রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯
logo
এবার স্বপরিবারে শিশু পরিবারে আলহাজ্ব ওচমান পাটওয়ারী
শিশুদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ ॥ পানির লাইন সংস্কার ॥ আনন্দে আত্মহারা শিশুরা
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:৩২:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী আবারো ছুটে এসেছেন চাঁদপুর সরকারি শিশুপরিবারে (এতিমখানা)। এবার আর একা নয়। স্ত্রী, ছেলে-মেয়েকে সঙ্গী করে শিশু পরিবারে এলেন তাদের আত্মস্বীকৃত ‘বাবা’। শিশুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন তাদের ‘মা আর ভাই-বোন’কে। শিশুদের হাতে তুলে দিলেন খাবার প্লেট, গ্লাস, জগ আর কম্বল। সবগুলোই অনেক দামে কেনা।
একই সাথে শিশুদের বিশুদ্ধ খাবার পানি যোগান নিশ্চিত করতে ৮টি পিওরইট পানির ফিল্টার, রান্নাবান্নার প্রয়োজনীয় হাড়ি, পাতিল, ডেক, বল, বাটি, দা, চামচ তুলে দেন শিশুপরিবারের সুপার জুলেখা আক্তারের হাতে। সাথে দেন ওয়াশরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এসব’ই করা হয়েছে চাঁদপুর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে। এসবের পাশাপাশি শিশুদের বসবাসের দু’টি ভবনে পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে সংস্কার কাজও চলছে গত কয়েকদিন ধরে। এতদিন পানির অভাবে চরম কষ্ট পাচ্ছিল এখানকার শতাধিক শিশু।
চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের একদিন আগে ১৮ জানুয়ারি হঠাৎ চাঁদপুর শিশুপরিবার পরিদর্শনে যান নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী। সেদিন অসহায় শিশুদের দূরাবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি। শিশুদের সাথে একান্ত আলাপ করে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন জেলার এই জনপ্রতিনিধি। এসব অবহেলিত ও বঞ্চিত শিশুদের ‘বাবা’ হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দেন।
এরপর গত ২৩ জানুয়ারি আবার শিশুপরিবারে ছুটে যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী। সেদিন শিশুদের তেল, সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ আর চকলেট উপহার দেন। যথারীতি বলে আসেন, আমি আবার আসবো। কথা রেখে চলেছেন জেলার এই বহুল পরিচিত রাজনীতিবিদ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আবারো শিশুপরিবারে তিনি।
গতকাল শিশুপরিবারে প্রবেশের সময় আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারীর সাথে ছিলেন তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম ঊর্মি, একমাত্র ছেলে জান্নাতুল বাকী উপম ও একমাত্র মেয়ে উম্মে হানী উপা। সাথে শিশুদের নিত্যপ্রয়োজনীয় একট্রাক পণ্যসামগ্রী। খবর পেয়ে চাঁদপুর থেকে একঝাঁক সংবাদকর্মীও সেখানে ছুটে যান। এদিন প্রায় দুই ঘন্টা শিশুপরিবারের শিশুদের সাথে একান্তে সময় কাটান ওচমান পরিবার। তাদের সাথে গল্প-আড্ডায় মাতে পুরো পরিবারটি। শিশুদের হাতে হাতে উপহার ও চকলেট তুলে দেন তারা। পানি বিশুদ্ধকরণ, রান্না ও ওয়াশরুম পরিচ্ছন্ন রাখার সামগ্রী তুলে দেন শিশুপরিবারের সুপার (চলতি দায়িত্ব) জুলেখা আক্তারের হাতে।
একসাথে এতগুলো পণ্য এবং একের পর এক সামগ্রী পেয়ে শিশু পরিবারে গতকালের শেষ বিকেলটা আনন্দনগরীতে পরিণত হয়েছিল। ঈদ ছাড়া এমন আনন্দের উপলক্ষে খুব কম জুটে এসব শিশুর ভাগ্যে। এদের’ই একজন আকলিমা আক্তার (১১) বলেন, বাবা আমাদের এত্তকিছু দিছে! খুব ভালো লাগছে। আমি অনেক খুশি।
শিশু পরিবারের সুপার জুলেখা আক্তার বলেন, এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে শিশুরা খুব আনন্দিত। তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এসব বঞ্চিত শিশুদের সুন্দর আগামীর পথ তৈরি করতে।
স্বামীর এমন মানবহিতৈষী কাজে দারুণ খুশি উম্মে কুলসুম ঊর্মি। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে যেয়ে তিনি বলেন, এতদিন আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী এসব শিশুর পাশে ছিলেন। এখন থেকে আমাদের পুরো পরিবার তাদের পাশে থাকবো। একইভাবে উচ্ছ্বসিত তাদের দু’ সন্তান উপম ও উপা। সমস্বরে তাদের দৃঢ় উচ্চারণ, ‘আব্বুর এই মানবতাবাদী কাজের জন্য আমরা গর্বিত’।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী বলেন, আমি যতদিন বেঁচে আছি শিশু পরিবারের শিশুদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি এসব শিশুর জন্য সরকারিভাবে যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা যথাযথভাবে শিশুদের হাতে পৌঁছা নিশ্চিত করবো। এদের প্রাপ্য বরাদ্দ অন্য কাউকে লুটপাট করতে দেয়া হবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা চাই। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এসব বঞ্চিত ও অবহেলিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর