মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
logo
অবশেষে হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে দল থেকে বহিষ্কার
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:২২:৪৩
প্রিন্টঅ-অ+
হাইমচর উপজেলার নীলকমল ওচমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের তৈরি করা মানবসেতুর উপর জুতা পরে তাদের পিঠ দিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারীর হেঁটে যাওয়ার ঘটনায় তাকে অবশেষে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়িতে তুলকাই সেতুর উদ্বোধন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের উক্ত নূর হোসেন পাটওয়ারীকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের কথা জানান। একই সঙ্গে কেনো তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে বলেও জানান।


জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। কেন্দ্রীয়ভাবে দলের সাধারণ সম্পাদক সাহেব সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, এ রকম কোনো তথ্য আমার জানা নেই।


এ ঘটনায় গঠিত ১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির কর্মকর্তা চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দা সারোয়ার জাহান ২য় দিনের মতো তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। শুক্রবার সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে তিনি এ তদন্ত চালান। এর আগে বৃহস্পতিবার চাঁদপুর এসে বিকেলে তিনি হাইমচরের নীলকমল ওচমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যান এবং শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাক্ষাৎকার নেন। এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল ও পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দা সারোয়ার জাহান জানান, এ পর্যন্ত ৫২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। বিভাগীয় কমিশনার তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। জানা যায়, তদন্ত কমিটির ডাকে না এসে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গতকাল চিঠি পাঠিয়ে এই ঘটনার জন্য ভুল স্বীকার করে তদন্ত কমিটির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন নুর হোসেন পাটওয়ারী।


চাঁদপুর-হাইমচর নির্বাচনী এলাকায় এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় এমপি ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যায়িত করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম, বৃহস্পতিবার দেশে এসে আমার নির্বাচনী এলাকায় এ ঘটনার বিষয়টি জানতে পারি। জনমনের ক্ষোভের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ওই জনপ্রতিনিধি পুরো ঘটনাটির জন্যে দুঃখ প্রকাশ করে সকলের কাছে ক্ষমা চাইবেন বলে আশা করি। তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়ে এ ধরনের একটি ইভেন্ট যে প্রচলিত আছে তা আমার জানা ছিলো না। জানা থাকলে আমি অবশ্যই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের ইভেন্ট বাতিল করতে বলতাম। সেদিনের এ ঘটনায় বহুলভাবে সমালোচিত হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে পুরো বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত লজ্জিত ও দুঃখ প্রকাশ করে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।


বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে পরোক্ষ শিশু নির্যাতনের এ বিষয়টি নিয়ে গত ক'দিন ধরে পুরো হাইমচর উপজেলায় অস্থিতিশীল পরিবেশ চলছে। হাইমচর থানায় বুধবার রাতে আব্দুল কাদের গাজী নামে এক অভিভাবক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী ও ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামী করে শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।


বৃহস্পতিবার হাইমচরে আ'লীগ অফিসে হামলার ঘটনায় শুক্রবার সকালে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল মাস্টারসহ আরো ২০জন কে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাউসার মিয়াজী এ মামলাটি করেন। এ দুটি মামলার বিষয়ে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, "শিশু নির্যাতন আইনে পাঁচজনের বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছে সে মামলায় আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে। আসামীরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। আর আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।"


হাইমচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি করা হয়েছে তা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে সাজানো নাটক হিসেবে মনে করছি। ওই দিন আমাদের কোনো লোক আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করেনি। নূর হোসেন পাটওয়ারীর লোকজনই হামলার ঘটনা ঘটিয়ে অন্যের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশই তার সাক্ষী।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর