মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০
logo
পূজামন্ডপে বিষাদের ছায়া
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:৫৭:০৬
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। গত ৭ অক্টোবর স্বায়ংকালে দেবী আরাধনা ও অধিবাস অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। গতকাল ১১ অক্টোবর মঙ্গলবার দশমী বিহিত-পূজা সমাপন ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় উৎসবের। এদিন প্রতিটি পূজাম-পেই বিষাদের সূর নেমে আসে। দেবী চরণে ভক্তদের আনন্দ-উৎসাহ যতোটা ছিলো, দেবী বিদায়ে ততোটাই ব্যথিত ছিলো তাঁর ভক্তকুল। এদিন সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী বিসর্জন পর্ব শেষ হলেও দেবীর কাঠামো বির্সজন অনুষ্ঠিত হয় বিকেলে। কোনো কোনো স্থানে এই বিসর্জন পর্ব রাত অবধি চলে। বিসর্জন পূর্বে দুপুরের পর থেকেই প্রতিটি দুর্গা ম-পে চোখে পড়ে নারীদের ভিড়। সব বয়সের নারীরাই ম-পে ভিড় জমান বিদায় বেলায় দুর্গতিনাশিনী, শান্তি প্রদায়িনী শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর চরণে প্রণাম জানাতে। আগত ভক্তবৃন্দ পরম শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীকে তেল-সিঁদুর পরিয়ে দেন। অনেকে আবার শ্রী শ্রী দুর্গাদেবীকে বরণ করেন পরম শ্রদ্ধার সাথে। এ সময় অনেকের নয়ন অশ্রুপূর্ণ হয়ে উঠতে দেখা যায়।
এদিন নারীরা মাকে তেল-সিঁদুর পরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। তাদের সিঁথিতেও তেল-সিঁদুর পরিয়ে দেন। অনেক ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের পাঠ্যপুস্তক নিয়ে আসেন দেবী চরণ স্পর্শে যেনো তাদের বিদ্যাবুদ্ধি বৃদ্ধি পায়-এ আশীর্বাদ নিতে। গতকাল বিকেল ৩টায় চাঁদপুর শহরস্থ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায় সমবেত নারীদের ব্যাপক উপস্থিত। তারা একে অপরকে তেল সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ ভীষণ বদনে করুণ দৃষ্টিতে দেবীর মুখপানে তাকিয়ে রয়েছেন। মনে হচ্ছে সংসারের প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতেই এই করুণ দৃষ্টি। অদূরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রী মৎ সেবাময়ানন্দজী মহারাজ (উৎপল)। তিনি প্রতিমা বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জানতে চাওয়া হলো মহারাজ-পূজা কেমন কাটলো? তিনি সানন্দচিত্তে জানালেন, দেশের কল্যাণ আর মানুষের মঙ্গলের জন্যে দেবী আরাধনা করেছি। পূজার প্রতিটি দিনই ছিলো আনন্দপূর্ণ। আগত ভক্তবৃন্দের মাঝেই খুঁজে পেয়েছি মাতৃরূপী শ্রী শ্রী দুর্গাদেবীকে। সকালেই মায়ের বিসর্জন হয়ে গেছে। এখন শুধু বিসর্জন হবে মায়ের কাঠামো। এ বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিকেল ৫টা হতে রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন পর্ব শেষ করতে। সে অনুযায়ী অনেক পূজা মন্ডপই শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর কাঠামো বিসর্জন দেয়ার জন্যে দুপুরের পর থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে এ বছর দেবী ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসেন। আবার ঘোড়ায় চড়েই কৈলাশ অর্থাৎ স্বামীর বাড়ি ফিরে যান। সেই বিশ্বাস মতে দেবীর বিদায়ের দিনে সারাদিন জুড়েই ছিলো বৈরি আবহাওয়া আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। এই বৃষ্টির মধ্যেই বিকেল ৫টায় প্রতিমা নিয়ে শহরে শুরু হয় বিসর্জন পর্বের শোভাযাত্রা। এ শোভাযাত্রায় প্রতিমাসহ অংশ নেন শ্রী শ্রী কালীবাড়ি পূজাম-প, গোপাল জিউড় আখড়া পূজাম-প, মিনার্ভা পূজাম-প, পালপাড়া পূজাম-প, ঘোষপাড়া পূজা ম-প, স্বর্ণখোলা হরিজন পল্লী পূজাম-জ, বড় স্টেশন হরিজন পল্লী পূজাম-প, গুহ বাড়ি পূজাম-প। এছাড়া কু-ের বাড়ি পূজাম-পও প্রতিমা ছাড়া ঘট নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রা পর্ব শহরের প্রধান প্রধান সড়ক অতিক্রম শেষ করে শহরের বিসর্জন স্থল মেথা রোডের মুখার্জীঘাটে জড়ো হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে। তারপর ধীরে ধীরে সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলা সহকারে ডাকাতিয়া নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়। চাঁদপুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমের প্রতিমা বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে আশ্রমের পুকুরে বিসর্জন দেয়া হয়।
এছাড়া পুরাণবাজারের হরিসভা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়নি। তাদের প্রতিমা মন্দিরেই শোভিত হবে এবং নিত্যপূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হবে। পুরাণবাজার বারোয়ারী পূজাম-পের প্রতিমা রাত ১০টায় মেঘনা নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়। বিসর্জন পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিলো প্রশংসনীয়। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপক্ষো করেও রাস্তার দু পাশে সারিবদ্ধভাবে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ উপভোগ করেন বিসর্জন পর্বের শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ডেক সেটের বিকট আওয়াজ শোনা যায় নি। দেখা যায় নি অসঙ্গতিপূর্ণ নৃত্য।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর