শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
logo
সদ্য সংবাদ :

যৌন নিপীড়ন: আহসানউল্লাহর শিক্ষকের বিচার শুরু

গুলশান হামলা: ৪ ‘অস্ত্র সরবরাহকারী’ গ্রেপ্তার

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সিটিসেল, দেনা শোধে ১৬ দিন

কল্পনা আক্তারকে বাঁচানো গেলো না

খাদিজার পর কল্পনা আক্তার

ফরিদগঞ্জে ভাতিজাদের হামলায় আহত মনির হোসেন ৪ মাস ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে

রডের বদলে বাঁশ দিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি: মমিনের মাকর্স বিল্ডাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান!

জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে শহরের রাস্তঘাট প্রশস্থ করা হবে

নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের বিজয় কেউ রুখতে পারবে না

শাহরাস্তিতে নৌকা পোড়ানোর অভিযোগে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর হাজীগঞ্জে তোলপাড় সৃষ্টি
রডের বদলে বাঁশ দিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি: মমিনের মাকর্স বিল্ডাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান!
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০১৬ ১২:৩৯:৪০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক
চাঁদপুর: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ বছর আগে নির্মাণ করা ভবনে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার ভবনটির তৃতীয় তলায় লিফটের সামনে টাইলস উঠে গেলে বাঁশ দেখা যায়। গত মঙ্গলবারও দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় একই স্থানে একই দৃশ্য দেখা গেছে। এখন ভবনের আর কোথাও এমন অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
    এদিকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলাম। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগের প্রধান মোসাদ্দেক হোসেনকে সদস্যসচিব রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম এবং সদস্য রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ মাহমুদ। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
    জানতে চাইলে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, ‘আমরা জড়িত নই। ২০১২ সালে আমাদের কাজ শেষ। এখন প্রাণ আর এফ এল গ্র“প একটি লিফট বসাতে গিয়ে ফাঁকা জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করেছে। বিষয়গুলো আমরা রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যাক্তিদের নিকট অবহিত করেছি।’
    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নতুন চারতলা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় লিফটের পাশ থেকে দু’টি বাঁশের বাতা বেরিয়ে এসেছে। রডের পরিবর্তে সেখানে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল। সোমবার রাতে টাইলসগুলো সরে গেলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
    এরপর বাঁশের ওই বাতার ওপর তড়িঘড়ি করে পত্রিকা বিছিয়ে প্লাস্টার করে দেয়া হয়। প্লাস্টারের পর জায়গাটি কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তবে লিফটে রোগী উঠানোর সময় ট্রলির চাকায় পলেস্তারা উঠে গিয়ে আবারও বাঁশ বেরিয়ে আসে। এ সময় বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে শুরু হয় তোলপাড়। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ২০০৮ সালে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করেছে গণপূর্ত অধিদফতর। ২০১২ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক ভবনটির উদ্বোধন করেন। এরই মধ্যে ভবনটির বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। সোমবার লিফটের পাস থেকে বেরিয়ে এলো বাঁশের বাতা।
    সরেজমিন দেখা যায়, বেরিয়ে পড়া বাঁশের বাতাগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন তৃতীয় তলার লিফট ও মূল ভবনের মেঝের মধ্যে প্রায় পাঁচ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা অবস্থায় আছে। লিফটের দরজায় দাঁড়িয়ে উপরের দিকে চোখ রেখে দেখা যায়, সেখানেও বাঁশের বাতার ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পুরো ভবনেই রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
    এদিকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ এফ এম রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান, মাসুম আল হাসান, আবু হেলাল আনসারী ও নাফিজ মাহমুদ ভবনটি পরিদর্শন করেন।
    এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্ক বিল্ডার্সের পক্ষেই সাফাই গান। বলেন, ‘এটি বড় কোনো সমস্যা নয়। মূল ভবনের সঙ্গে লিফট স্থাপনের সময় কিছুটা স্থান ফাঁকা থেকেছে। এই স্থানটিতে পলেস্তারা করে টাইলস বসানোর জন্য বাঁশের বাতা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না। পুরো ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশের বাতা ব্যবহার করা হয়েছে বিষয়টি এমনও নয়।’
    রডের পরিবর্তে বাঁশের বাতা ব্যবহারের যৌক্তিকতা কতটুকু জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সেখানে বাঁশের বাতার পরিবর্তে লোহার অ্যাঙ্গেল বা টিনের প্লেট ব্যবহার করা যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, লিফটের যতটুকু অংশে বাঁশের বাতা ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে প্রতিটি লিফট স্থাপনে ঠিকাদারের সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এত কম পরিমাণ টাকা বাঁচাতেই যদি বাঁশের বাতা ব্যবহার করা হয়, তবে পুরো ভবন নির্মাণে ঠিক কত জায়গায় বাঁশের বাতা ব্যবহার করা হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
    এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ এফ এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে যোগ দেওয়ার আগে ভবনটি নির্মিত হয়েছে। সকালে আমরা সবাই জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হবে ভবনটি অনিরাপদ কিনা। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে কিনা।’

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর