শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
logo
ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে মা ইলিশ রক্ষায় গণসচেতনতামূলক সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
মা ইলিশ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:১১:১২
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম ২০১৬ ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর ২২ দিন সরকার ঘোষিত ইলিশ অভয়াশ্রম এলাকা চাঁদপুর জেলার পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। এ সময়ে সারাদেশে ইলিশ আহরণ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন উপলক্ষে গতকাল ৭ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে মা ইলিশ রক্ষায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মা ইলিশ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। কারণ ইলিশ আমাদের মা-সন্তানের মতো। সাগরের লোনা পানি থেকে চাঁদপুরের মিঠা পানিতে এসে মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। গোটা বিশ্ব জানে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। তাই চাঁদপুরকে সরকার হিলশা সিটি অব চাঁদপুর তথা ইলিশের বাড়ি ঘোষণা করেছে। সারাবিশ্ব এখন চাঁদপুরকে ইলিশের বাড়ি হিসেবে চিনবে। চাঁদপুরের এ সম্মান ধরে রাখতে হবে। এজন্যে চাঁদপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণকে মা ইলিশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। এজন্যে আপনাদের আয়ও বাড়বে। তাহলে সরকারের আয় বাড়বে, দেশের উন্নয়ন হবে। গত বছর সফল অভিযানের কারণে এবারের রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে। জেলেরা লাভবান হয়েছে। এতে মানুষের উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন হয়েছে। সবাই ইলিশ রক্ষায় এগিয়ে আসবেন। ইলিশ অভয়াশ্রম চলাকালে নদীতে আপনারা নামবেন না। অন্যেরা নামলে প্রতিহত করবেন। যারা নদীতে নামবে তারা চাঁদপুরে বসবাসের আযোগ্য হবেন। তাদের জেলে আইডিকার্ড, খাস জমি বন্দোবস্ত বাতিল করা হবে। সাজার পরিমাণ বাড়িয়ে জেলখানায় পাঠানো হবে। আদালতে মামলা হলে জেলের ভাত খাওয়ানো হবে। বর্তমান সরকারের কাছে ৪০ কেজির স্থলে ৮০ কেজি চালের প্রস্তাবনা করেছি। সরকারের এ উন্নয়নের কর্মকান্ডে আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন। বর্তমান সরকার চাঁদপুরকে ইলিশ কেন্দ্রিক পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। চাঁদপুর এক সময় সিঙ্গাপুরে পরিণত হবে।
    জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান। তিনি বলেন, অভিযানকালে মা ইলিশ ধরতে কেউ জাল ফেললে গতবারের ন্যায় জেলেসহ নৌকা আটক করবো। আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এলাকার উন্নয়নের জন্যে। মা ইলিশ রক্ষা করতে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর জোনের সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, চাঁদপুর সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা পকঞ্জ বড়–য়া, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শওকত কবির চৌধুরী, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি চাঁদপুর জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আঃ মালেক দেওয়ান, সদর উপজেলা প্রতিনিধি তছলিম বেপারী।
    সভা পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ। আরো বক্তব্য রাখেন ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আঃ মান্নান গাজী, জেলেদের পক্ষে সাহেব আলী পাটোয়ারী। সভার শুরুতে কোরআন তেলোওয়াত করেন চর ফতেজংপুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আহমদ উল্যাহ। সভায় ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সকল মেম্বার ও এলাকার জেলে পরিবারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর