সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
সদ্য সংবাদ :

যৌন নিপীড়ন: আহসানউল্লাহর শিক্ষকের বিচার শুরু

গুলশান হামলা: ৪ ‘অস্ত্র সরবরাহকারী’ গ্রেপ্তার

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সিটিসেল, দেনা শোধে ১৬ দিন

কল্পনা আক্তারকে বাঁচানো গেলো না

খাদিজার পর কল্পনা আক্তার

ফরিদগঞ্জে ভাতিজাদের হামলায় আহত মনির হোসেন ৪ মাস ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে

রডের বদলে বাঁশ দিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি: মমিনের মাকর্স বিল্ডাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান!

জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে শহরের রাস্তঘাট প্রশস্থ করা হবে

নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের বিজয় কেউ রুখতে পারবে না

শাহরাস্তিতে নৌকা পোড়ানোর অভিযোগে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

২২দিন পর নৌকা আর জাল নিয়ে জেলেরা
আজ থেকে চাঁদপুরের জেলেরা নদীতে নেমেছে মাছ ধরতে
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০১৬ ১১:৩৭:০৭
প্রিন্টঅ-অ+
শরীফ চৌধুরী
চাঁদপুর: ২২দিন পর নৌকা আর জাল নিয়ে আজ থেকে জেলেরা নদীতে নেমেছে মাছ ধরতে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ দিন নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আজ শেষ হয়েছে মাছ ধরা নিষেদ্ধের সময়, তাই জেলেরা তাদের নৌকা, জাল নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে নেমেছে।     মা ইলিশ রক্ষায় এ বছরের সংরক্ষণ কর্মসূচীর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিগত অন্যান্য বছরের সংরক্ষণ কর্মসূচীর সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এ বছরের সংরক্ষণ কর্মসূচী। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুশিল সমাজ এ বছরের সংরক্ষণ কর্মসূচীতে জেলেদের মাঝে ব্যাপকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির উপর জোর দিয়েছেন। এ জন্য সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।  আরো প্রশংসিত হয়েছে এ কর্মসূচীর সাথে সংযুক্ত জেলা টাস্কফোর্স, জেলা ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ সহ সংশি¬ষ্ট বিভাগগুলো। এদিকে ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচী চলাকালে সময়ে অসাধু জেলেরা যাতে নদীতে মাছ শিকারে নামতে না পারে সে জন্য সার্বক্ষণিক পুরো অভয়াশ্রম এলাকায় ছিল প্রশাসনের কড়া নজরদারী। পালাক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড  ও নৌ পুলিশের সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক অভিযান চলামান রেখেছিল। পাশাপাশি জেলেরা যাতে মা ইলিশ শিকার করতে নদীতে না যায়, সে জন্য তাদের সচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে সভা সমাবেশ অব্যাহত ছিল প্রশাসনের। ২২ দিনের কর্মসূচীতে জেলেদের জন্য খাদ্য কর্মসূচী হিসেবে ২০কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বৃহত্তর কুমিল¬া জেলার মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতি উপজেলায় ৬০জন করে জেলেকে সেলাই মেশিন ও ছাগল বিতরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
      চাঁদপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমান জানান, এ অভিযানের সফলতা তখনই আসবে, যখন ইলিশের ডিম থেকে জাটকা উৎপাদন হবে। আর সেই জাটকা আমরা রক্ষা করতে পারবো। এ বছরের মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচীর প্রায় ৯৯ভাগ সফলতা এসেছে। যদিও চরাঞ্চলের কিছু অসাধু জেলে নদীতে মাছ শিকারে নেমে ছিল। তারা ধরা পড়ে জেল-জরিমানাও দিয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ যাতে ডিম ছাড়তে পারে, এ জন্য এ সংরক্ষণ কর্মসূচী। এ সংরক্ষণ কর্মসূচীর পূর্ণাঙ্গ সফলতা আসবে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল দু’মাস জাটকা নিধন প্রতিরোধ করে জাটকাগুলোকে সাগরে প্রেরণ করতে পারলে এই জাটকা বড় ইলিশে রূপান্তরিত হয়ে নদীতে আসবে। তখনই এ অভিযানের চূড়ান্ত সফলতা আসবে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। প্রথমেই আমাদের ইলিশের রেনু রক্ষা করতে হবে। রেনু রক্ষা করতে হলে এখন থেকে বেহুন্দি, চরঘেরা ও কাপারি জাল নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইলিশের রেনু নষ্ট হয়ে গেলে জাটকা কম হবে। জাটকা কম হলে ইলিশের সংখ্যাও কমে যাবে। এদিকে অনেক জেলে সরকারের দেয়া খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় ২০কেজি করে চাল পায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় ২২ দিনের জন্য এ বছরই প্রথম সরকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে। আমাদের জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা রয়েছে ৪১ হাজার ৪২। এ বছরই প্রথম ২২ দিনের অভিযানে আমরা ৩৬ হাজার ৫শ’ ৭৫ জেলেকে ২০কেজি করে চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রদান করেছি। বরাদ্দের অপ্রতুল্যতার কারনে এ বছর ৪ হাজার ৪শ’ ৬৭ নিবন্ধিত জেলেকে এ খাদ্য কর্মসূচীর সহায়তায় আনতে পারেনি। আশা করছি আগামী বছর সরকারের এ খাদ্য কর্মসূচী পূর্ণাঙ্গভাবে সকল জেলেদের মাঝে বিতরণ করতে সক্ষম হবো।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর