বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০
logo
রূপকল্প ২০২১ অর্জনে ইউনিয়নভিত্তিক পরিকল্পনা বিষয়ক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা
ইউনিয়নভিত্তিক রূপকল্প থাকলেই কেবল জাতীয় রূপকল্প অর্জন সহজতর হবে
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১০:৫৬:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: সরকার ঘোষিত ‘রূপকল্প-২০২১’ অর্জন তথা দারিদ্রমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশ গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে হলে ‘ইউনিয়নভিত্তিক পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’ অপরিহার্য। ২০২১ সালের জাতীয় প্রত্যাশা অর্জনে তৃণমূলে জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। সরকার কর্তৃক ঘোষিত সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আলোকে ইউনিয়নভিত্তিক পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরতে গতকাল ৩ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় ইউপি চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে দাবি জানানো হয়, সরকার ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ অর্জনে ইউনিয়নভিত্তিক পরিকল্পনা অপরিহার্য।
    মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি গর্বিত। কেননা আমার বাবা এক সময় চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে একটি দারিদ্রমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার রূপকল্প ঘোষণা করায় বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানাই। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সম্মেলনে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানান, নিজ নিজ এলাকার দরিদ্র, গৃহহারা, হতদরিদ্র, বয়োবৃন্ধ, প্রতিবন্ধী তালিকা বানান। তাদের জন্যে আমরা বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করে দেবো। তারা যেনো বেঁচে থাকতে পারেন, তার ব্যবস্থা করে দেবো। এ আশা প্রকাশ করে আমরা যদি এ কাজটি ভালো মতো করতে পারি, তবে বাংলাদেশে কোনো দরিদ্র থাকবে না। এ স্বপ্ন পূরণে তথা জাতীয় এ প্রত্যাশা বাস্তবায়নে জনগণের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদকে জাতীয় এ লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ইউনিয়নভিত্তিক রূপকল্প থাকলেই কেবল জাতীয় রূপকল্প অর্জন সহজতর হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে তাদের স্বপ্ন বা আশা এবং সা   মর্থ্যরে ভিত্তিতে ক্ষুদামুক্ত, আত্মনির্ভর ইউনিয়ন পরিষদ তথা আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, গ্রামের উন্নয়ন না হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা স্থানীয় সরকার চেষ্টা করছি চেয়ারম্যানদেরকে ক্ষমতায়িত করতে। চেয়ারম্যানগণ যদি প্রকৃত সহায়তা করে তবে মধ্যম আয়ের দেশ গঠন ২০২১ সালের আগে অর্জন করা সম্ভব।
    বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। আরো বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা-২০২১ ফোরামের সদস্য সচিব রুহী দাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন ফোরামের সভাপতি মাহবুবুর রহমান টুলু। বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা-২০২১ ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম আজাদ হোসেন। ইউনিয়নভিত্তিক স্বপ্ন বা প্রত্যাশা পাঠ করেন প্রত্যাশা-২০২১ ফোরাম ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের সাবেক সদস্য সচিব আতাউর রহমান মিটন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সেমিনার প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ও প্রত্যাশা-২০২১ ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাশুক শাহী। সেমিনারে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চেয়ারম্যানগণ মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। সেমিনার শেষে ইউনিয়নকে দারিদ্র মুক্ত করতে ৫ বছর মেয়াদী ইউনিয়নভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে সরকার ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ অর্জনে সহায়তা করবেন খচিত সম্মাননা স্মারক চাঁদপুর জেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম খানকে প্রদান করা হয়।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর