শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
ভোট গ্রহণ ২৮ ডিসেম্বর।। মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ১ ডিসেম্বর।। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ৩ ও ৪ ডিসেম্বর
চাঁদপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর, ২০১৬ ০৮:১৯:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: গত ২০ নভেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী চেয়ারম্যান, সদস্য (পরিচালক) ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য (পরিচালক) প্রার্থীরা ১ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। চাঁদপুর জেলা পরিষদের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করবেন ৩টি ভেন্যুতে। জেলা নির্বাচন অফিস, জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। জমাকৃত মনোনয়নের যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ৩ ও ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় বেধে দেয়া হয়েছে ১১ ডিসেম্বর এবং পরদিন ১২ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।
    এদিকে আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দপ্তরে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ২২ জনের আবেদনপত্র জমা দিলেও ২/৩ জন হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থীর আবেদন জমা না দিলেও তারাও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় দৌড়-ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তরে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন জেলা পরিষদের বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্রশাসক মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর কমান্ডার লেঃ কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী, সাবেক সচিব মমিন উল্যাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ ইউসুফ গাজী, আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটোয়ারী ও শহীদ উল্যাহ মাস্টার, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম ও আহসান উল্যাহ আখন্দ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডঃ নুরুল আমিন রুহুল, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী সভাপতি অ্যাডঃ রুহুল আমীন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ মজুমদার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডঃ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিঃ আব্দুর রব ভূঁইয়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল খায়ের পাটোয়ারী, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা খোরশেদ আলম, হাইমচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ আহসান হাবিব, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা এমরান চৌধুরী ও হারিছ মিয়া শেখ।
    এছাড়া জেলা পরিষদের ওয়ার্ড ভিত্তিক সদস্য (পরিচালক) পদে মাঠ পর্যায়ে রয়েছে একাধিক প্রার্থী। শুধু তাই নয়, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (পরিচালক) পদেও প্রার্থীদের কমতি নেই। এ সকল প্রার্থীরা দিনে ও রাতে তাদের নির্ধারিত এবং চিহ্নিত তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়ে সমর্থন চাচ্ছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে উপ-মন্ত্রীর পদমর্যাদায় চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য (পরিচালক) পুরুষ এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে সদস্য (পরিচালক) পদে ৫ জন নির্বাচিত হতে হবে। এ নির্বাচনে অন্যতম বৃহৎতম রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না বলে ইতোমধ্যে তাদের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মিডিয়াতে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সহকারে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্যতম শরীক দল জাতীয় পার্টি এখনো তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেনি। সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে চলছে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা। যেহেতু এ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার ৭টি পৌরসভা, ৮টি উপজেলা পরিষদ এবং ৮৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার সদস্যরা ভোটার। সে কারণে এ জেলা পরিষদ নির্বাচনে এ সকল ভোটারদের ভোট ও সমর্থন যার অনুকূলে থাকবে তিনিই হবেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ও সদস্য।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর