বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
সনাক ও টিআইবির আয়োজনে মানববন্ধনে বক্তাগণ
জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোজন অর্থায়নে ঋণ নয়, চাই ক্ষতিপূরণ
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০৯:৫৭:৪১
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক
চাঁদপুর: জলবায়ু অভিযোজনের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ এবং বরাদ্দকৃত তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর গতকাল ২৭ অক্টোবর ২০১৬ বিকেল ৪টায় শপথ চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। মানববন্ধনে সাংবাদিক, শিক্ষক, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


মানববন্ধনে সনাক সভাপতি কাজী শাহাদাত বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুর উপর যে অর্থ ঘোষণা করেছে তা ঋণ হিসেবে নয়, বরং উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার আহ্বান জানানোর জন্যেই আমাদের আজকের এই আয়োজন। সনাক চাঁদপুর জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। জলবায়ুর অর্থায়নে অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অস্বচ্ছতা দূর করতে হবে। জলবায়ু তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান।


চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি বিএম হান্নান বলেন, ক্ষতিকর জলবায়ু আমাদের পরিবেশ পরিম-লকে ধ্বংস করছে। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক ফোরামেও এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। জলবায়ুর অর্থায়ন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সনাক ও টিআইবি জলবায়ুর অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য যে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে চাঁদপুর প্রেসক্লাব তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করছে। তিনি জনগণের কল্যাণে জলবায়ুর অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করার জন্যে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী বলেন, জলবায়ুর অর্থায়ন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সনাক ও টিআইবি আজ জলবায়ুর উপর যে দাবি নিয়ে মানববন্ধন করছে আমরা তাদের সাথে একমত পোষণ করছি।


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র সমূহে প্রতিনিয়ত ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা ও তীব্র তাপমাত্রার প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রায় ২.৭ কোটিসহ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫ কোটি মানুষ পরিবেশ-শরণার্থী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশা করে। এ প্রেক্ষিতে মানববন্ধনে বক্তাগণ যে সকল দাবি জানান তা হলো : সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) হতে ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পরিকল্পিত অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল যথাসময়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া, উদ্বাস্তু ও দুঃস্থ নারী জনগোষ্ঠীর জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, জলবায়ুর অর্থায়ন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা, জলবায়ু অর্থায়নের উপর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, জনগণের কল্যাণে জলবায়ুর অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা, জলবায়ুর বরাদ্দকৃত তহবিল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ব্যবহার করা, দারিদ্র্য হ্রাসে উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ অব্যাহত রাখা, উন্নত দেশসমূহ কর্তৃক কার্যকর প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল সরবরাহে একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন, বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা উপস্থাপন করা, জলবায়ু অর্থায়ন শুধু ঋণ নয়, অনুদান হিসেবে দেয়া, নদী তীরবর্তী জনগোষ্ঠীর অভিযোজনের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়া।


এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সনাকের সহ-সভপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন, সনাক সদস্য ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, ক্যাব চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি জীবন কানাই চক্রবর্তী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি তপন সরকার। এ সময় বক্তাগণ বলেন, বৈশি্বক জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ক্ষতিপূরণ হিসেবে অনুদান পাওয়ার জন্য বক্তাগণ বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানান।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর