শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
logo
সদ্য সংবাদ :

যৌন নিপীড়ন: আহসানউল্লাহর শিক্ষকের বিচার শুরু

গুলশান হামলা: ৪ ‘অস্ত্র সরবরাহকারী’ গ্রেপ্তার

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সিটিসেল, দেনা শোধে ১৬ দিন

কল্পনা আক্তারকে বাঁচানো গেলো না

খাদিজার পর কল্পনা আক্তার

ফরিদগঞ্জে ভাতিজাদের হামলায় আহত মনির হোসেন ৪ মাস ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে

রডের বদলে বাঁশ দিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি: মমিনের মাকর্স বিল্ডাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান!

জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে শহরের রাস্তঘাট প্রশস্থ করা হবে

নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের বিজয় কেউ রুখতে পারবে না

শাহরাস্তিতে নৌকা পোড়ানোর অভিযোগে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

শাহরাস্তিতে নৌকা পোড়ানোর অভিযোগে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০১৬ ১২:০৩:২৩
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক
চাঁদপুর: শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উল্লাশ্বর বাজারে নৌকা পোড়ানোর অভিযোগ করে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সেলিম পাটওয়ারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সদ্য সমাপ্ত হওয়া ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী তাহেরুল ইসলাম। স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিএনপিকে দায়ী করলেও তারা এ ঘটনাটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আখ্যা দিয়েছেন। গত ৩১ অক্টোবর রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের স্থগিত ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় আর ঐ রাতেই এ ঘটনা ঘটে।


সরজমিনে গিয়ে এ ব্যাপারে এলাকাবাসী থেকে নানামুখি বক্তব্য জানা গেছে। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহেরুল ইসলাম জানান, ৩১ অক্টোবর রাতে কে বা কারা নৌকা প্রতীকে আগুন দেয়। সকালে লোক মাধ্যমে জানতে পেরে আমার এক চাচাকে ঘটনার সত্যতা জানতে পাঠাই। চাচা ঘটনার সত্যতা আমাকে নিশ্চিত করার পর আমি উপজেলার নেতাদের ফোনে অবহিত করি । সকাল সাড়ে ১০টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এরপর নেতাদের সাথে আলোচনা করে অভিযোগ দায়ের করি। ঘটনার সত্য মিথ্যা আল্লাহ জানে আমি ঘটনাটি জেনে অভিযোগ করেছি। আমরা সবাই এলাকায় থাকবো। এ ঘটনাটি নিয়ে যাতে আর না বাড়ে সে জন্য অভিযোগ করেছি। কাপড় দিয়ে তৈরি নৌকাটির নিচের অংশে আগুন দেয়া হয় তবে কোনো জাতীয় নেতার ছবি ছিল না বলে স্থানীয়রা জানান। ঘটনাস্থলের সামনের কাপড় দোকানের মালিক খলিলুর রহমান (৬৫) জানান, তিনি রাতে বাড়ি চলে যান সকালে এসে এ দৃশ্য দেখতে পান তবে কারা ঘটিয়েছে তা বলতে পারেন নি।


বাজার সংলগ্ন পোদ্দার বাড়ির মৃত সোলাইমানের পুত্র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) জানান, সন্ধ্যায় চন্ডিপুরে ফলাফল ঘোষণার পর স্থানীয় কিছু লোক মিছিল করে তবে সেখানে চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলনা, মিছিলে কোনো প্রকার গোলযোগও হয়নি। সন্ধ্যায় মিছিল শেষ হয়ে যায়। ঘটনা সংলগ্ন ফার্মেসী ব্যবসায়ী রিপন চন্দ্র ধাম জানান, ঘটনাটি কে বা কারা ঘটিয়েছে তা বলতে পারিনা । সকালে দোকান খুলতে এসে দেখতে পাই এ দৃশ্য। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সমর্থক মোঃ আনসার আলী জানান, এত দিন নৌকা পুড়ে নাই এখন কেন পুড়লো ধারণা করছি ঘটনাটি বিএনপির লোকেরাই করেছে। ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাজার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান রাসেল (২০) জানান, সে প্রতিদিন রাতে দোকানে ঘুমায় ঘটনার রাতে অসুস্থ থাকায় রাত সাড়ে ৮ টায় সে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে উঠে এ সব জানতে পারি। সে আরও জানায় বাজারে কোনো প্রকার মিছিল হওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। কাপড়ের তৈরির নৌকা প্রতীকের মধ্যে কোনো জাতীয় নেতাদের ছবি ছিল না। কেবা কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা তার জানা নেই।


উল্লাশ্বর দক্ষিণ পাড়ায় হানিফের দোকানের সামনে আরো একটি নৌকায় আগুন দেয়ার ঘটনায় দোকানদার হানিফ কে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় , রাত ১০ টায় সে দোকান বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। প্রতিদিনের ন্যায় ঐ রাতেও সে দোকানে ঘুমিয়েছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে সে নৌকা পোড়ানোর দৃশ্য দেখতে পায়। তবে রাতে সে কোন শব্দই পায়নি কেবা কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাও সে বলতে পারবে না।


ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাল্ট বঙ্ ছিনতাইয়ের কারণে ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ৯নং ওয়ার্ডের নির্বাচন ৭ মে সমাপ্ত হয়। ঐ কেন্দ্রের পাশেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোশারফ হোসেন মুশুর বাড়ি। বিএনপি সমর্থিত নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সেলিম পাটওয়ারীর বাড়ি ৪ নং ওয়ার্ডের উনকিলা গ্রামে । যে এলাকায় নৌকা পোড়ানোর ঘটনাটি ঘটেছে সে এলাকায় ৭ মে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। অনেকের ধারণা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তৃতীয় পক্ষের কেউ ঘটনাটি ঘটাতে পারে যাতে তারা এখান থেকে সুবিধা আদায় করতে পারে। বর্তমানে রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন মিজান।


এ ব্যাপারে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুরুজ জানান, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে বের করতে হবে। আমরা এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। এ ধরণের কোনো কাজের সাথে আমাদের কোন নেতা-কর্মী জড়িত নয়। যদি কেউ জড়িত থাকে তা হলে তারা নাম বলুক উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে।


 


১৯৫০ সালে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার উচ্চঙ্গা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পাঠ্য জীবনে তিনি উপজেলার বলাখাল হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।


ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এবং ছাত্র সংসদের নির্বাহী সদস্যও ছিলেন। স্নাতক বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ভারতের আগরতলা রাজ্যে ৯১ বিএসএফ-এ প্রশিক্ষণ গ্রহণকালীন জলপথে যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্যে নৌ-কমান্ডো মনোনীত হন। অতঃপর ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার পলাশী প্রান্তরে স্থাপিত ক্যাম্প সি-২ পিও ঐতিহাসিক ভাগিরথী নদীতে তিনি কমান্ডো প্রশিক্ষণ লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৫ আগস্ট মধ্য রাতে বাংলাদেশের সমুদ্র ও নদী বন্দরে সংগঠিত অপারেশন বিশ্বে সাড়া জাগানো 'অপারেশন জ্যাকপট' নামে অভিহিত। তিনি অপারেশন জ্যাকপট পরিসীমায় চাঁদপুর নদী বন্দরে সংগঠিত অপারেশন জ্যাকপটে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য কৃতিত্বের অধিকারী হন।


সৈয়দ আহম্মদ মজুমদার চাকুরি জীবনে প্রথম শ্রেণীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন চাকরি শেষে ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। কর্মজীবনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক জীবনে তিনি পরপর তিন মেয়াদে ৯ বছর চট্টগ্রাম আগ্রাবাদস্থ সরকারি কলোনি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের কখনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান কখনো আবার নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে সৈয়দ আহম্মদ মজুমদার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডো অ্যাসোসিয়শনের নির্বাচিত মহাসচিব ছিলেন। ২০১০ ও ২০১৪ সালে সারাদেশব্যাপী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি পরপর দুইবার কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চাঁদপুর জেলার সাধারণ মানুষের আশা বৈচিত্র্যময় জীবন চরিত্র ও অনেক গুণাগুন সম্পন্ন একজন মাধুর্যময়ী ব্যক্তিত্ব এবং জাতীয় জীবনে কৃতিত্বের অধিকারী হিসেবে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডো সৈয়দ আহম্মদ মজুমদার আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন চাঁদপুরের সাধারণ মানুষের এটাই একান্ত প্রত্যাশা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত। ছোট দুই ছেলে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ শেষে বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ পদে কর্মরত রয়েছেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর