বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
logo
অধিক সুদ ও জমি বিক্রির প্রলোভন
হাইমচরে অর্ধ শতাধিক নারীর নামে এনজিও থেকে ৩০ লক্ষ টাকা নিয়ে হালেমা আক্তার উধাও
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০১৬ ১৪:২৪:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক
চাঁদপুর: হাইমচর উপজেলায় অধিক সুদ দেবার কথা বলে ও জমি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক নারীর নামে বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে ধোকা দিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা নিয়ে হালেমা আক্তার নামে এক প্রতারক নারী উধাও হবার ঘটনা ঘটেছে। এনজিওর কিস্তির টাকা না দিতে পেরে অসহায় নারীরা এখন পথেপথে ঘুরছে। এ ঘটনায় ওই প্রতারক হালেমা আক্তার (৩০) তার স্বামী খোকন খান (৪০)-সহ তাদের সহযোগী ৫ জনের নামে আদালতে প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জানা যায়, হাইমচর উপজেলায় ২নং আলগী দূর্গাপুর ইউনিয়নের ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের খোকন খানের স্ত্রী হালেমা আক্তার এলাকার অসহায় নারীর অধিক সুদের প্রলোভন দেখায়। সে প্রায় অর্ধশত নারীর নামে গ্রামীণ, ব্র্যাক ও উদ্দীপনসহ বেশ কয়েকটি এনজিওর কাছ থেকে কিস্তির টাকা উঠিয়ে প্রতারক হালেমা আক্তার সেই টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়। সেই কিস্তির টাকা সে নিজে দিবে ও সেই টাকার অধিক সুদ ওই অসহায় নারীর দেবার প্রলোভন দেখায়। এছাড়া প্রতারক হালেমা আক্তার তার স্বামীর জায়গা বিক্রি করার কথা বলে এলাকার বেশ কয়েকজনের কাছে থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। ঘটনার পরেই প্রতারক হালেমা আক্তার ও তার স্বামী খোকন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনা অনুসন্ধানে ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ২নং আলগী দূর্গাপুর ইউনিয়নের ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের মৃত রব পাটওয়ারীর মেয়ে হালেমার সাথে ৯ বছর পূর্বে মৃত রওশন খানের ছেলে খোকন খানের বিয়ে হয়। গত ১ বছর পূর্বে হালেমা আক্তার এলাকার অসহায় নারীর কাছ থেকে জায়গা বিক্রির কথা বলে টাকা নেয়। পরে প্রায় অর্ধশত নারীর নামে গ্রামীণ, ব্র্যাক ও উদ্দীপন থেকে কিস্তির টাকা উঠায়। এদের মধ্যে নূর জাহান বেগমের কাছ থেকে জায়গা বিক্রির নামে ৫লাখ ২৫হাজার টাকা, নান্টু পল্লী চিকিৎসকের ২ লাখ ৪হাজার, রানু বেগমের নামে এনজিও থেকে ১লাখ ২০হাজার, মনু বেগমের ৬০হাজার, হোসনেয়ারার ৭০হাজার, বিলকিছ বেগমের ৭০হাজার, আমেনা বেগমের ২৮হাজার,তাছলিমা বেগমের ৪৫হাজার, সুরিয়া বেগমের ২৫হাজার, কুহিনুর বেগমের ৪৫হাজার, রানু বেগমের ২১হাজার, অন্ধ নুরজাহান বেগমের ৩০ হাজার টাকাসহ প্রায় অর্ধশত নারীর কাছ থেকে ধোকা দিয়ে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরেই ক্ষতিগ্রস্তরা হালেমাকে না পেয়ে তার স্বামী খোকন খানকে আটক করে। হালেমা তার স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে হাইমচর থানার এসআই মোস্তফার সাথে কণ্ট্রাক করে সেখানে পাঠায়। পরে পুলিশ এলাকায় গিয়ে হালেমার স্বামী খোকনসহ ক্ষতিগ্রস্ত ২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে খোকনকে ছেড়ে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ মুচলেকা রেখে তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়। ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় গিয়ে প্রতারক হালেমার নামে মামলা ও জিডি করতে গেলে এসআই মোস্তফা তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে অভিযোগ নেয়নি বলে তারা জানায়। এ ব্যাপারে এসআই মোস্তফার মোবাইল নাম্বারে ফোন করে জানতে চাইলে তার সংযোগ বন্ধ থানায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
থানায় অভিযোগ দিতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতারক হালেমা আক্তার (৩০) তার স্বামী খোকন খান (৪০)সহ তাদের সহযোগী ৫ জনের নামে আদালতে প্রতারণা মামলা দায়ের করে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর