শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী উন্নয়নের অগ্রদূত
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৪:৫৬:১২
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থা চাঁদপুরের যৌথ আয়োজনে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে শহরের অঙ্গীকার সম্মুখ থেকে বেগম রোকেয়া দিবসের বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালির নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল। র‌্যালিটি শহর প্রদক্ষিণ করে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে গিয়ে শেষ হয়। পরে মিলনায়তনে ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, বেগম রোকেয়ার ভাবনায় পুরুষরা বেশি উপকৃত হয়েছে। পৃথিবীতে যা কিছুর পরিবর্তন হয়েছে তা পরিবেশগতভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েই হয়েছে। বর্তমানে যে বয়সে মেয়েদের বিবাহ হয় সে বয়সে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত বিধবা হয়েছে। এটা একটা বড় আঘাত। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এক সময় যে মেয়ে গাছে উঠে ফল পারতো সেসব মেয়েকে কেউ বিয়ে করতো না। এক সময় মেয়েরা বাইসাইকেল চালাতে পারতো না। যদি কোনো মেয়ে জিন্স প্যান্ট পরে কলেজে যেতো তখন অনেকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতো। আর ভাবতো মেয়েটি কতো স্মার্ট। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে অনেক মেয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছিলো বেগম রোকেয়ার অনুপ্রেরণায়। এক সময় নারীরা ভোট দিতে যেতো না। কিš‘ আমাদের দেশের নারীরা পাকিস্তান আমল থেকেই ভোট দিয়ে থাকে। বহির্বিশ্বের কিছু দেশে ৪/৫ বছর ধরে নারীরা ভোট দিচ্ছে। সেদিক থেকে আমাদের দেশের নারীরা অনেক অগ্রগামী। তা সম্ভব হয়েছে বেগম রোকেয়া নারীদের জাগ্রত করার কারণে। বর্তমানে নারীরা অনেক দূর এগিয়েছে। পুলিশ, সেনা, বিমান, নৌ-বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্রীড়া ক্ষেত্রে যেমন ক্রিকেট ও ফুটবলেও আমাদের দেশের নারীরা সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন রংপুরের একটি গ্রামে। তিনি জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন। তিনি সাখাওয়াতের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৩২ বছর বয়সে তিনি বিধবা হন। নারী উন্নয়নে বেগম রোকেয়া ছিলো অগ্রদূত। বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিস্থাপিত করার পূর্বে আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিস্থাপিত হয়েছে কিনা তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
    এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এমএ মতিন মিয়া, ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মোস্তফা কামাল, অধ্যাপিকা মাসুদা নূর খান, জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা জেবুন্নেছা বেগম, উপজেলার জোস্না বেগম প্রমুখ। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন অধ্যাপিকা আফরোজা খাতুন। পরে জেলা ও উপজেলার জয়িতাদের পুরস্কৃত করা হয়।   

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর