বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে আখ আবাদে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কৃষকরা
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:১০:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মাণের পর মতলব উত্তর উপজেলায় ব্যাপক হারে আখ চাষ শুরু হয়েছিল। কিন্তু উৎপাদন খরচ না উঠায় ৬/৭ বছর আগে থেকে আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলো কৃষকরা। চলতি মৌসুমে কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আখের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং ভালো দামও পাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মতলব উত্তরে আখের চাষ হয়েছিল ১৮০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে আখ চাষ করতে খরচ হয় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা এবং বিক্রি করা যায় ২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। উৎপাদন হয় হেক্টর প্রতি ১১৪ মেঃ টন। তবে কৃষি অফিসের এই হিসাব এ এলাকার জন্যে বাস্তবিক নয়।
৬/৭ বছর আগে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ফরাজীকান্দি, হলদিয়া, লেদামদী, মাথাভাঙ্গা, পাঁচআনী, কলাকান্দা, হানিরপাড়, গজরা, ছেংগারচর, কেশাইরকান্দি, কালিপুর, নিশ্চিন্তপুর, শিকিরচর, বারআনী, ফতেপুর ও ঘনিয়ার পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আখের চাষ হতো। মাঝখানে কৃষকরা লোকসানের কারণে আবাদ কমিয়ে দিলেও চলতি মৌসুমে দেখা যাচ্ছে আখের আবাদ বেড়েছে। উৎপাদনে লাভ হওয়ায় কৃষকরা এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আখের ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষকরা আখ ও আখের গুড়ের ভালো দাম পাচ্ছে। প্রতি কেজি গুড় পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও প্রতি পিচ আখ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে গুড় ও আখের যে মূল্য ৬/৭ বছর আগে তা ছিল না। আগে গুড়ের কেজি ছিলো ২০/২৫ টাকা ও প্রতিটি আখ ২/৩ টাকা। তখন কৃষকদের আখ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠতো না। যার কারণে কৃষকরা আখের আবাদ কমিয়ে দেয়।
হানিরপাড় গ্রামের আখ চাষী জাকির হোসেন জানান, আমাদের এলাকায় ব্যাপকভাবে আখ চাষ হতো। কৃষক ১টি আখ ২/৩ টাকা বিক্রি করতে পারতো না। তাতে কৃষকের খরচ উঠতো না। এ এলাকা গুড় তৈরি হতো না। এখন গুড় তৈরি হচ্ছে। দামও ভালো। আখ চাষে আমরা এখন লাভবান হওয়ায় চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতে আখ চাষের পরিমাণ আরো বাড়বে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম মজুমদার বলেন, তথ্যমতে সেচ প্রকল্প নির্মাণের পর এ এলাকায় ব্যাপক হারে আখের চাষ হয়েছে। দাম না পাওয়া মাঝখানে চাষ কমেছিল। এখন আবার চাষ বাড়ছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর