শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ডাঃ দীপু মনি এমপি
ঈশানবালায় যে ঠিকাদার কাজ করেছে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ১১:০৭:০১
প্রিন্টঅ-অ+
রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার জন্যে যতোটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন ততোটাই হবো : জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
চাঁদপুর:চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ডাঃ দীপু মনি এমপি চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকা-ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নদী ভাঙ্গন রোধে প্রকল্প কাজে যথাযথ তদারকি না করায় তিনি পাউবোর সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিভাগের গাফিলতি তিনি বরদাশ্ত করবেন না বলে হুঁশিয়ার করে দেন। গতকাল ৮ জানুয়ারি রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি। সভার শুরুতে গত সভার কার্যবিবরণী পাঠ, সিদ্ধান্ত এবং এর অগ্রগতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আব্দুল হাই। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল এবং বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে থাকা; মেঘনার পাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সড়কগুলোতে ট্রাক্টর চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধকরণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, শহরের স্কুল-কলেজ কেন্দ্রিক রাস্তার মোড়ে মোড়ে উঠতি বয়সের বখাটে যুবকদের বিষয়ে পুলিশী টহল বাড়ানো এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। সভায় বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, নৌ-পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সভাপতি শরীফ চৌধুরী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান মোঃ সফিকুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান, হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী প্রমুখ।


ডাঃ দীপু মনি এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের সম্পদ সীমিত, এর সঠিক ব্যবহার করতে হবে। অবৈধ ট্রাক্টরগুলো আমাদের গ্রামের রাস্তাগুলোকে ধ্বংস করে ফেলছে। যারা এটির সাথে জড়িত তারা সবাই আমাদের ভোটার। অথচ সেই ভোটের ভয় ভুলেও আমরা ট্রাক্টর বন্ধের ব্যাপারে কঠোর হয়েছি। কোনো জনপ্রতিনিধি যদি এটি চলাচলের পক্ষে জড়িত থাকেন তাকে নিয়ে আমাদের বসা উচিত। তাদের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোনো জনপ্রতিনিধি এর পক্ষে থাকলে এটি তার ব্যক্তিস্বার্থ। কারো ব্যক্তিস্বার্থের জন্যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়া যাবে না।


তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বড়স্টেশন মোহনায় বাঁধ রক্ষায় যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে তা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে হবে। হাইমচরে নদী বাঁধ প্রকল্পের ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ঈশানবালা বাজার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মানুষের চোখের সামনে তাদের ঘর বাড়ি, হাট-বাজার ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়েছে। তাই কোনো ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক ভেবে চিন্তে দিতে হবে। কারণ, এর দায়-দায়িত্ব ওই ঠিকাদার নেয় না, রাষ্ট্রকে নিতে হয়। ঈশানবালায় যে ঠিকাদার কাজ করেছে তাকে বস্নাক লিস্টে ফেলতে হবে। তা না হলে সে আবার আসবে এবং আপনারাই তাকে কাজ দিবেন। আর এসব কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকি করা দরকার ছিলো। তাদের এমন দায়িত্বহীনতা গ্রহণযোগ্য নয়।


তিনি আরো বলেন, সরকারের যে বিভাগ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিবে, সে দপ্তরকেই তা তদারকি করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। তাই এ বিভাগে গাফিলতি থাকলে মানুষের অনেক ক্ষতি হতে পারে। যা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এ বিভাগের কোনো প্রকার গাফিলতি সহ্য করা হবে না। আমার জনগণের কোনো ক্ষতি হলে তাদের সাথে নিয়ে আপনাদের ধরা হবে। আমার এলাকার মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিলি খেলার অধিকার কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দেয়া হয়নি। যখন যে কর্মকর্তা যে বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন তাকেই ওই বিভাগের দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বদলী হলো কি না তা জনগণ দেখবে না।


জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ট্রাক্টর চলাচলের বিষয়ে যে দু' জন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট এসেছে, তাদের কারণ দর্শানের নোটিস দেয়া হয়েছে। এখনো পর্যন্ত তারা কারণ দর্শান নি। অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে আরো কঠোর হবো। তাদের জেল দিতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার জন্যে যতোটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন ততোটাই হতে হবে। রাজরাজেশ্বর রক্ষা করতে না পারলে চাঁদপুরকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজরাজেশ্বর থেকে মাটি কেটে নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায় ইটভাটার কাজে লাগানো হয়। এ বিষয়ে তিনি নৌ-পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিশেষভাবে নজর দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।


তিনি আরো বলেন, হাইমচরে সীমানা নিয়ে যে বিরোধ রয়েছে তা নিষ্পত্তি করার বিষয়ে কাজ চলছে। দু'এক দিনের মধ্যে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলবো। আমার জানা মতে, মাদক অনেকটাই কমে এসেছে। তবে মাদকের নতুন রূট হাইমচর। সমুদ্র হয়ে নদীপথে চাঁদপুরে মাদক আসছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।


ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ট্রাক্টরের বিষয়ে আমরা এখনো জিরো টলারেন্সে রয়েছি। এ বিষয়ে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুরে মাদক অনেকটাই কমে এসেছে। তবে এটি প্রতিরোধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত আমরা মাদক বিক্রেতাদের আটক করছি এবং শাস্তির ব্যবস্থা করছি।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর