বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০
logo
জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ভাবনা - ৪
আওয়ামী লীগের ইশতেহারই আমার ইশতেহার : ইউসুফ গাজী
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০১৬ ০৯:৪৮:১৪
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক
চাঁদপুর: নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করে সাংগঠনিক ভিত্তি দাঁড় করাতে চমৎকার বক্তা হিসেবে সুপরিচিত, বিশেষ স্বকীয়তা ও গুণাবলিতে সমৃদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা মোঃ ইউসুফ গাজী। চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী তো বটেই, এমনকি ভিন্ন মতের অনেকেরও প্রিয় নেতা হিসেবে এখনো সমাদৃত তিনি। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন সর্বত্র। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে সাক্ষাৎকারে নির্ধারিত ক'টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো।


চাঁদপুর কণ্ঠ : জেলা পরিষদ নির্বাচনে আপনার প্রার্থী হবার ইচ্ছা বা সিদ্ধান্ত কোন্ যৌক্তিকতার আলোকে-তা একটু খুলে বলুন।


মোঃ ইউসুফ গাজী : আমি আগেও দুবার জনপ্রতিনিধি ছিলাম। সেই আলোকেই মানুষের কাছাকাছি থাকা, মানুষের কল্যাণে কাজ করতেই আবারো জনপ্রতিনিধি হবার ইচ্ছা পোষণ করছি।


চাঁদপুর কণ্ঠ : জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বা সদস্যগণকে কি আসলে জনপ্রতিনিধি বলা ঠিক হবে, না স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ইউনিটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলার শীর্ষ কর্তাব্যক্তি বা কর্ণধার বলা ঠিক হবে?


মোঃ ইউসুফ গাজী : নির্বাচন পদ্ধতিটা ভিন্ন রকম হতেই পারে। প্রেসিডেন্ট যেমন এমপিদের ভোটে হয়ে থাকেন, তেমনি স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হলে এটাকে এক অর্থে জনপ্রতিনিধি বলাটা ভুল হবে না।


চাঁদপুর কণ্ঠ : এমপিদের সাথে স্ব স্ব এলাকার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের স্নায়ুবিক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব, এমনকি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যায়। অভিজ্ঞজন বলছেন, এমপিদের সাথে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব হতে পারে অনেক বেশি। আপনার কাছে কী মনে হয়?


মোঃ ইউসুফ গাজী : মাননীয় সংসদ সদস্যদের সাথে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব হওয়ার মতো তেমন কিছু আমি দেখছি না। আসলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যে যেখানে আছেন প্রত্যেকেরই চেষ্টা থাকে জনগণের ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করার। যার যার অবস্থান অনুযায়ী কাজ করলে কারো সাথে কারো দ্বন্দ্ব হবার কথা নয়। দ্বন্দ্ব হয় তখন যখন সাংবিধানিক বিষয়ের বাইরে কাজ করে কিংবা হস্তক্ষেপ করে।


চাঁদপুর কণ্ঠ : ধরুন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান যদি আপনি হয়েই যান, তাহলে এমপি হতে না পারার কষ্ট কি ভুলতে পারবেন?


মোঃ ইউসুফ গাজী : কষ্ট আসলে কোনোটাই নয়। শুধু এমপি হতে হবে এটাতে দুঃখ কষ্ট থাকার কথা নয়। জয় পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে হবে। আমার এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা রয়েছে।


চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে বললেও কোনো দলের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আশীর্বাদ প্রাপ্তির জন্যে কি আপনি তদবির করছেন বা করবেন?


মোঃ ইউসুফ গাজী : আমি যেহেতু দল করি সেহেতু দলের কাছে আমি সমর্থন প্রত্যাশা করতেই পারি। সেজন্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন পেতে দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।


চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে কি ভাবছেন?-যদি ভেবে থাকেন, তাহলে সেটা কী হতে পারে? (নাতিদীর্ঘভাবে বলুন)।


মোঃ ইউসুফ গাজী : আমার নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার বলতে কিছুই নেই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনগণের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়নের ধারায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তার অংশীদার হওয়াই আমার নিজের নির্বাচনী ইশতেহার। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ইশতেহারই আমার ইশতেহার।


চাঁদপুর কণ্ঠ : জীবনের যে পর্যায়ে এসে স্থানীয় সরকারের একটি অনেক বড় পদে নির্বাচন করার কথা ভাবছেন, প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বিতার কৌশল বাস্তবায়ন এবং নির্বাচিত হলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার শারীরিক ও মানসিক শক্তি আপনাকে কতোটুকু আনুকূল্য দিতে পারে বলে আপনি আশাবাদী?


মোঃ ইউসুফ গাজী : শারীরিক মানসিকভাবে আমি পূর্বের ন্যায় আছি। জনপ্রতিনিধি হবার যেহেতু আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে সেহেতু দায়িত্ব পালন আরো সহজ হবে।


চাঁদপুর কণ্ঠ : ওল্ড ইজ গোল্ড, প্রবীণ মানেই অভিজ্ঞ, আর অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই-এসব আপ্ত বাক্য প্রার্থী হবার ক্ষেত্রে আপনাকে বেশি প্রণোদনা দিচ্ছে, না সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেক বেশি চাপ আপনাকে প্রার্থী হতে বাধ্য করছে?


মোঃ ইউসুফ গাজী : কর্মী সমর্থকরাতো আছেই। আমি যেহেতু এমপি প্রার্থী ছিলাম, পৌরসভা ও উপজেলায় জনপ্রতিনিধি ছিলাম, জনগণের সাথে আমার একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তারাও চাচ্ছেন আমি স্থানীয় সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হই।


চাঁদপুর কণ্ঠ : অতীত জীবনে দেশের জন্যে এবং সমাজের জন্যে উল্লেখযোগ্য কী কী কাজ আপনি করেছেন?


মোঃ ইউসুফ গাজী : নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলাম। রাজনীতির বাইরে নানা সামাজিক কর্মকা-ে আগেও সম্পৃক্ত ছিলাম এখনও আছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও মুজিবাদর্শকে লালন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। দেশের ও সমাজের জন্য আরো অবদান রাখতে চাই।


চাঁদপুর কণ্ঠ : জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আপনি কখনো সক্রিয় কখনো নিষ্ক্রিয়। এ বিষয়ে কী বলবেন?


মোঃ ইউসুফ গাজী : আমি আওয়ামী লীগের লোক। এটাই আমার বড় পরিচয়। মান অভিমান কিছুটা ছিলো। হয়তো সে কারণে কিছুদিন নিষ্ক্রিয় ছিলাম। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি আরো শক্ত করতে আমার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগে কোনো গ্রুপিং নেই। আমরা সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ। জননেত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে এবং আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বর্তমানে চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ আছে।


চাঁদপুর কণ্ঠ : একান্তই নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন।


মোঃ ইউসুফ গাজী : এক ছেলে ৫ কন্যা সন্তানের জনক। স্ত্রী সুগৃহিণী। ছেলে ব্যবসা করছে। মেয়েদের দু জনের বিয়ে হয়েছে। বাকি ৩ মেয়ে পড়ালেখা করছে। সূত্র: চাঁদপুর কণ্ঠ

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর