বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
চাঁদপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশাল ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আমরা সমুদ্র বিজয় করে বাংলাদেশের সীমানা বৃদ্ধি করেছি
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর, ২০১৬ ১৩:৩৮:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর; বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এ স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ঠাঁই হতে পারে না। এ ব্যাপারে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। গতকাল ১৯ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি সরাসরি তৃণমূলের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন। চাঁদপুরের ১৩শ’ ৮৯ স্থানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কথা শোনার জন্যই এই কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। আজকে আমরা যাদের কথা শুনেছি তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আপনারা যে সমস্যার কথা বলেছেন তা সমাধান করা হবে। সবাই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রতিটি এলাকায় যে প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। দেশের সকল মানুষ সার্বিক উন্নতি ও উন্নত জীবন যাপন করুক এটাই আমরা চাই। আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচবো। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আর অধিকার আদায়ের চেষ্টা করেছি। আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি। বাংলাদেশের সীমানা বৃদ্ধি করেছি। বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করে রাজনৈতিক উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। সমুদ্রসীমা জয়ের মাধ্যমে দেশীয় মাছের যে আমিষ আছে তেমনি সামুদ্রিক মাছে আরো বেশি আমিষ রয়েছে। তা রক্ষা করা আমাদের প্রয়োজন। মা ইলিশ আর জাটকা রক্ষা করায় ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেদের স্বাবলম্বী করতে পারায় এ বছর ইলিশ সম্পদ রক্ষা পেয়েছে। মা  ইলিশ রক্ষায় জেলেদেরকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। সরকারি চাল পেয়ে জেলেরা উপকৃত হচ্ছে। তাতে করে মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। জেলেরা এখন বড় ইলিশ ধরতে পারছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দিনমজুর এখন যে মজুরি পায় তাতে সে ১০ কেজি চাল ও মাছ কিনতে পারছে। আমরা সমুদ্র জাহাজ কিনেছি। তাতে করে সমুদ্রের মাছ রক্ষা করে দেশবাসীর আমিষের চাহিদা পূরণ করা হবে। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নতি হয়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছে এ বাংলাদেশের জন্যে। ২৪ বছরের সংগ্রামের ফসল বাংলাদেশ। জাতির পিতা এ স্বাধীনতা আনতে বহুবার জেল খেটেছেন। ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে অর্জিত এ স্বাধীনতা। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিলো তখন বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছিলো তারা অন্যায়কারীদের প্রশ্রয় দিয়েছিলো। এদেশে আমরা এক সময় থাকতে পারিনি। বিদেশে রিফোজি হয়ে থাকতে হয়েছে। সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলো জাতির পিতা। তাদের মুক্ত করে দিয়েছিলো জিয়াউর রহমান। মোস্তাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর নিজেরা ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলো। কেউ তাদের ভোট দেয়নি। জিয়াউর রহমানের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছিলো। আর যারা অপরাধী ছিলো তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনা হয়েছিলো। তিনি আরো বলেন, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর একটা ভাঙ্গা সুটকেস রেখে গিয়েছিলো। খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান ও কোকোর অর্থ সম্পদের মালিক কি করে হলো। তারা এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছে। মানি লন্ডারিংয়ে টাকা লন্ডনে নিয়ে ছিলো। আমরা তা উদ্ধার করেছি। মানুষ হত্যা আর অর্থ আত্মসাৎ ছিলো তাদের কাজ। দেশের মানুষের ভাগ্য ও উন্নয়ন ছিলো না। দেশবাসী ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়েছে। খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ছাত্রদের হাতের কলম রেখে দিয়ে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলো। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষার মান বৃদ্ধি করেছি। ২০১৪ সালে আমি খালেদা জিয়াকে সর্বদলীয় সরকার গঠনের জন্যে আলোচনা করতে মোবাইল করেছি। কিন্তু রিসিভ করেনি। সন্ধ্যায় তিনি রিসিভ করেছেন। তিনি নির্বাচন বর্জন করলেন। অত্যাচার শুরু করলেন সব ধর্মের মানুষের উপর। সৃষ্টি করলেন বাংলা ভাই। শুরু হলো দেশে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ। আমরা দেশে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ প্রশ্রয় দেবো না। এদের হাত থেকে কেউ রেহাই পায়নি। ২০১৪ সালে খালেদা জিয়া গুলশানের অফিসে বসে থেকে ১৩৫ জনকে হত্যা করেছে। ৫শ’ ৮ জনকে আগুনে পুড়িয়েছে। ১ হাজার ১শ’ ৩৮টি গাড়ি ভাংচুর করেছে। এদেশের মানুষের কি অপরাধ ছিলো তাদের আগুনে পুড়তে হয়েছিলো। অসুস্থ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে যেতে পারেনি। আন্দোলন মানেই ধ্বংস। ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছিলাম। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা ২০০৯ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে তা আবার চালু করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, দুঃস্থ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, পঙ্গু ভাতা বাড়িয়ে দিয়েছি। শিক্ষাকে আমরা বহুমুখী করেছি। ৪/৫টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। টেক্সটাইল, মেরিন ও ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। সারের ও বীজের দাম কমানো হয়েছে। যাতে কৃষক ফসল উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পেতে পারে সেজন্যে।
ভিডিও কনফারেন্সে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার গণমানুষের মধ্যে সূচনা বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর ম-ল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, মৎস্যজীবী মানিক দেওয়ান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য মারুফা আক্তার পপি, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডঃ নুরজাহান বেগম মুক্তা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডার হানিফ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মোহাম্মদ আব্দুল হাই, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাৎ হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান দেওয়ান মোঃ সফিকুজ্জামান, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন্নাহার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইউছুফ গাজী, ওচমান গণি পাটওয়ারী, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম, চাঁদপুর চেম্বারের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নান, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পাটোয়ারী, গিয়াস উদ্দিন মিলন। এছাড়াও জেলা বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ভিডিও কনফারেন্সে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সাংবাদিকদের সমস্যা ও জেলেদের সমস্যা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী ও জেলে প্রতিনিধি মানিক দেওয়ান।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর