রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
কচুয়ার দারচর সপ্রাবি’র পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে
বৃষ্টি এলেই বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর, ২০১৬ ১২:২৪:২৬
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক
চাঁদপুর: টানা ৭ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের পুরনো পরিত্যাক্ত ঘোষণাও করা হয়েছে বহু বছর আগে। কিন্তু শ্রেণি কক্ষের অভাবে কখনো খোলা আকাশের নিচে, কখনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দার নিচে ও খোলা মাঠে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। কয়েক বছর আগে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩ শতের অধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী কমে গেছে। এমনকি অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাণহানি ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ে আসা ছেড়ে দিয়েছে। এমনি ভয়াবহ রূপ ধারণ, একাডেমিক ভবন, শৌচাগার না থাকা ও দরজা-জানালা আসবাবপত্রের অভাবে চরম সমস্যার বোঝা মাথায় নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে কচুয়া উপজেলার নবজাতীয়করণকৃত ১২৭নং দারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। গতকাল বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে করুণ দৃশ্য দেখা যায়।
সরেজমিনে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা গেছে, ১৯৭২ সালের তৎকালীন সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিস্তারের চাহিদা মেটাতে ৩৩ শতাংশ ভূমির ওপর বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করার পর জেলা শিক্ষা অফিসার ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এ বিদ্যালয়ে ক্লাশ না নেয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। কিন্তু শিক্ষকরা শ্রেণি কক্ষের অভাবে বাধ্য হয়ে ভবনের বারান্দায় ও মাঠে খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর পাঠদান চালিয়ে আসছেন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফলাফলের দিক থেকে শতভাগসহ সন্তোষজনক ফলাফল করে আসছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১শ’ ৮২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছে ৫ জন।
স্থানীয় অধিবাসী উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান, ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থ বছরে এলজিইডির অর্থায়নে বিদ্যালয়টি পুনঃনির্মাণ করা হয়। তৎকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার নাম মাত্র সিমেন্ট, বালু ব্যবহার করে নিন্মমানের রড দিয়ে বিদ্যালয়টির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। নি¤œমানের কাজ হওয়ায় কয়েক বছর যেতে না যেতেই ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা ভিম খসে পড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয় এবং তা ভেঙ্গে খসে পড়ে বিভিন্ন সময় বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়। তিনি আরো জানান, বিষয়টি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। আশা করি এমপি মহোদয় অচিরেই দারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুজ্জামান জানান, শুরু থেকে বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী ছিল বতমানে বিদ্যালয়টি অধিক ঝুকিপূর্ন হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের শিক্ষার্থীদের এ বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। শিক্ষকদের নিজ অর্থায়নে ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের পাশে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে ২ সিফটে শিক্ষার্থী বিকল্প পাঠদান নেয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি দীলিপ চন্দ্র চক্রবর্তী  জানান, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের কাছে বারবার চেষ্টা ততবির করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। এমনকি ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ কচুয়া উপজেলা মাসিক শিক্ষা কমিটির সভায় বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তালিকা করার পর অনেক বিদ্যালয় একাডেমিক ভবন নির্মাণ হলেও এ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। একমাত্র ভবন হওয়ায় বিকল্প ভবন না থাকায় খোলা মাঠে শিক্ষার্থীদের খুব কষ্টে পড়াশোনা করানো হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে দ্রুত একটি নতুন একাডেমিক ভবন স্থাপনের জোর দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার হেমায়েতুল ভূঁইয়া ফারুক জানান, কচুয়ায় ১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা করে ভবন নির্মাণের জন্য জেলায় প্রেরণ করেছি। পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়গুলোর ভবন নির্মাণ করা হবে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর