বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
মতলব উত্তরে মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতামূলক সভায় নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি
পুরোপুরিভাবে কারেন্ট জালের কারখানা বন্ধ করা হলে জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা সম্ভব
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০৯:৫৪:২১
প্রিন্টঅ-অ+
জেলেরা নিজেরা যদি সচেতন হয় তবে মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হবে : জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল
চাঁদপুর: গতকাল বৃহস্পতিবার মতলব উত্তর উপজেলার আলী আহাম্মদ মিয়া মহাবিদ্যালয় মাঠে মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের সভাপতিত্বে ও মতলব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আঃ রব প্রধানের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ রফিকুল ইসলাম। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌপুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমান, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন মজুমদার।

বক্তব্য রাখেন ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেশ, জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আঃ মালেক দেওয়ান, মৎস্যজীবী ও মোহনপুর ইউপি সদস্য মোঃ বাবুল হোসেন প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও মোহনপুর ইউপির স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামছুল হক চৌধুরী বাবুল, এখলাছপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোসাদ্দেক হোসেন মুরাদ, কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সোবহান সরকার সুভা, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ ইউনুছ আলী খান, আওয়ামী লীগ নেতা বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, ফরাজীকান্দি ইউপি সদস্য মাহবুব আলম মিস্টার, ছাত্রলীগ নেতা নোমান দেওয়ান, অলিউল্লাহ প্রমুখ।

নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, নৌপথে সকল প্রকার আইনকানুন পরিচালনা করে নৌপুলিশ। মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে এখন নৌপুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। আমি চাঁদপুরে এসে জেনেছি চাঁদপুর নৌপুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ইলিশের অভয়াশ্রম এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনেক জেলেকে আটক করা হয়েছে। জেলেদের আটক করে সাজা দেয়া আমাদের দায়িত্ব নয়, তারপরেও মা ইলিশ রক্ষায় তা করতে হচ্ছে। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। আমরা যে অভিযান করছি তা জেলেদেরকে সচেতন করার জন্য করছি।

তিনি আরো বলেন, কারেন্ট জাল আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। কারেন্ট জাল যেখানে উৎপাদন হয় সেখানে আইন প্রয়োগ করে পুরোপুরিভাবে যদি কারেন্ট জালের কারখানা বন্ধ করা হয় তাহলে দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। চাঁদপুরের নদীগুলোর ইলিশ দেশ-বিদেশে সমৃদ্ধ। এ ইলিশ পাবার ইচ্ছা থাকে সবার। চাঁদপুর হলো ইলিশের জন্য বিখ্যাত। তাই চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

তিনি জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরাও মানুষ। জেলেদের আটক করলে আমাদের কাছে কষ্ট লাগে। জেলেদের জেল-জরিমানা করা হলে ওই জেলের সংসার পরিবার-পরিজন অসহায় হয়ে পড়ে। আপনারা যদি এ ২২ দিন নদীতে নামা থেকে বিরত থাকেন তাহলে আপনাদের হাজতবাস খাটতে হবে না।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবদুস সবুর মন্ডল বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় এ পর্যন্ত আমরা সফল। জনপ্রতিনিধি ও জেলার মানুষ এ সফলতার ভাগিদার। মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে প্রকৃত জেলেরা নদীতে নামে না। পার্শ্ববর্তী জেলার সিজনাল কিছু অসাধু জেলে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসবে মেতে উঠে। জেলেরা নিজেরা যদি সচেতন হয় তবে মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। নদী আমাদের মাছ আপনাদের বলেই রক্ষা করতে হবে। এতে করে জেলেরা যেমন লাভবান হবেন, পাশাপাশি দেশ ইলিশ রপ্তানী করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর