মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০
logo
হাজীগঞ্জে আবর্জনা ও বালু ফেলে কৌশলে দখল করা হচ্ছে ডাকাতিয়া!
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০১৬ ০৯:২৮:২০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক
চাঁদপুর: হাজীগঞ্জে বালু মহালের বালু গিয়ে নদীতে পড়ে নাব্যতা কমছে ডাকাতিয়া নদীর। হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার ডাকাতিয়া নদীর উত্তর অংশের অধিকাংশ স্থানে আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর পানি ও পরিবেশ দূষণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এভাবেই ময়লা ফেলে ও বালু মহালের বালু গিয়ে পড়ে অল্প অল্প ভরাট করে কৌশলে দখল করা হচ্ছে ডাকাতিয়া নদীকে। অথচ নদী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে নদী পাড়ের মানুষগুলোর নজরে পড়েনি। আবার সওজের জমি দখল করে বেশ কয়েকটি বালু মহালের ব্যবসা করছে প্রভাবশালীরা।


জানা যায়, চাঁদপুর শহরস্থ বড়স্টেশন মোলহেড এলাকার মেঘনা-ডাকাতিয়ার মিলনস্থল থেকে শুরু হয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা ও হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি হয়ে কুমিল্লার লাকসামের দিকে চলে গেছে ডাকাতিয়া নদী। এ ডাকাতিয়া নদী প্রশস্ত কম হলেও এর বিস্তৃতি বিশাল এলাকাজুড়ে। বিশেষ করে বৃহত্তর নোয়াখালী (চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এলাকার বর্ষা মৌসুমের পুরো পানি ডাকাতিয়া ও গোমতী নদী ধরে মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে নামে। আবার সেচ মৌসুমে ডাকাতিয়ার পানিকে কাজে লাগিয়ে মেঘনা পূর্ব পাড়ে সুদূর কমিল্লা জেলার কিছু এলাকা পর্যন্ত ইরি ও বোরো চাষ করা হয়। আর এ জন্যে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ডাকাতিয়া নদীর গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে ডাকাতিয়া নদীকে দূষণ মুক্তসহ নাব্যতা রক্ষা করা ও দখল উচ্ছেদের বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্থানীয়রা।


সরজমিনে দেখা যায়, ডাকাতিয়া নদীর হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ বেশ অত্যাচার সহ্য করতে হয় এই নদীকে। বিশেষ করে বালু মহালের বালু নামানোর কাজে প্রতিদিন শতাধিক বালুবাহী ট্রলারের আনাগোনা, পাথরবাহী ট্রলারের আনাগোনা, বালু নামানের সময় বালু পড়ে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, নদী সরু হয়ে যাওয়া, মুরগির ময়লা, বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ময়লা, কসাইখানার ময়লাসহ ড্রেনের পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন আবর্জনা ফেলে ডাকাতিয়াকে মেরে ফেলা হচ্ছে। অথচ পৌর কসাইখানার পাশে পৌরসভার ডাস্টবিন থাকার পরেও অজ্ঞাত কোন্ কারণে নদীতে ময়লা ফেলা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়।


সরজমিনে আরো দেখা যায়, বাজারস্থ তরকারি পট্টির শেষ মাথা, পৌর কসাইখানার পাশের অংশসহ বেশ কটি স্থানে ময়লা ফেলার ফলে ময়লার স্তুপ জমে নদীর বেশ কটি স্থান অনেকখানি ভরাট হয়ে গেছে। এর পরেই সময়-সুযোগ মতো ভরাট অংশটুকু পাশের জমির মালিক দখলে নিয়ে নিবেন। আর এভাবেই কৌশলে অল্প অল্প করে ভরাট আর দখল হয়ে যাচ্ছে ডাকাতিয়া নদীর হাজীগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ অংশটুকু। কৌশলে ডাকাতিয়া নদী দখলের এই মহোৎসব চলছে বেশ ক' বছর ধরে।


সওজ হাজীগঞ্জ অফিস (উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়) সেকশন অফিসার (এসও) আবদুল্লা আল মামুন এ বিষয়ে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, নদীর পাড়ের বালু মহালগুলোর সম্পত্তি আমাদের। আর এগুলো থেকে ট্যাঙ্ আদায় করছে পৌরসভা। তবে সওজের স্থানে থাকা অবৈধ বালু মহালগুলো উচ্ছেদের জন্যে ইতিমধ্যে উপরে চিঠি দেয়া হয়েছে ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার নদীতে অবৈধ দখলদার রয়েছে এমন কথা স্বীকার করে আবদুল্লা আল মামুন আরো বলেন, উচ্ছেদের জন্যে অনেকখানি কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে।


নদীর ড্রেজিং ও দূষণ রোধে কাজ করে বিআইডবিস্নউটিএ। বিআইডবিস্নউটিএ (চাঁদপুর) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ডাকাতিয়া নদীর হাজীগঞ্জের এই অংশটুকুর এ অবস্থা আগে আমি জানতাম না। তবে এ বিষয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় আমরা তুলবো ও জেলা প্রশাসক স্যারের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে কাজে নামবো।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর