শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
logo
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে পুলিশের আয়োজনে আলোচনা সভায় বক্তারা
এ দেশের স্বাধীনতা অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৭:১৩:৪১
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে জেলা পুলিশ বিভাগের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও সুবিধা বঞ্চিত শিশু সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশ্রাফুজ্জামান এবং সাংবাদিক শরীফ চৌধুরীর যৌথ পরিচালনায় বক্তারা বলেন, আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করতে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাকহানাদার বাহিনী প্রথমে হামলা চালিয়ে ছিলো ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। সেদিন পুলিশ সদস্যরাই জীবন দিয়েছিলো। পাক-ভারত যখন ভাগ হয় তারপর সাম্প্রদায়িক ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র চালানোর চেষ্টা করা হয়। ধর্মভিত্তিক কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে না। বঙ্গবন্ধু তা বুঝতে পেরে স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দেন। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ চলতে পারে না ভেবেই বঙ্গবন্ধু এদেশকে স্বাধীন করতে দেশবাসীকে একত্রিত করে স্বাধীনতার সূত্রপাত করেন। বক্তারা আরো বলেন, পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগ নামের রাজনৈতিক দল ছিলো। তা থেকে আওয়ামী লীগের জন্ম। এ জাতি ছিলো পরাধীন জাতি, ঘুমন্ত জাতি, শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত জাতি। ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাগ্রত করে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে এদেশের স্বাধীনতা এনেছে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছেন সুখী সমৃদ্ধশালী একটি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু আরো চেয়েছিলেন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে। ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে থাকতে নয়। পাকিস্তানীরা কখনো এদেশকে ক্ষমতায় যেতে দেয়নি। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার ডাক দিলে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বক্তারা আরো বলেন, জিয়াউর রহমান তার নিজের ইচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধে যায়নি। তিনি ঠেকায় পড়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করেছে। স্বাধীনতার শত্রুদের গাড়িতে লাল-সবুজের পতাকা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। এদেশের সম্পদ তারা লুটপাট করেছে। এ লুটপাটের জন্যে এ দেশ স্বাধীন হয়নি। শেখ হাসিনা ৮ বছর আগে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যখন এসেছিলো তখন দরিদ্রের হার ছিলো ৫৮ ভাগ। এখন তা ঘুচে বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। এদেশকে দারিদ্রমুক্ত করতেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যারা স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, যারা পাকিস্তানীদের পতাকা ধরে আমাদের সাথে অর্থাৎ বাংলার মাটিতে রাজনীতি করতে পারি না। বর্তমান সরকার মানবতা বিরোধীদের বিচার করে বাংলা মাটি কলঙ্কমুক্ত করেছে। এদেশের স্বাধীনতা অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। বিশ্বাসঘাতকদের এ দেশে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট যদি হত্যা করা না হতো, তাহলে ২০০০ সালের মধ্যেই এদেশ উন্নতিশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতো পারতো। বক্তারা আরো বলেন, আমাদের প্রজন্ম যেনো স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সেজন্যে তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা শিক্ষা দিতে হবে।
    বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জীবন কানাই চক্রবর্তী, শিক্ষানুরাগী সফিউদ্দিন আহমেদ, বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি বিএম হান্নান, বিজয় মেলার মহাসচিব শহীদ পাটোয়ারী, জেলা কমিউনিটি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিএম শাহাবুদ্দিন, পৌর কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি শেখ মনির হোসেন বাবুল, পুলিশ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধা (অবঃ) হাবিলদার আঃ মান্নান, মোঃ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
    রাতে জেলা পুলিশ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ও পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) যৌথভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। জেলা পুলিশ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ও পুনাকের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সাথে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। আলোচনা সভায় জেলার প্রায় ৪ শতাধিক সুবিধা বঞ্চিত শিমুদের শীতবস্ত্র দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের পূর্বে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা প্রশাসকের সহধর্মিণী অধ্যাপিকা আকতারী জামানের হাতে বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জহিরুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা প্রশাসকের সহধর্মিণী অধ্যাপিকা আকতারী জামান ও হেলাল উদ্দিন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর