রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
logo
মা ইলিশ রক্ষায় হানারচর ইউনিয়নে গণসচেতনতামূলক সভায় মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
এ বছর যে কোনো মূল্যে মা ইলিশ রক্ষায় কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৫৯:৩০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: মা ইলিশ রক্ষায় হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মুখে গণসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল ৬ অক্টোবর বিকেলে।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ১২ অক্টোবর হতে ২ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সরকার ঘোষিত ইলিশ অভয় আশ্রম এলাকায় চাঁদপুর জেলার পদ্মা মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ আহরণ বন্ধ। এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজার জাতকরণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন উপলক্ষে আয়োজিত গণসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে ইলিশ আজ সিটি অব হিলশা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ গৌরব আমাদের সকলকে ধরে রাখতে হবে। পদ্মা মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর এলাকার ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে অভয় আশ্রম চলাকালীন যাতে কেউ নদীতে কোন প্রকার জাল ফেলতে বা মাছ ধরতে না পারে সেই দিকে নদী তীরবর্তী এলাকার সকল জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নজরদারি থাকতে হবে। অভয় আশ্রম চলাকালে যদি নদীতে মাছ ধরা হয় তাহলে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমি মা ইলিশ রক্ষায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। এ বছর যে কোনো মূল্যে মা ইলিশ রক্ষায় কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। সারা বিশ্বের আজ চাঁদপুরের ইলিশ ব্র্যান্ডিং হচ্ছে এটা চাঁদপুরবাসীর জন্য গর্ব। সরকার প্রতিটি জেলাকে ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। প্রথম পর্যায়ে ৬টি জেলাকে ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। সেই দিক থেকে চাঁদপুরের নাম এক নম্বরে রয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে চাঁদপুরের সু-স্বাদু ইলিশের জন্য। তাই জেলেদের প্রতি অনুরোধ অভয় আশ্রম চলাকালে কেউ মাছ ধরবেন না। মা ইলিশ মারবেন না। মনে করবেন এ ইলিশ আপনাদের সন্তান, আপনাদের ছেলে, মেয়ে, এই মাছ বড় হলে এর সুফল আপনারাই পাবেন। অভয় আশ্রম শেষ হলে এ মাছ আপনারাই ধরবেন। যদি অভয় আশ্রম চলাকালে কেউ নদীতে মাছ ধরেন তাহলে তারা অকৃতজ্ঞ মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কারণ সরকার আপনাদেরকে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করছেন। সরকার এ বছর চাঁদপুর জেলার প্রায় ৪২ হাজার জেলেকে ভিজিএফের মাধ্যমে ৮০ কেজি করে চাল ও নগদ টাকা প্রদান করবেন।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা এক একটি সিঙ্গাপুর হবে। প্রধানমন্ত্রী সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। ইলিশ মাছ আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখে। তাই যে কোন মূল্য আমাদেরকে ইলিশের বংশ বৃদ্ধিসহ এ মাছকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। চাঁদপুরের সুনাম রক্ষা করতে হবে।
হানারচর ইউনিয়নের আয়োজনে গণসচেতনতামূলক সভায় সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমান। উপজেলা সহকারী মৎস কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মদের পরিচালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান মোঃ সফিকুজ্জামান, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, চাঁদপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ অলিউল্লাহ অলি, চাঁদপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ শহিদ উল্লাহ, হানারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস ছাত্তার রাঢ়ী, ইউপি সদস্য, আবুল কালাম কালু মেম্বার, চাঁদপুর জেলা কান্টি ফিসিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম মলি্লক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক তপন কুমার দে, জেলা মৎস্যজীবী নেতা মোঃ মালেক দেওয়ান, মোঃ তছলিম বেপারী প্রমুখ। সভায় জেলে পরিবারের লোকজনসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর