শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০
logo
জেলেরা নৌকা ও জাল ডাঙ্গায় তুলে নিয়েছে
চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের কর্মসূচি চলছে
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:৩০:২২
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর; প্রজনন মৌসুমে জাতীয় সম্পদ রূপালী ইলিশ রক্ষায় অভিযান শুরু হওয়ায় চাঁদপুর মাছঘাটে এখন চলছে নীরবতা। সরকার মা ইলিশ রক্ষায় গত ১২ অক্টোর  থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ প্রজনন এলাকার চাঁদপুর নৌ-সীমায় পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা এবং ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, বাজারজাত ও মজুদকরণ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। এই অভিযান সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল ও পুলিশ সুপার শামসুন্œাহার মা ইলিশ রক্ষার এবছর বিগত দিনের চেয়ে আরো বেশি কঠোর হয়েছেন। জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন সভা সেমিনারে তারা জানিয়েছেন ২২ দিনের অভয়াশ্রম চলাকালে ইলিশ নিধন ও ক্রয়-বিক্রয় এবং মজুদের সাথে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে। অভিযান সফল করার জন্য টাক্সফোর্সের কমিটি গঠন সহ নদী তীরবর্তি এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নদী সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে জেলেদের নিয়ে ইলিশ আড্ডা অনুষ্ঠান করেছেন। জেলেরা ও এবার মা ইলিশ নিধন না করার শর্তে শপথ গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ইলিশ রক্ষার কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা টাস্কফোর্সের সভা করা হয়েছে। এছাড়া মা ইলিশ রক্ষায় জেলে ও জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ২১ থেকে ২২টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। গত ৯ অক্টোবর হাইমচরে প্রায় ২ থেকে আড়াই শ’ জেলে নৌকা নিয়ে নৌ-র‌্যালী করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে বরফকল গুলো বন্ধ থাকবে। নদীতে কোস্টগার্ডের দু’টি টহল টিম দিনে ও রাতে টহল দিচ্ছে। নৌ-পুলিশ, জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম, মৎস্য বিভাগের মোবাইল টিম পৃথক নৌকা নিয়ে টহলে রয়েছে। উপরে পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারীতে খবর নিচ্ছে। কোন জেলে আইন অমান্য করলে সবার জন্য সর্বোচ্চ সাজা ২ বছর জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমান আরো জানান, জেলেরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। তারা মাছ ধরবে না বলে ইউনিয়ন চেয়াম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে অঙ্গিাকার করেছে।
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ইলিশের আমাদানিতে রমরমা অবস্থা শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যার বছর যে পরিমাণ ইলিশ এই মাছঘাটে পরিলক্ষিত হয়েছিল এর পর থেকে তেমনটি আর দেখা যায়নি। দীর্ঘ বছর পর এ বছরই চাঁদপুর মাছঘাট রূপালি ইলিশের ঝিলিকের হেঁসে উঠেছিল। ১১ অক্টোবর রাত ১২ টা পর্যন্ত মাছঘাটে পা রাখার তীল পরিমাণ স্থান ছিলনা । শুধু চাঁদপুরের নয় বিভিন্ন জেলার মানুষ ছুটে এসেছে ছিল চাঁদপুরের ইলিশ কেনার জন্য মাছঘাটে। মা ইলিশ রক্ষার কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১২ অক্টোবর থেকে বড় স্টেশন মাছঘাট যেন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী তো দুরের কথা একজন শ্রমিক পর্যন্তও ঘাটে বিচরণ করছে না। জেলেরা তাদের নৌকা ও জাল ডাঙ্গায় তুলে ফেলেছেন। ২২ দিনের এই অভায়াশ্রমকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসায়ী ও জেলেরা এখন কর্মজীবন থেকে সরে রয়েছে। ২০১৫ সালের মা ইলিশ রক্ষার কার্যক্রম সফল হওয়ায় এ বছর চাঁদপুর মাছঘাটে প্রচুর ইলিশের আমাদানি হয়েছে বলে প্রশাসন থেকে শুরু সর্বস্তরের মানুষ একথাই বলছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর