বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ইউসুফ গাজী বলেন
দলীয় সমর্থিত বিষয়টি মূলতঃ দলের নয়, এটি ২/৩ জন এমপি’র ব্যক্তিগত ঘোষণা
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪৯:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: গতকাল ১৯ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার সেমিনার কক্ষে আসন্ন চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় অংশগ্রহণকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ ইউসুফ গাজী (প্রতীক আনারস)-এর আহ্বানে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
    চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নানের সভাপ্রধানে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদীর সঞ্চালনায় গতকাল চাঁদপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব অ্যাডঃ নুরুল আমিন রুহুল (প্রতীক ঘোড়া) সম্পর্কিত যে সংবাদ স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে, চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ইউসুফ গাজী তার ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, সংবাদে চাঁদপুরের যে ৪ জন এমপি’র বরাদ দিয়ে এবং দলীয় সমর্থন ঘোষণা করে অ্যাডঃ নুরুল আমিন রুহুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তা মোটেও সঠিক নয়। কারণ, এ সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং চাঁদপুরের ২ জন এমপি এবং মন্ত্রী মায়া চৌধুরী এমপি ওই সিদ্ধান্তটিকে মেনে নেননি। তাদের দাবি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে তিনি নিজেই মনগড়াভাবে সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেছেন। দলের সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলের মনোনয়ন বোর্ডের কোনো সদস্যই এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। সুতরাং দলীয় সমর্থিত বিষয়টি মূলতঃ দলের নয়, এটি ২/৩ জন এমপি’র ব্যক্তিগত ঘোষণা। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে অবগত বা এ সিদ্ধান্তে একমত থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিষয়টি সম্পর্কে মোটেও অবহিত নন। নির্বাচন বিতর্কিত, প্রার্থী বিতর্কিত এবং দল যাতে বিতর্কিত না হয় সেজন্যে তিনি বিষয়টি সর্বপ্রথমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অবহিত করেছেন। তিনি বিষয়টি শুনে অনেকটা হতবাক হয়ে যান। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও প্রকাশিত সংবাদগুলো দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরও এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
    জনাব ইউসুফ গাজী আরো বলেন, দল যে কোনো ব্যক্তি, যে কাউকে সমর্থন দিতে পারেন। এটি তার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু আমরা যারা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে অবস্থান করছি, আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে এমন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী ছাড়া আর কিছুই নয়। এতে দলের সম্মান ও গ্রুপিং আরো ঘনীভূত হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্মরণ করে দিতে চান পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মনোনয়ন বোর্ড চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লেঃ কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরীকে দলীয় সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভোটার স্থানান্তর জটিলতার কারণে তিনি তার প্রার্থীতা ধরে রাখতে পারেননি। পরবর্তীতে দলীয়ভাবে কাউকেই সমর্থন বা মনোনয়ন দেয়া হয়নি। আমরা ৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। তন্মধ্যে ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজ নিজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এরপর প্রতীক পেয়ে আমরা মাঠে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। সুতরাং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের চাঁদপুরে কোনো একক প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও তিনি সবাইকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা পেয়ে আমরা ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী চাঁদপুর জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিরামহীনভাবে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।
    এ সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, গিয়াসউদ্দিন মিলন ও রহিম বাদশা। সংবাদ সম্মেলনে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রবীণ ও নবীন এবং স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকসহ দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর