শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
চাঁদপুরে মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধকল্পে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ
চোখের সামনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আপনারা তা প্রতিরোধ করবেন : অ্যাডিশনাল আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী
প্রকাশ : ১০ মার্চ, ২০১৭ ১০:২৬:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধকল্পে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ-২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ৭নং তরপুরচ-ী ইউনিয়নের জিএম ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি স্পেশাল ব্রাঞ্চ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটওয়ারী বিপিএম (বার)।
            প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চাঁদপুর শহরের প্রত্যেকটি শ্রেণি পেশার মানুষ এখানে এসেছেন তাদেরকে আমার পক্ষ থেেেক আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বেশ কয়েক বছর ধরে সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যেখানে পুলিশ আছে সেখানে কেনো কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর কারণ হলো ঃ চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পুলিশের সংখ্যা মাত্র ৫২ জন। কিন্তু এই এলাকার সাড়ে ৪ লাখ জনগণের জন্য এই পুলিশের ব্যবস্থা। চাঁদপুর সদরে ৮ হাজার ৬শ’ ৫৩ জন জনগণের জন্য মাত্র ১ জন পুলিশ। আর এই ১ জন পুলিশের জন্য ৩শ’ ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা। এতে করে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। যার জন্য এ কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্যেই কমিউনিটি পুলিশিং। যে কোনো মানুষ ইউনিফর্ম পরে আইনশৃঙ্খলার কাজ করতে পারে। চাঁদপুর সদরের ৫২ জন পুলিশেরর সাথে আপনারা যদি পুলিশ হন তাহলে এখানে কোন অন্যায় হতে পারে না। আপনারা এবং আমরা উভয়েই পার্টনার হয়ে পুলিশী ভূমিকা পালন করতে পারি। তিনি আরো বলেন, অপরাধীরা কখনোই জন্ম থেকে হয় না। তারা সমাজের পারিপার্শ্বিকভাবে অপরাধী হয়। আমাদের বিপদগামী সন্তানদের ফিরিয়ে আনতে পুলিশি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। একজন সন্তান অপরাধী হলে সর্বপ্রথম তার বাবা মা জানে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থা চালু করা। এই উদ্দেশ্যকে সফল করতে পুলিশ ও জনতাকে এক হতে হবে। আইন আপনাদের দায়িত্ব দিয়েছে কেউ যদি আপনার সামনে অপরাধ করে তবে তাকে বাধা দিয়ে এবং পুলিশকে অবহিত করা। ৮০’র দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু হয়। বাংলাদেশে আমরা ৯০ দশকে এই ব্যবস্থা চালু করি তখন থেকে অপরাধ অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি আরো বলেন, কোন সন্তান যদি মাদকাসক্ত হয় তার বাবা মা প্রথমেই জানে। ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের তরুণীর পরিবার তা জানে। এলাকাবাসী জানে অনেক পরে। দেশ যেন শান্তিতে থাকে এবং উন্নতির দিকে এগিয়ে যায় সেজন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। চোখের সামনে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে আপনারা তা প্রতিরোধ করবেন। চাঁদপুরকে মাদক নির্মূল করতে আপনারা আমাদেরকে সহায়তা করবেন। পুলিশ সুপার অথবা চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে গোপনে তথ্য দিয়ে অবগত করবেন। আমরা এ দেশকে সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত করতে পুলিশের একা সম্ভব নয়। আপনাদের সহযোগিতা পেলে এসব মুক্ত করে বাংলাদেশকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার একটি রোল মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদেরকে হিমালয় ও এভারেস্ট জয় করতে হবে। নারী সমাজ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়েছে। আপনারা ও আমরা সবাই মিলে সামাজিক অবক্ষয় মাদক নিমর্ূূলে একত্রিত হয়ে কাজ করি। আমাদের সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মাদকের কারণে। অনেক বাবা মা আমাদেরকে বলেন, আমার সন্তানকে কয়েক বছরের জন্য জেলে পাঠিয়ে দিন। তার কারণ হলো ওই সন্তানটি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। পুরো চাঁদপুরকে আমরা মাদক মুক্ত করব। চাঁদপুর থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও বাল্যবিবাহ মুক্ত দেখতে চাই। সেজন্য প্রয়োজন আপনাদের সকলের সহায়তা।
            কমিউনিটি পুলিশিং ইন্টিলিজেন্স (আইসিপিআই) মোঃ হারুনুর রশিদ ও সদর উপজেলা কমিটিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকের যৌথ পরিচালনায় কমিউনিটি পুলিশিং চাঁদপুরের প্রধান উপদেষ্টা ও পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সুব্রত হাওলাদার, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালি উল্ল্যাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী শাহাদাত, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী, বাগাদী ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন গাজী বিল্লাল, তরপুরচ-ী ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি সালেহ আহম্মদ জিন্নাহ।
            অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, জিএম ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নুরুল আমিন খন্দকার, সদর উপজেলা ইমাম সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, জেলা কাজী সমিতির সভাপতি ফজলুল করিম, জিএম ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডঃ মেহেদী হাসান জসিম, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তানিয়া আক্তার। এর আগে পবিত্র কোরাআন থেকে তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ এবং জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। পরে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের থিম সং পরিবেশন করেন পুনাকের শিল্পীরা। az

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর