শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০
logo
দীর্ঘ ১০ বছরেও বন্ধ হয়নি চাঁদপুর সেতুর টোল আদায়
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:৫৬:২৭
প্রিন্টঅ-অ+
শরীফ চৌধুরী

চাঁদপুর: দীর্ঘ ১০ বছরেও বন্ধ হয়নি চাঁদপুর সেতুর টোল আদায়। চাঁদপুর জেলার দায়িত্বরত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের কাছে বহু আবেদন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি পেশ করেও এর কোন সুরাহ হয়নি। চাঁদপুর-রায়পুর-বেগমগঞ্জ সড়কে ডাকাতিয়া নদীর উপর ‘চাঁদপুর সেতু’ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য আর্শিবাদ হলেও এখন তা বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছরেও বন্ধ না হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের কাছে সেতুটি প্রশ্নবিদ্ধ। পাশাপাশি একই নদীর উপর এই সেতুর পরে তৈরী হওয়া চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার-পুরাণ বাজার সেতু, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সেতুর টোল আদায় আরো ৫/৬ বছর পূর্বে বন্ধ হয়ে গেছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অতি সম্প্রতি মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চাঁদপুর সেতুর টোল আদায় বন্ধের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নিকট বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। মন্ত্রী তাৎক্ষনিক জেলা প্রশাসক মো. আব্দু সবুর মন্ডল ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে টোল আদায় বন্ধের জন্য লিখিত আবেদন তৈরী করে তার কাছে দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি সেতু মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বাস দেন।
          চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-রায়পুর সেতুটি ২০০৫ সালের ১৭ মার্চ উদ্বোধন করা হয়। এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরপর থেকে এই সেতুটি নিয়মিত ইজারা দিয়ে আসছে চাঁদপুর সড়ক বিভাগ। সর্বশেষ ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের ইজারা শেষ হলেও এখন পর্যন্ত আর কোন ঠিকাদার ইজারা নেননি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ১১বার দরপত্র আহবান করা হলেও কোন ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় করেননি।
          ফরিদগঞ্জ উপজেলার পরিবহন শ্রমিক নেতা আঃ রাজ্জাক রাজা জানান, চাঁদপুর-রায়পুর সেতু নির্মাণ হওয়ায় আমরা একে আমাদের জন্য আর্শিবাদ মনে করেছি। কয়েক বছর টোল আদায় হবে, তারপর বন্ধ এমন আশা ছিলে এই অঞ্চলের মানুষের। কিন্তু এখন এই সেতু ১০ বছরেও টোল আদায় বন্ধ না হওয়া সকলের জন্য বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস , মালবাহি ট্রাক, সিএনজি অটোরিক্সাসহ কাঁচা মাল বহনকারী ভ্যান গাড়ী এ সেতু দিয়ে চলাচল করে। জেলার সকল সেতুর টোল আদায় বন্ধ হলেও অদৃশ্য কারণে এটি বন্ধ হচ্ছে না। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেও কোন সুরাহ পাইনি।
          চাঁদপুর সড়ক ও জপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে আমরা সর্বশেষ ১১তম দরপত্র আহবান করেছি। বর্তমানে সড়ক বিভাগ ও দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে লোক দিয়ে সেতুর টোল আদায় করা হচ্ছে। টোল আদায় বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং মন্ত্রণালয়। তবে ফরিদগঞ্জ উপজেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করবো। টোল আদায় বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চাঁদপুরের দায়িত্বরত মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি নির্দেশনাও প্রদান করেছেন।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর