বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০
logo
ফরিদগঞ্জের গ্রামীণ সড়কগুলোর যন্ত্রদানব টাক্টর চলাচলের কারণে বেহাল দশা
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:১৬:৩০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য চীন থেকে দুই দশক পুর্বে পাওয়ার টিলারের আমদানী  করা হয় । সেই পাওয়ার টিলার এখন টাক্টর নামে রাস্তার রাজা হয়ে দাড়িয়েছে। ধান ক্ষেতের জন্য উপযোগী করে তৈরিকৃত এসব পাওয়ার টিলার  যন্ত্র রাস্তায় মালামাল পরিবহনে সহায়ক শক্তি হিসেবে গ্রামগঞ্জে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করায় অনেকেই এটিকে ব্যবসায়ীক কাজে লাগাচ্ছেন। ফরিদগঞ্জ উপজেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা ইটের ভাটা এবং বালি  আনা নেয়ার জন্য অন্যতম যানে পরিনত হয়েছে।
    কিন্তু ধান ক্ষেতের পরিবর্তে সড়কে উঠে আসার কারণে এবং চালকদের বেপোরোয়া চালানোর কারণে  এই যন্ত্রদানব এখন সড়কের চলাচলকারী যাত্রীদের কাছে আতংকের গাড়ীতে  পরিনত হয়েছে। সড়ক দূর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলোর দায় বেশি। গত এক বছরে ফরিদগঞ্জসহ চাঁদপুরের অধিকাংশ স্থানে টাক্টরের কারণে দূর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায়, চাঁদপুর পুলিশ সুপার সড়কে টাক্টর চলাচল নিষিদ্ধ  ষোষনা করেন। প্রভাবশালীদের চাপ সত্ত্বেও তার সাহসী পদক্ষেপে বিভিন্ন স্থানে টাক্টর চলাচল বন্ধ হলেও ফরিদগঞ্জে এখনো তা বন্ধ হয়নি। পুলিশের কিছু দিন পর পর অভিযানের কারণে চলাচল মূল সড়কে চলাচল কিছুটা কমলেও অভিযানে শিথিলতা এলেই চলাচল আগের অবস্থানে ফিরে যায়। চাঁদপুর- ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কে এসব যান চলাচল কিছুটা কমলেও ইটভাটা অধ্যুষিত পুর্বাঞ্চলে হরদমছে চলছে। ফলে ওইসব এলাকার সড়কগুলোর দুরাবস্থায় পতিত হয়েছে।
    ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রায় ৪ শতাধিক টাক্টর রয়েছে।   মূল সড়ক ছাড়া অন্য সড়কগুলোতে পুলিশ সুপারের নির্দেশও মানছে না টাক্টর মালিক ও চালকরা ।
    এদিকে টাক্টরের কারণে শুধু দূর্ঘটনাই ঘটছে না নুতন করা পাকা সড়কগুলো বছর না ঘুরতেই নষ্ট হয়ে  যাচ্ছে। কাঁচা সড়কগুলো টাক্টরের কারণে যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে দাড়ায়। ফলে প্রতিবছর বর্ষা এলেই উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচল অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।
    সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা সড়কগুলোর  দুরাবস্থা চোখের দেখার মতো নয়। পাকা সড়ক গুলো এসব যান বাহনের কারণে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার ফরিদগঞ্জ-চান্দ্রা, ফরিদগঞ্জ-কালির বাজার, রূপসা- খাজুরিয়া সড়ক, আষ্টা- গল্লাক সড়ক, আষ্টা- কামতা সড়ক, গল্লাক- ফকির বাজারর সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো  দিয়ে অধিক পরিমানে টাক্টর চলাচল করায় এগুলোর অবস্থা শোচনীয়। সম্প্রতি চাঁদপুর সেচ প্রকল্প বাঁেধর উপর দিয়ে নির্মিত চাঁদপুর- চান্দ্রা –রামগঞ্জ সড়কটি নতুন করে কার্পেটিং করা হলেও সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন  টাক্টরের আসা যাওয়ার হিড়িকের কারণে তা আদৌ টেকসহ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, তদবির বন্ধ থাকলেও  পুলিশ টাক্টর চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। জণগণের সামান্য কিছু সময়ের জন্য দুর্ভোগ হলেও তা সময়ের সাথে লাঘব হয়ে যাবে।
    অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, সড়ক বাঁচাতে হলে টাক্টর বন্ধ করা জরুরী। কারণ এগুলো সড়কে চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় রাস্তা নির্মাণের কিছু সময়ের মধ্যেই রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই এর বিকল্প যান  থাকায় মালামাল আনা নেয়ায় তেমন কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে না বলে তিনি মনে করেন।
    এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, টাক্টর মালিকরা সড়কে গাড়ী চালাতে না পেরে এসব অভিযোগ করছে। তিনি বলেন, চাঁদপুর- ফরিদগঞ্জ সড়কে টাক্টর চলাচল করছে কি না তা নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। ইটভাটা এলাকায় চলাচল করলেও পূজার পর থেকে সেই সব স্থানে অভিযান শুরু হবে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর