বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
চাঁদপুরের কচুয়া হাতিরবন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ধ্বসে প্রানহানির আতংকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০৮:৩৮:০৭
প্রিন্টঅ-অ+
শরীফ চৌধুরী

চাঁদপুর: চাঁদপুরের কচুয়া ১৬৪নং হাতিরবন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দিনের দিন কাত হয়ে দেয়াল ও পিলার পুকুরে দেবে যাচ্ছে। ভবনে বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে ভয় ও মৃত্যু আতংকের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি কয়েকদফা লিখিত ও মৌখিক জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে চাপা ক্ষোভে রয়েছে শিক্ষার্থী,শিক্ষক,অভিভাবক ও এলাকাবাসী। কোন প্রকার দূর্ঘটনা ঘটলে এর সকল দায়ভার দিতে হবে বলেন অভিভাবকরা জানান। ১৯৯৫ সালে কচুয়া ১৬৪নং হাতিরবন্দ গ্রামে স্থাপিত হয়েছে বিদ্যালয়টি । বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ৪জন শিক্ষক আছে বিদ্যালয়ে । বিদ্যালয়টি স্থাপনের পর থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত  ৪ শিক্ষক ২০ বছর যাবৎ বিনা বেতনে পাঠদান দিচ্ছে । বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর ফলাফল ভাল। নিয়মিত মা ও অভিভাবক সমাবেশসহ শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আগ্রহী করতে নানানমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার,সহকারী শিক্ষক শাহিনা আক্তার, তাহমিনা আক্তার, রোকেয়া আক্তার স্কুলে বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিদ্যালয়ের ভবনটি পুকুরের উপর হওয়ায় বিদ্যালয়ের দেয়াল ও পিলার দেবে গেছে। এদিকে বিদ্যালয় ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একমাত্র ভবনটিতেই ফাটল। এই ৩ কক্ষের একটি কক্ষে অফিস ও ক্লাশ রুম। অন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় জীবন বাজি রেখে ভবনেই চলছে পাঠদান। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, ভবনটি যে কোন সময় ধসে পড়ে প্রান হানি হতে পারে। নতুন ভবনের জন্য আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি।  প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার একই কথা বললেন। বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা বলেন, আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে আতংকে থাকি। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে ভয়ে স্কুলে পাঠায়নি। বিদ্যালয়ের সামনেই পুকুর। পুকুরটি ভরট না করায় ভবনটি ধ্বসে পড়ছে। অপরদিকে বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরাও পানিতে পরে ডুবে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরট জরুরী হয়ে পড়েছে। জানাযায়, কয়েকমাস পূর্বে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরটের জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ হয়েছিল পরে এ টাকা লাপাত্তা হয়ে গেছে।
     কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান,আমরা বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছি। সেখান থেকে কোন ব্যবস্থা না করলে আমরা কি করব। সবাই দায় সারা জবাব দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয় ভবনটি ধ্বসে পড়ে যখন বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটবে তখন সবাই দেখতে যাবে আর শান্তনা দিবে।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর