেই।
            পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সকল দায়ভার স্ব-স্ব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিতে হবে। এবার কেন্দ্রগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে না, আমরা দেখতে চাই শিক্ষকরা কি ভূমিকা রাখে। তবে যে কোনো মুহূর্তে ম্যাজিস্ট্রেট হলে প্রবেশ করবে। সে ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষকদের নীতিনৈতিকতা বিরোধী কাজ করার প্রমাণ পেলে শিক্ষকসহ ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।
            অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ.এস.এম দেলওয়ার হোসেন, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এমএ মতিন মিয়া, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, মতলব দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সালেহ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম সাইফুল হক, ক্রাইম ইন্সপেক্টর মামুনুর রশীদ, জেলা ক্যাবের সভাপতি জীবন কানাই চক্রবর্তী, ছেঙ্গারচর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস.এম আবুল বাসার, আহম্মদীয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধিগণ। এসময় জেলা বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষগণ এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
            সভার সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ হচ্ছে, এবছর প্রতিটি কেন্দ্রের আউট সাউ- সিসি ক্যামেরার নিশ্চিত করতে হবে। আগামী বছর থেকে কেন্দ্রের ভেতরে এবং পরীক্ষা কক্ষে সিসি ক্যামেরা লাগাতে পারবে না তাদের কেন্দ্র বাতিল করে দেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করবেন। বয়স্ক শিক্ষকদেরকে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব দেয়া যাবে না। যে সকল কেন্দ্রে কোন শিক্ষকের ছেলে/মেয়ে/পোষ্য/আত্মীয় পরীক্ষার্থী রয়েছে, তার কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের কক্ষ পরির্দশন করতে পারবেন না। পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারী ও বলবৎ নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষা চলাকালে ঝড়-বৃষ্টি ও লোডশেডিংয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পূর্ব সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চার্জার/হেজাক লাইট/মোমবাতী ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র প্রবেশের সময় দেহ তল্লাশী করার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেন্দ্রস্থিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের পরিবর্তে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিদিষ্ট করে আগেই দায়িত্ব প্রদান করবেন। পরীক্ষার কেন্দ্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতিটি কক্ষের দরজায় কক্ষ নং সিট প্লান অনুযায়ী রোল নং বড় ও স্পষ্ট অক্ষরে লিখে রাখতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রর টয়লেট পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। টয়লেটে কোন বই-খাতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন। কক্ষ পরিদর্শকগণকে উদ্দেশ্যমূলক আচরণ বা ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে। কক্ষ পরিদর্শকগণ নিজ কক্ষের বাইরে ঘুরাঘুরি করতে পারবেন না। কক্ষ পরির্দশক হিসেবে দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীর বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন আশপাশে কোন ফটোকপি মেশিন চালু রাখা যাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির কোন সদস্য কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়/শিক্ষাবোর্ড/জেলা প্রশাসক/উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি ব্যতিত অন্য কোন ব্যক্তি কোন অজুহাতে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। নকল প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কবে।
            উল্লেখ্য, এবছর ৩টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে ৩৩টি, আলিমে ১০টি, বিএম ৬টি ও ভোকেশনাল ১টি মোট ৫০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবছর জেলায় সর্বমোট ১৮ হাজার ৬শ’ ৩৮ জন। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ হাজার ৫৮ জন, এএসএসসি (ভোকেশনাল) ৪৮, আলিম ২হাজার ৭শ’ ৩৩ ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা (বি.এম) ১হাজার ৭শ’ ৯৯জন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর