বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯
logo
চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মঞ্চে স্মৃতিচারনে ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন
হিমালয় পাহাড়ের মতো ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৭:০০:৩০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মঞ্চে ১৭তম দিনে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৭ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় বিজয় মেলার স্মৃতিচারণ পরিষদের আহ্বায়ক মহসিন পাঠানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী মাস্টার পরিচালনায় প্রধান স্মৃতিচারকের বক্তব্য রাখেন, ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আপনারা কখনো কি হিমালয় পাহাড় দেখেছেন, সেই হিমালয় পাহাড়ের মতো ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। যুদ্ধের কথা বলতে গেলেই তার কথা সর্ব প্রথম মনে পড়ে যায়। এছাড়া চাঁদপুরে যারা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী। আজকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেতে গিয়ে মিথ্যে ঘটনা সাজিয়ে বলেন। কলিম উল্লা ভূঁইয়ার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করি। তার নেতৃত্বে আবু তাহের পাটওয়ারী, আমিনুল্ল্যাহ মাস্টারসহ আমি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাবার সংগ্রহ করে নৌকায় উঠতে গেলে গ্রামবাসী পাক সেনা ভেবে কোচ, টেটা নিয়ে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করে। তখন জহিরুল হক পাঠান তাদেরকে গুলি করে মারার জন্য নির্দেশ দিলে তখন তারা বুঝতে পারে আমরা মুক্তি বাহিনী। তখন তারা আমাদের সহযোগিতা করে নির্দিষ্ট স্থানে যাবার জন্য।
    তিনি আরো বলেন, পাঠান বাহিনীর নেতৃত্বে আমরা যুদ্ধ করি। কিছু দিন যেতেই শাহরাস্তির উঘারিয়া বড়াই গ্রামের এক বাড়িতে আশ্রয় নেই। সেখানে আমাদের ওস্তাদ মুড়ি আর গুড় খেতে দেয়। মুক্তিযোদ্ধারা এই বাড়িতে আছে তা গোপন রাখা হয়। এক পর্যায়ে আমরা খবর পাই এলাকার একটি বটগাছের নিচে পাকিস্তানিরা বসে আছে। তাদের প্রতিহত করতে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে ফায়ার শুরু করি। এতে ১০/১২ জন পাকসেনা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তারা বুঝতে পারেনি এখানে এতো বড় হামলা হবে। গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় ওস্তাদ ও আমাকে রেখে অন্য সহযোদ্ধারা চলে আসে। তখন কলিম উল্লা ভূঁইয়া পাকিস্তানি ক্যাম্পের কাছাকাছি চলে যায়, জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে পাক বাহিনীর ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়া হয়। এর পূর্বে পাকিস্তানিরা বড়াই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির সুলতান পাটওয়ারীর মাকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলে।       
    তিনি আরো বলেন, ফরিদগঞ্জ গিয়ে আমরা জানতে পারি পাকিস্তানিরা জাহাজ নিয়ে প্রবেশ করছে। গাজীপুর এলাকায় আমরা তাদের উপর হামলা চালিয়ে প্রথম যুদ্ধ শুরু করি। তখন পাকিস্তানিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আমরা জানতে পারি রামগঞ্জে পাকিস্তানিরা আক্রমণ করেছে। আমরা খবর পেয়ে ঐ স্থান রেকি করে শত্রুদের উপর আক্রমণ করি আর তখন পাকিস্তানি শত্রুরা আমাদের গুলির তোপে দাঁড়াতে না পেরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়ায় যুদ্ধকরে প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে অন্তি নগর ক্যাস্পে চলে যাই। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে চলে আসি মেলা ঘরের নিঘুর ক্যাম্পে। শরীরে লতা পাতা বেধে বন জঙ্গল পাড়ি দিয়ে আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করি। নোয়াখালির পাকবাহিনী আমাদের আগমণের কথা জেনে যায়। তারা আমাদের আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিলে আমরা পাল্টা আক্রমণ করি।
    তিনি আরো বলেন, সুচিপাড়াতে এক মেলিটারীর মাথা কেটে আমরা ঝুলিয়ে রেখেছিলাম। সেই দৃশ্য হাজার হাজার মানুষ দেখেছে। কলিম উল্ল্যা, মন্নান বিএসসি সহ আমরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে নরিংপুর ও উগারিয়া জয় বাংলা বলে শত্রু মোকাবেলায় শুরু করি গুলি বর্ষণ। নরিংপুর থেকে বড় নৌকা যোগে পাক সেনারা আমাদের দিকে আসলে আমরা তাদের প্রতিরোধ করে স্বাধীনতার পতাকা উড়াই। এভাবে ৯মাস যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করতে পেরেছি।
    শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার আবুল হাসিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিত সাহা। সবশেষে রাত ৮টায় চাঁদপুর মঞ্চের শিল্পীদের পরিবেশনায় নৃত্যপরিবেশিত হয়। এরপূর্বে চাঁদপুর মঞ্চের কর্মকর্তাদের হাতে বিজয় মেলার সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন মেলার কর্মকর্তারা।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর