শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
logo
হঠাৎ বৃষ্টি : কচুয়ায় পচে গেছে কয়েক শ' একর জমির আলু
প্রকাশ : ১১ মার্চ, ২০১৭ ১০:০৪:১৪
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: গত ক'দিনের বৃষ্টিতে কচুয়া উপজেলায় নষ্ট হয়ে গেছে কয়েক শ' একর জমির আলু। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে শত শত কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কৃষকদের সাথে দেখা করলেও সান্ত্বনা ছাড়া কোনো প্রতিশ্রুতি তারা দিতে পারছেন না। জেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্রুত আলু জমি থেকে তুলে আলোছায়া স্থানে রেখে সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।


চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ১শ' ৯০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধুমাত্র কচুয়া উপজেলায়ই ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭শ' ৬০ মেঃ টন। অসময়ের বৃষ্টি এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। দেখা দিতে পারে বীজ আলু সঙ্কট। কারণ, কচুয়া উপজেলার মাত্র ত্রিশ ভাগ আলু উত্তোলন করা সম্ভব হলেও বাকি আলু বৃষ্টির পানিতে পচে গেছে।


কচুয়া উপজেলার বড় হায়াতপুর, বাতাবাড়িয়া, রাজাপুর, তুলাতলী, সাহেদাপুর, চাঁদপুর, ডুমুরিয়া, কালচোঁসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত একর জমির আলু এখনো তোলা হয়নি। খেতে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় মাটির নিচে সব আলু পচে গেছে। কেউ কেউ আলু তোলার চেষ্টা করলেও শ্রমিক খরচ উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রাজাপুর গ্রামের সুশান্ত সরকার এ বছর ঋণ করে ত্রিশ একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা। বাম্পার ফলনে খরচ পুষিয়ে অনেক লাভের আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। ২/১ দিনের মধ্যে আলু তোলার সকল আয়োজনও করা হয়েছিলো। কিন্তু বিধিবাম! গত ৫ মার্চ দিবাগত রাতের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় সব জমি। পরে দু'দিনে জমির পানি কিছুটা শুকালেও গত ৮ মার্চের দ্বিতীয় দফার বৃষ্টিতে আবার পানির নিচে চলে যায় আলু ক্ষেত। তার উপর 'মড়ার উপর খাড়ার ঘা' ছিলো গতকাল রাতের বৃষ্টি। গত পাঁচ দিনে নষ্ট হয়ে যায় সব আলু। শুধু সুশান্ত নন, ওই এলাকার সুনীল সরকার, অনুকূল সরকার, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ শত শত কৃষকের বক্তব্যও একই রকম। তাদের দাবি, এ ক্ষতি কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে না। যদি সরকারি সহায়তা দেয়া হয় তাহলে হয়ত সম্ভব হবে।


৯নং কড়ইয়া ইউপির ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মানিক মিয়া জানান, কৃষকরা আমার কাছে এসে কান্নাকাটি করছে। আমি নিরুপায়। তবুও আমি আমাদের এমপি মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করেছি। সরকারি সহায়তা দিতে তিনি কৃষকদের পক্ষে দাবি জানান।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁদপুরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আলী আহম্মদ জানান, কিছু এলাকার আলু এখনো তোলা হয়নি। হঠাৎ বৃষ্টিতে ফসলি জমিতে পানি আটকে গেছে। আমি দ্রুত আলু উত্তোলনের পরামর্শ দিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর