বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০
logo
মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপির আন্তরিক প্রচেষ্টা
২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বড়কুল-টোরাগড় ডাকাতিয়া নদীর উপর ব্রিজ হচ্ছে
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:৩৭:১৬
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপির আন্তরিক প্রচেষ্টায় সকল জল্পনা- কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড়কুল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের ব্রিজ হচ্ছে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে। এজন্যে পত্রিকায় টেন্ডার দিয়েছে জেলা সড়ক বিভাগ। এ সুখবর ছড়িয়ে পড়লে হাজীগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে। আলোচনায় আসে আমাদের স্বপ্নের ব্রিজ হচ্ছে। তার জন্য চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকর সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তকে অভিনন্দন এবং তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
    হাজীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো বড়কুল-টোরাগড় খেয়াঘাটের উপর ব্রিজ নির্মাণের। গত ১৭ জানুয়ারি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম বক্তব্যে এ ব্রিজটি করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। মাত্র  ৯ মাসের মাথায় বহু কাক্সিক্ষত এবং বিশাল অর্থে এ ব্রিজের টেন্ডার আহবান করা হয়। যা মেজর রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকার সবচে’ বড় অর্থের ব্রিজ হলো এটি।
    গত ২৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক জনকণ্ঠের ১২ পাতায় এ টেন্ডর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় হাজীগঞ্জের বড়কুল-টোরাগড় খেয়া ঘাটের ডাকাতিয়া নদীর উপর নতুন ব্রিজ নির্মাণ করার। ২৪ অক্টোবর টেন্ডার ড্র-এর শেষ তারিখ। কাজ শুরু হবে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে।  
    হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকায় নদীর দক্ষিণাঞ্চলের সাথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের জন্য ডাকাতিয়া নদীয় উপর ৭টি ব্রিজ নির্মাণ করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। কিন্তু আরেকটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ হলো টোরাগড়-বড়কুল খেয়াঘাটের ব্রিজ। হাজীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল বড়কুল, রায়চো, দক্ষিণ বড়কুল, আডুলী, এন্নাতলি, রসুলপুর, মৈশামুড়া, পালিশারা, আহম্মদপুর, মোহাম্মদপুর, তারাপাল¬া, দিকচাইল. মোল¬াড়হর, সর্বতারা গ্রামের লাখো মানুষের যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক টোরাগড়-বড়কুলের। কিন্তু এ সড়কের ডাকাতিয়া নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঐ সমস্ত গ্রামের লাখো মানুষসহ পার্শ্ববর্তী শাহরাস্তি, রামগঞ্জ উপজেলার একাংশের মানুষকে। ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর পাশে আসতে হলে রয়েছে খেয়াঘাট। প্রতিদিন উক্ত খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী এবং ব্যবসায়ীরা। নদী পারাপারের জন্য খেয়া ঘাটে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। বিশেষ করে গর্ববতী মহিলা ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদেরকে নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। সময়মতো নদী পার হতে না পেরে অনেক রোগী খেয়া ঘাটে মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা যায়। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা সময় মতো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে না পেরে ক্লাস ও পরীক্ষায় বিড়ম্বনার শিকার হয়। তাছাড়া খেয়া ঘাটে বসার কোনো স্থান না থাকায় শুস্ক মৌসুমে রোদে পুড়তে হয় এবং বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়।
    মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের যে কোনো আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে অত্র অঞ্চলের এ সকল সাধারণ মানুষ। স্বাধীনতার ৪৪ বছরে যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা তা হয়নি। যা হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি মহোদয়ের আমলেই।
    বর্তমান সরকার গত ৬ বছরে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। যার ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান। বর্তমান ডিজিটাল যুগে দেশ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এ ব্রিজটির কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে অত্র অঞ্চলগুলো। দেশের উন্নয়নের সাথে অত্র অঞ্চলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি ছিলো টোরাগড়-বড়কুল রাস্তার ডাকাতিয়া ব্রিজ। এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে নদীর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সাথে হাজীগঞ্জ বাজারসহ দেশের সব অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
    এ ব্রিজটি নির্মাণের জন্যে দীর্ঘ বহু বছর যাবৎ দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সরকারের আমলে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার হয়নি। তাই অত্র হাজীগঞ্জ-শহরাস্তি নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম উক্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের এ প্রাণের দাবিকে আমলে নিয়ে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রিজটির টেন্ডার আহবান করা হয়েছে।
    জেলার প্রধান প্রকৌশলী জিএম মজিবুর রহমান বলেন, আমাদের এমপি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলামের আন্তরিক চেষ্টায় আমরা এ ব্রিজের টেন্ডার দেয়া সম্ভব হয়েছে। আমাদের এমপি স্যার এলাকার উন্নয়নের জন্য সব সময় আন্তরিক। এ ধরণের এমপি দেশের মধ্যে খুব কম পাওয়া যায়। এলাকার মানুষ সহযোগিতা করলে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করবো এবং ১০ জানুয়ারি ২০১৮ সালের মধ্যে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারবো।
    হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ফুয়াদ হাসান টোরাগড়-বড়কুল খেয়াঘাটে ব্রিজ করার জন্য আমাদের এমপি স্যার অনেক আন্তরিক। এ জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরের যোগাযোগ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করেছে। তারাই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। আশা করি, ভালো ঠিকাদার কাজ পেলে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর