শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিক বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধনে ডাঃ দীপু মনি এমপি
যুদ্ধ জাহাজ লোরামকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে একটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর করার কাজ চলছে
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১০:০৭:১৬
প্রিন্টঅ-অ+
মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছেঃ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
চাঁদপুর: চাঁদপুরে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বর্নাঢ্য আয়োজনে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল ৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় চাঁদপুর হানাদার মুক্ত দিবসে অঙ্গীকার পাদদেশে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিজয় মেলার পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি এবং  চাঁদপুর জেলার হাইমচরের কৃতি সন্তান শহীদ এলাহি বক্স পাটওয়ারী (বীর বিক্রম)-এর সহধর্মীনি মিসেস লুৎফা বেগম। পতাকা উত্তোলনের পর শান্তির প্রতীক পায়রা আকাশে অবমুক্ত ও বিজয় মেলার পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক ভাস্কর্য অঙ্গীকারে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪ টায় চাঁদপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে শহরে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন ডাঃ দীপু মনি এমপি ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল।
    পরে মেলা মঞ্চে উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এমপি বলেন, বাংলাদেশ অপ্রতিরুদ্ধ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর অন্য রাষ্ট্রগুলো অবাক চোখে আমাদের উন্নতি দেখছে। এ উন্নয়নে ম্যাজিক কি, তা অনেকেই জানতে চায়। আমরা বলি, এ ম্যাজিকের নাম জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের মধ্যে উন্নয়নের দিক দিয়ে একমাত্র বাংলাদেশই খুব সীমিত সম্পদ নিয়ে এগিয়ে রয়েছে।
    তিনি বলেন, মানুষকে সামনে এগুতে হলে স্বপ্ন দেখতে হয়। যে স্বপ্ন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখা হয় তা শেখ হাসিনা দেখেন না। তিনি সেই স্বপ্ন দেখেন, যা তাকে ঘুমাতে দেয় না। যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তিনি জীবন বাজি রেখে নেতৃত্ব দেন। দেশের উন্নয়নের অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রতিরোধ করতে হবে।
    তিনি আরো বলেন, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা এখানে আমাদের মাঝে ঘাপটি মেরে বসে আছে। এরা কখনোই দেশের ভালো চায়নি। দেশের উন্নয়নে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দেশ প্রেম, দেশদ্রোহিতা, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে বিভাজন থাকবেই। তাদের সাথে কখনোই ঐক্য হতে পারে না। যুদ্ধ জাহাজ এমবি লোরামকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে একটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন যে, চাঁদপুরে একটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর তিনি করে দেবেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজে বঙ্গবন্ধুর মুরাল অতিদ্রুত করা হবে। আসুন আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে চাঁদপুরকে একটি সুন্দর জেলা হিসেবে গড়ে তুলি।
    উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এলাহী বক্স পাটওয়ারী বীর বিক্রমের সহধর্মীনি লুৎফা বেগম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে সোনার বাংলা গড়ার জন্য যুদ্ধ করেছে, তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়েছি। সোনার বাংলা গড়তে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা চাঁদপুরে অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়েছে। চাঁদপুর জেলা এখন অনেকটাই ডিজিটালের আতওতায় চলে এসেছে। বাংলাদেশের মধ্যে চাঁদপুরই একমাত্র জেলা, যেখানে স্বচ্ছতার সাথে মানুষকে অনলাইনে সেবা দেয়া হয়। আমরা যে কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছি তা বাস্তবায়িত হলে দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে চাঁদপুরের নাম লেখা হবে।
    তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। বাল্য বিয়ে ও মাদক প্রতিরোধে আমরাই প্রথম সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের শপথ করিয়েছি। বর্তমানে এখানে বাল্য বিয়ে অনেকটাই কমে এসেছে এবং মাদক এখন সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের সবচে’ বড় অর্জন হলো মা ইলিশ রক্ষা। মা ইলিশ রক্ষায় আমরা চাঁদপুরের জেলে, আড়ৎদার, জনপ্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এক কাতারে আনতে পেরেছি। এটি বাংলাদেশের জন্য বিশাল একটি অর্জন। চাঁদপুরের সাধারণ মানুষকে দেয়া প্রতিশ্রুতি তা অনেকটাই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
    আমরা যদি সঠিকভাবে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি তবে চাঁদপুর হবে বাংলাদেশের একটি মডেল জেলা। তখন চাঁদপুরেই প্রথম বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ হবে। এখন আর চাঁদপুরকে আমরা কুমিল্লা বা অন্য কোনো জেলার সাথে তুলনা করি না। চাঁদপুর কোনো জেলার সাথে তুলনীয় নয়। আগামি ২৭ জানুয়ারি ব্রান্ডিং জেলা চাঁদপুরকে নিয়ে ঢাকায় একটি ইলিশের মেলা হবে। যেখান থেকে চাঁদপুর নিয়ে দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়ণ কাজ শুরু হবে। চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের যাদুঘর করা নিয়ে আলোচনা চলছে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
    বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাবেক মহা সচিব অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরণের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধের বিএলএফ কমান্ডার হানিফ পাটওয়ারী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব সফিউদ্দিন আহমেদ, বিজয় মেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডঃ বিণয় ভূষণ মজুমদার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুল ইসলাম মন্টু পাটোয়ারী, অ্যাডঃ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নান প্রমুখ।
    শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিজয় মেলার মহাসচিব শহীদ পাটোয়ারী ও মাঠ ও মঞ্চের আহ্বায়ক হারুন আল রশীদ।
    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোওয়াত করেন মাওঃ জাবের আহমেদ, গীতা পাঠ করেন, সুখরঞ্জন ব্রক্ষ্মচারী, বাইবেল পাঠ করেন মনিন্দ্র বর্মন, ত্রিপিটক পাঠ করেন ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়–য়া।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর