রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও খাদ্য সহায়তা পায়নি চাঁদপুরের জেলেরা
প্রকাশ : ১০ মার্চ, ২০১৭ ১০:৩০:৩২
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: মার্চ এপ্রিল দু’ মাস চাঁদপুরের পদ¥া মেঘনাসহ দেশের পাঁচটি অঞ্চলের নদীতে সবধরণের মাছ ধরা নিষেধ। এ কারণে জেলেরা জাল নৌকা সব নদী পাড়ে তুলে রেখেছেন।  অথচ কর্মসূচি আরম্ভের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সরকারি খাদ্য সহায়তা পায়নি চাঁদপুরের ৪১ হাজার ১শ’ ৮৯জন জেলে। বেকার জেলে পরিবারগুলোর একপ্রকার মানবেতর জীবন-যাপন করছে। যথাসময়ে খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ, বাড়ছে ঋণ। কর্মসূচির আগে জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিলেও মন্ত্রণালয় থেকে এখনো চাল বরাদ্দ না পাওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। জানাগেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান সদস্যদের বাড়িতে আসা যাওয়া বেড়ে গেছে শুধু সরকারি সহায়তা পাবার প্রত্যাশায়।
            চাঁদপুর হরিণা, বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর ও দোকানঘর অনেক জেলে আক্ষেপ করে বলেন, আমরা সরকারে নির্দেশ মান্য করছি। অথচ সরকার আমাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে না। শুধুমাত্র চাল দিয়েতো আর সংসার চলে না, এও যদি না পাই তাহলে নদীতে না গিয়ে আমাদের উপায়ও থাকে না।
            কর্মসূচির ১৫দিন আগে থেকেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জেলেদের খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অন্যান্য বছর কর্মসূচির শুরুতেই চাল দেয়ার উদ্যোগ নেয়ায় জেলেরা দ্রুত খাদ্য সহায়তা পেয়েছে। তাই দ্রুত ভিজিএফ-এর চাল জেলেদের হাতে পৌঁছে দেয়ার দাবি জানান স্থানীয় চেয়ারম্যানরাও।
            চাঁদপুর সদর উপজেলা ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যন খান জাহান আলী কালু ও হাইমচর উপজেলার ৪নং নীলকমল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরদার জানান, জেলেদেরকে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নদী না যেতে উদ্বুদ্ধ করেছি। এখন জেলেরা আমাদের বাড়ি ছাড়ছে না। আমার এক প্রকার বিবৃতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছি। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেন দ্রুত চালা বরাদ্দ দেয়।
            খাদ্য সহায়তা এখনো জেলেদের হাতে পৌঁছানে সম্ভব হয়নি তাই দুঃখ প্রকাশ করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানালেন, নির্ধারিত সময়ে চাল দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করছি। খাদ্য সহায়তা আসতে একটু দেরি হচ্ছে।
            মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (রিজার্ভ) এবিএম জাহিদ হাবীব জানান, চাল বরাদ্দ পেতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে। তবে আশা রাখছি আগামী সপ্তায় আমার এ খাদ্য সহায়তা পেয়ে যাবো এবং জেলেদের হাতে পৌঁছে দেতে পারবো। ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ১শ’ কিলোমিটার এলাকায়সহ দেশের ৫টি অঞ্চলে এ কর্মসূচি চলে আসছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর