শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
বিষ্ণুদী ব্যাংক কলোনীতে ১৬ জনকে অচেতন করে কয়েক পরিবারের সর্বস্ব লুট
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪০:৪২
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদি ব্যাংক কলোনি এলাকার কয়েকটি পরিবারকে অচেতন করে সর্বস্ব লুট করে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। অচেতন ১৬ জনকে মুমুর্ষূ অবস্থায় ২৫০ শয্যার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় ব্যাংক কলোনীর জাহাঙ্গীর সেলিমের মালিকানাধীন সাদিয়া ভিলা নামের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।  শুধু তাই নয়, এ এলাকার আরো কয়েকটি বাসাতে একইভাবে লোকজন অচেতন হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিলো জাহাঙ্গীর সেলিমের বাসার লোকজন রাতের খাবার খেয়ে অচেতন হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে একই এলাকার অন্য আরো কয়েকটি বাসার লোকজন একইভাবে অচেতন হয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকটি পরিবারের ১৬ জন ব্যক্তি অচেতন হলে স্থানীয়রা গভীর রাতে এদেরকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অচেতন হওয়া ব্যক্তিরা হচ্ছেন ঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল করিম (৫৮), তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৫২), ছেলে কামরুল হাসান (২৪), কামরুলের স্ত্রী হাসনা আক্তার (২১), আব্দুল করিমের নাতি নাহিদ হাসান (১৫), ইমন হোসেন (১৩), আনোয়ারা বেগম (৬৫), কাব্য (১৮), মানিক খান (৪৮), যোবায়ের (৭), আতাউর (৪০), রাফি (৬), রুপা (১৯), সেলিনা (৩০), সাইফুল (৩৮) ও  ইকবাল হোসেন (৪৬) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছে।
    আব্দুল করিমের মেয়ের জামাতা মোর্শেদ আলম বলেন, ব্যাংক কলোনীর ওই বাড়ির নিচ তলায় তারা ভাড়া থাকেন। শনিবার তার শ্বশুর ব্যাংক কলোনী থেকে ব্রয়লার মুরগী ক্রয় করে বাসায় আনলে ওই দিনই মুরগী পাক করে অর্ধেকটা পরিবারের সকলে খান। বাকী অংশ রবিবার রাতে খাবারের জন্য চুলার মধ্যে গরম করতে দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। ওই সময় কোন চক্র তাদের খাবারের সাথে বিষক্রিয়া মিশিয়ে দেয় বলে তারা ধারনা করছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সকলে মুরগী দিয়ে রাতের খাবার গ্রহন করার পর পর্যায়ক্রমে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাদেরকে ওই বাসার অন্য লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে জানা যায়, ব্যাংক কলোনী এলাকায় আরো কয়েকটি বাসাতে একই ধরনের অচেতন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে অনেকেই ধারণা করেন, সংঘবদ্ধ কোনো চক্র প্রতিটি বাসাতে চেতনানাশক ¯েপ্র ঘরে ছিটিয়ে দিয়েছিলো। অচেতন হয়ে পরলে ঐ চক্রটি বিভিন্ন বাসা বাড়ি থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালী উল্যাহ অলি ও সেকেন্ড অফিসার মোঃ জাফরসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি এসব বাসা থেকে কি পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএমও চিকিৎসক মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, ১৬ জনের মধ্যে সকলেই গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। খাবারের মধ্যে বিষক্রিয়া থাকলে এই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া যদি ঘরের মধ্যে চেতনা নাশক কোন ¯েপ্র ব্যবহার করা হয় তাহলেও এই  ধরনের ঘটনরা ঘটতে পারে। আমরা হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর