শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০
logo
লোকবলের সঙ্কট
চাঁদপুরে প্রধান ডাকঘরসহ ১শ ৯৮টি ডাকঘর টিকে আছে সঞ্চয় ব্যাংকিং কার্যক্রমে
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০৮:৪০:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+
শরীফ চৌধুরী

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলার প্রধান ডাকঘরসহ ১শ’ ৯৮টি ডাকঘরের কার্যক্রমে বেহাল দশা। শাখা ডাকঘরগুলোর চিঠির বক্সগুলো জরার্জীণ ও পরিত্যক্ত। বর্তমানে চালু ১১টি সেবার মধ্যে শুধুমাত্র সঞ্চয় ব্যাংকিং কার্যক্রমে ডাকঘর টিকে আছে। এছাড়া ই-সেন্টারের কার্যক্রম রয়েছে। অন্যদিকে ২০১০সালে আগস্ট মাসে ইএমটিএম নামে একটি শাখা চালু করলেও প্রচার প্রচারণা কম থাকায় এই প্রজেক্টটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে ডাকঘরগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা খুবই অপ্রতুল।
চাঁদপুর জেলায় ১শ’ ৯৮টি ডাকঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ডাকঘর ১টি, উপজেলা ডাকঘর ৬টি, সাব ডাকঘর ২২টি ও শাখা ডাকঘর রয়েছে ১শ’ ৬৯টি। এসব ডাকঘরে বর্তমানে সঞ্চয় ব্যাংকিং, ইএমটিএম ও ই-সেন্টার কার্যক্রম চালু রয়েছে। তাও আবার ইএমটিএম প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। এক কথায় ডাকঘরের সেবা প্রদানে কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এদিকে জেলায় প্রধান ডাকঘরে ১জন পোস্ট মাস্টার রয়েছে। ৪জন সহকারী পোস্ট মাস্টার থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১জন। ৬জন উপজেলা পোস্ট মাস্টার থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১জন। পোস্টম্যান থাকার কথা ৫৬জন সেখানে রয়েছে ৩৯ জন। পোস্টাল অপারেটর ৩৮জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৭জন। একজন কর্মকর্তা ২ থেকে ৩টি ব্রাঞ্চের কাজ করতে হচ্ছে। এতো কমসংখ্যক লোকবল দিয়ে কাজ চালানো খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে পড়ছে বলে জানান প্রধান ডাকঘরের কর্মকর্তারা। অপরদিকে শাখা ডাকঘরগুলোতে ইডিএমপিএস রয়েছে ৫জন, ইডিএ (এক্সট্রা ডিপার্টমেন্ট এজেন্ট) রয়েছে ১শ’ ৪৬ জন, ইডিডিএ (এক্সট্রা ডিপার্টমেন্ট ডেলিভারি এজেন্ট) রয়েছে ১শ’ ৪৯জন, নৈশ প্রহরী ৮জন, চৌকিদার ২জন, ঝাড়–দার ৬ জন।  এ সকল কর্মচারী সরকারী নিয়োগকৃত না হলেও তাদের বেতন ভাতা ডাকঘর থেকেই দেয়া হয়। অথচ জেলার প্রধান ডাকঘরটি দ্বিতীয় শ্রেণির। কিন্তু এর কার্যক্রম চলে প্রথম শ্রেণিরমত। এখানে কোন গ্রেজেটেট কর্মকর্তা নেই, তাই কাজের অনেক ধরনের অসুবিধায় পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন পোস্ট অফিসের কর্মচারীরা। এছাড়াও লোকবলের সঙ্কটের কারনে কাজের অনেক ব্যাঘাত ঘটছে।
চাঁদপুর জেলা পোস্ট মাস্টার মো.আলী ভূঁইয়া জানান, প্রযুক্তি নির্ভর বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমান সরকার ডাকঘরগুলোতে ২০১০সালের আগস্ট মাসে ইএমটিএম নামের একটি শাখা চালু করেছে। কিন্তু প্রচার প্রচারণা কম এবং মোবাইলে বিকাশ চালু হওয়ার ফলে এই প্রজেক্টটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি জানান, প্রযুক্তি ও আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। সরকার বর্তমানে পুণরায় আবার পোস্ট অফিসের প্রতিটি শাখায় ই-সেন্টার নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে। ইতিমধ্যে জেলার ৬৮টি শাখা ডাকঘরে এই ই-সেন্টারের কার্যক্রম চালু হয়েছে। বর্তমানে ডাকঘরগুলোতে ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের আদান-প্রদান একেবারেই কমে গেছে। এখন শুধুমাত্র অফিসিয়াল চিঠি, মামলা মোকদ্দমার চিঠি ও কিছু নিয়োগপত্র দিয়েই চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম। চাঁদপুর থেকে শুধুমাত্র ট্রেনের মাধ্যমে ডাক বিভাগের চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়। আগের মত লঞ্চ স্টিমার বা নিজস্ব বাহনের মাধ্যমে আদান প্রদান হয় না। তারা দাবী করেন অন্তত নৌ-পথে ডাক বিভাগের কার্যক্রমটি পুণরায় চালু হলে অনেক ভালো হত। তিনি আরো জানান, শুধুমাত্র ভালোভাবে চালু রয়েছে ডাকঘরের সঞ্চয় ব্যাংকিং এর কার্যক্রম। এই সঞ্চয় কার্যক্রমে প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকার লেনদেন হয়। এই ব্যাংকিং কার্যক্রমটিই টিকিয়ে রেখেছে ডাক বিভাগকে। অথচ কাগজে কলমে এখনো ডাকঘরে ১১টি মূল সেবা চালু রয়েছে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে ডাক বিভাগ দেশি-বিদেশি সাধারণ চিঠি, পোস্টকার্ড, রেজিস্ট্রি চিঠি, ডাকটিকিট বিক্রয়, পোস্টাল অর্ডার, মানি অর্ডার, পার্সেল, জিএমই (গ্রান্টেড মেইল এক্সপ্রেস), ইএমএস (এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস), ভিপিপি (ভ্যালু পেবল পার্সেল) ইস্যু ও বিলি, ভিপিএল (ভ্যালু পেবল লেটার), বীমা পার্সেল, স্মারক ডাকটিকিট বিক্রয়, মোবাইল মানি অর্ডার, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক, ডাক জীবনবীমা, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম জমা, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে টাকা পাঠানো ও নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি। এই সেবার মধ্যে অল্পকয়েকটি সেবা চালু থাকলেও বেশীরভাগ সেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর