মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০
logo
২২ দিন নদীতে জাল ফেলা যাবে না । আজ মধ্য রাত থেকে অভিযান
কাল থেকে শুরু হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:৩১:১১
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: এবার ইলিশের প্রজনন সময় হচ্ছে আগামীকাল ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন। এই সময়ের মধ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে কোনো ধরনের জাল ফেলা যাবে না। অর্থাৎ ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা, ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, বাজারজাত ও মজুদকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় মা ইলিশ যাতে এতদঅঞ্চলে এসে নির্বিঘ্নে বিচরণ ও ডিম ছাড়তে পারে সে জন্যে সরকারের এ অভয়াশ্রম কর্মসূচি।
বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ভরা পূর্ণিমার আগের ৪দিন ও ভরা পূর্ণিমার ১দিন এবং পরের ১৭দিন এই ২২দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। আর এবার এ সময়টা হচ্ছে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর। মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মৎস্য বিভাগ ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা করে এবং ইলিশ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ আলোচনা করে এবার ইলিশের প্রজনন সময় এ ২২দিন নির্ধারণ করে। এর আগে ২০১৪ সালে প্রজনন সময় ছিলো ১১দিন এবং গতবছর ছিলো ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫দিন। এবার সময় পরিবর্তন করে আরো ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। যাতে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্যে গভীর সমুদ্র থেকে নদ-নদীর মিঠা পানিতে এসে বিচরণ এবং অবাধে ডিম ছাড়তে পারে। সরকার এই ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা সময়ে চাঁদপুরসহ দেশের তিন লাখ ৫৬ হাজার ৭শ' ২৩জন জেলেকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ২০ কেজি করে চাল দিবে। যা এবারই প্রথম। মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি চলাকালে চাঁদপুরের ৪১ হাজার ১০ জন জেলে এ খাদ্য সহায়তা পাবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা টাস্কফোর্সের সভা করা হয়েছে। এছাড়া মা ইলিশ রক্ষায় জেলে ও জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে ২১ থেকে ২২টি সভা করা হয়েছে। সভায় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। গত ৯ অক্টোবর হাইমচরে প্রায় ২ থেকে আড়াইশ' জেলে নৌকা নিয়ে নৌ-র‌্যালী করেছে। আজ মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে অভিযান শুরু হবে। নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে বরফকলগুলো বন্ধ থাকবে। নদীতে কোস্টগার্ডের দু'টি টহল টিম দিনে ও রাতে টহল দিবে। নৌ-পুলিশ, জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম ও মৎস্য বিভাগের মোবাইল টিম পৃথক পৃথক নৌকা নিয়ে টহলে থাকবে। উপরে পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারিতে খবর নিবে। মাছ ধরে কিনা, পাচার করে কিনা, মাটিতে পুতে এবং বরফ দিয়ে রাখে কিনা, কেটে লবণ দিচ্ছে কি না এরকম খবর পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ আইন অমান্য করলে সবার জন্যে সর্বোচ্চ সাজা ২ বছর জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরো জানান, জেলেরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। তারা মাছ ধরবে না বলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে অঙ্গীকার করেছে।
জাতীয় মৎস্যজীবী চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি তছলিম বেপারী জানান, এবার দীর্ঘ সময় নদী ও সাগরে মাছ ধরার পর এখন জেলেরা নৌকা ও জাল নিয়ে উপরে উঠে আসতেছে। তারা বাড়ি চলে যাবে। অনেকে সুতার জাল ভেঙ্গে ফেলেছে। এবার পর্যাপ্ত মাছ পাওয়াতে জেলেরা খুশি। তাই তারা অভিযানের সময় সকল জাল নদীতে ফেলা থেকে বিরত থাকবে। বিভিন্ন ইউনিয়নে মা ইলিশ রক্ষায় টাঙ্ফোর্সের সভায় জেলেরা অঙ্গীকারও করেছে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান কালু ভঁূইয়া জানান, আমার বক্তব্য স্পষ্ট। মাছঘাটে এক ছটাক ইলিশও আমদানি-রফতানি হবে না, এটা নিশ্চিত। সরকারের উক্ত কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। তিনি জিয়ল মাছ ক্রয়-বিক্রয় এবং আমদানি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে বরফ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়টির প্রতি জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর