সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা- জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:৩৪:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+
বিদেশীরাও আজ একযোগে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গান গাইছে-
চাঁদপুর: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোঃ মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেলা কালচারাল আবু সালেহ মোঃ আবদুল্লার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর ম-ল। তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি এখন কালচারে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই এই সভা থেকে শহীদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। ভাষা আন্দোলনের মূল নায়করা ছিলেন ভাষা সৈনিক। আর এই মুখ্য ঘুমিয়ে ছিলেন ছাত্রলীগ। সেই সময় মুসলিমলীগের যে কমিটি ছিলো তা আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল ঢাকা কেন্দ্রিক। যার জন্য প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব তখন পড়েনি। আর এই আন্দোলনে তৎকালীন কুমিল্লার দু’জন ব্যক্তি ছাত্রলীগে থেকে মুখ্য ভুমিকা পালন করেছে। এরা হলেন, কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আর চাঁদপুরের এম ওয়াদুদ। ভাষার দাবিতে আন্দোলনে গিয়ে যারা জীবন দিয়েছে তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, সচিবালয় কর্মচারী ও শিশু। জাতির পিতা এই ভাষা আন্দোলনের শুরু করেছেন। তখন তিনি পাকিস্তানিদের বন্দিদশায় কারাগারে ছিলেন। আজ বাঙালি জাতির বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তা সম্ভব হয়েছে জাতির পিতার উত্তরসুরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। বিদেশীরাও আজ ভাঙ্গা গলায় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো গান গাইছে। এর চেয়ে গর্বের আর কি হতে পারে? ১৯৯৯ সালে বিশ্বের ১৮৮টি দেশের সমর্থনে শহীদ দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
    বিশেষ অতিথি বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, চাঁদপুরে যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে আমি তাদেরকেও স্মরণ করছি। ভাষা কোন জাত মানে না। পাকিস্তানিরা সেদিন বাঙালি জাতির মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তার জন্য রাজপথে এসে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও গ্রামের যুবক আপন চাচা-ভাতিজা, কামাল ও মুজিব জীবন দিয়েছে। তাদের লাশ নিয়ে অজয় কুমার ভৌমিকের নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মিছিল করেছিল। আর সেই দুই যুবকের কবরটি আমাদের বাড়ির পাশে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি দেশ তাদের ভাষাকে স্বিকৃতি দিয়ে থাকে। যেমন, চায়না কোন পণ্য কিনতে গেলে ওই পণ্যের গায়ে তাদের নিজস্ব ভাষা ও ইংরেজিতে লেখা থাকে। তাই আসুন আমরা আমাদের মায়ের ভাষাকে তেমনিভাবে প্রতিষ্ঠিত করি।
    জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে আলিগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে পাকিস্তানিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তারপর ড. মোঃ শহীদ উল্লাহ ভাষার আন্দোলন শুরু করেন। আমার মায়ের ভাষা বাংলাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা যেন, চেষ্টা করি। রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হয়। ১৯৫২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে এদেশের ছাত্রজনতা পাকিস্তানিদের ১৪৪ ধারা কারফিউ ভঙ্গ করে রাজ পথে নেমে আসে। আর তখনই পাকিস্তানী সৈন্যগুলিতে রফিক, শফিক, সালাম ও জব্বরসহ আরো অনেকে জীবন বিলিয়ে দেয়। তাদের আত্মদানে আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে পেয়েছি।
    বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশ্রাফুজ্জামান, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতিও চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক বাচ্চু মিয়াজী, বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, প্রফেসর মনোহর আলী, জীবন কানাই চক্রবর্তী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি কাজী শাহদাত, বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতাউর রহমান পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক পারভেজ করিম বাবু প্রমুখ। সভার শুরুতেই ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। আলোচনা সভা শেষে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর ব্যবস্থাপনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর