মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০
logo
বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার তানিয়া ছয় মাস স্কুলে যায় নি তদন্তে ঘটনাস্থলে প্রশাসন
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:৪৪:২২
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের লেডী প্রতিমা মিত্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ক শাখার (রোল-১৫) ছাত্রী তানিয়া আক্তার সানজিদা (১৩)কে উত্ত্যক্তকারী বখাটে মোঃ হানিফ গাজীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের নির্দেশে গতকাল ১১ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্কুল ছাত্রী তানিয়ার শহরের কোড়ালিয়া রোডস্থ বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত পুলিশকে এডিসি মোহাম্মদ আব্দুল হাই তাৎক্ষণিক এ নির্দেশ দেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী ও মডেল থানার এসআই মাহাবুব মন্ডল। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) মোহাম্মদ আব্দুল হাই ইভটিজিংয়ের শিকার স্কুল ছাত্রী তানিয়া আক্তার সানজিদা ও তার মা আসমা আক্তারের বক্তব্য শুনেন। প্রথমে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্কুল ছাত্রী তানিয়া আক্তার সানজিদা প্রকৃত ঘটনা খুলে বলে।
তানিয়ার মা আসমা বেগম জানান, বখাটে হানিফের অত্যাচারে তার মেয়ে ৬ মাস যাবৎ স্কুলে যেতে পারছে না। তাদের ঘরের চালে প্রতিদিন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। মেয়ে তানিয়া ঘর থেকে বের হলে এলাকার বখাটেরা তানিয়াকে হানিফ বলে চিৎকার করতে থাকে এবং উত্ত্যক্ত করে। তানিয়ার মামা জাকির হোসেন জানান, আমাকে এলাকায় সালিসের কথা বলে ঢাকা থেকে এনে বসবে বলেও বসছে না। এলাকার অনেকে কয়েকবার বসেও এর কোনো সমাধান করতে পারেননি। বখাটে যুবক হানিফ গাজী আমার ভাগ্নেকে প্রেমেরও প্রস্তাব দেয়। এসব কথা শুনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) মোহাম্মদ আব্দুল হাই বখাটে হানিফ গাজীর বাড়িতে যান। সেখানে তার পিতা চারু গাজীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় অভিযুক্ত বখাটে হানিফ গাজী বাড়িতে ছিল না। পরে হানিফ গাজীর পিতা চারু গাজীকে নিয়ে স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে যান। সেখানে উভয়ের পিতা-মাতার সামনে পরবর্তীতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না মর্মে চারু গাজী প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় কিছু পত্রিকায় স্কুল ছাত্রী তানিয়াকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাটি প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। তাঁর নির্দেশে আমি এখানে তদন্তে এসেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বখাটে ছেলে হানিফ গাজী ও তার পরিবারকে থানায় লিখিতভাবে অঙ্গীকার করতে হবে ভবিষতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। ঘটলে তার পরিবার দায়ী থাকবে। এখন থেকে তানিয়া নিয়মিত স্কুলে যাবে।
এ ব্যাপারে মডেল থানার এসআই মাহাবুব মন্ডল জানান, হানিফের পিতা চারু গাজীকে বলেছি তার ছেলে হানিফকে নিয়ে থানায় আসতে। তাদের থেকে এ ধরনের ঘটনা ভবিষতে ঘটবে না এমন অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। নইলে হানিফ ও তার পিতা চারু গাজীকে গ্রেফতার করা হবে। এ ব্যাপারে হানিফের পিতা চারু গাজী বলেন, ঘটনার পর এলাকায় সালিসরা আমাকে নিয়ে কয়েকবার বসেছে। তবে এর কোনো সমাধান এখনও হয়নি। সালিসরা আমার কাছ থেকে ৩শ' টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে এখন পর্যন্ত এর সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমি আমার ছেলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চাই। আগামী দিনে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না বলে নিশ্চয়তা দিতে পারি।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ জানায়। এলাকাবাসী বলেন, বখাটে হানিফ বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে এ ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে। তানিয়াকে উত্ত্যক্ত ও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করার জন্যে হানিফের বিচার দাবি করে এলাকাবাসী।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর