সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
চাঁদপুর নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের মাছ আটক বাণিজ্য ব্যবসায়ীদের বৈধ মাছ অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১১:২০:২৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে জাটকা আটকের পাশাপাশি ইলিশ আটক করে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে। নৌ-ফাঁড়ির পুলিশ রাতে লঞ্চে অভিযানকালে আটককৃত ইলিশের একটি চালান গোপনে বিক্রি করে দেয়ার পর সেই মাছ আবার উদ্ধার হয়ে তা ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। আর এটি হয়েছে গতকাল শনিবার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটে। পরবর্তীতে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী গাজীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মাছ ঘাটের সাধারণ মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা জানান, জাটকা আটকের নাম করে নৌ-পুলিশ ব্যবসায়ীদের বৈধ মাছ লঞ্চ থেকে নামিয়ে এনে অন্যত্র বিক্রি করেছে। ব্যবসায়ীরা আরো জানান, এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় লোক এবং তাদের সোর্সের মাধ্যমে আটক করা মাছের বড় একটা অংশ চাঁদপুর মাছ ঘাটের একজন চিহ্নিত ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করে দেয়। এতে মাছ ঘাটের অতীত সুনাম যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি দক্ষিণাঞ্চল থেকে সিজনে ইলিশ চাঁদপুর মাছ ঘাটে না আসার আশঙ্কা করছেন অনেকে।


সরজমিনে গতকাল বিকেলে চাঁদপুর মাছ ঘাটে গিয়ে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মেঘনা নদীতে চাঁদপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহলদল অভিযান চালিয়ে ঢাকাগামী দক্ষিণ অঞ্চলের একটি লঞ্চ থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ জব্দ করে নামিয়ে আনে। পাশাপাশি তারা জাটকাও আটক করে। সেখানে ৩/৪ জন বেপারীর চালান করা কয়েক লাখ টাকার ইলিশ মাছ ছিলো। নৌ-পুলিশের ওই দলটি এ মাছগুলোকে জাটকা বলে আটক করে। কিন্তু বেপারীদের বক্তব্য হচ্ছে- জাটকা থাকলে তা প্রশাসন ধরবে। কিন্তু আমাদের বৈধ মাছ তথা ইলিশ কেন নিবে? বেপারীরা অভিযোগ করেন, আটক করা সেই মাছের মধ্যে প্রায় ৩০/৪০ মণ পরিমাণের ৫টি ঝুঁড়ি ভর্তি মাছ সোর্সের মাধ্যমে নদীতেই বিক্রি করে দেয় নৌ-পুলিশের ওই দলটি। গতকাল শনিবার সকালে সেই মাছ রাজরাজেশ্বর চরে গিয়ে যাদের মাছ সেই বেপারীরা শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে সেই মাছ চাঁদপুর মাছ ঘাটে আনা হলে ঘাটের আড়ৎদার ও অন্যান্য ব্যবসায়ীর মধ্যে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব, তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ দেয়া দেয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি হট্টগোলে রূপ নেয়। পরে সেই মাছ বাবুল হাজী বেপারীর মাছ হিসেবে তার আড়তে এবং তার বিপরীতে আরেকটি আড়তে বিক্রি করা হয়।


এ ব্যাপারে নৌ-পুলিশের এসপি সুব্রত হালদার জানান, তিনি অসুস্থজনিত কারণে চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন। মাছ আটকের বিষয়টি সদর নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ বলতে পারবে।


চাঁদপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি শহিদুল ইসলামের সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, মাছ ঘাটে কোন্ মাছ, কিসের মাছ বিক্রি হয়েছে আমি তা জানি না। গত রাতে অভিযান পরিচালনা আমরা করেছি। আটককৃত ২৯ মণ জাটকা জব্দ তালিকা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণ চন্দ্র পালকে বুঝিয়ে দিয়েছি। আমরা মাছ বিক্রি করবো কেনো? কারো কাছে মাছ বিক্রি করি নাই। তিনি আরো জানান, সরকারি আদেশ এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারো আর্থিক ক্ষতি হলে তারা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই পারে। অন্যায় কাজতো বৈধ হতে পারে না।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর