রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০
logo
চাঁদপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দিনব্যাপী জেলা ব্র্যান্ডিং কর্মশালায় মন্ত্রী পরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলম
ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে সারাবিশ্বে চাঁদপুরকে পরিচিত ও উন্নয়ন সাধন করতে হবে
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৪০:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই-এর সহযোগিতায় জেলা ব্র্যান্ডিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মলেন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলম। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর প্রধান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সাংবাদিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অংশগ্রহণ করেন।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনএম জিয়াউল আলম বলেন, ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে সারাবিশ্বে চাঁদপুরকে পরিচিত এবং তার মাধ্যমে দেশের অর্থ সামাজিক উন্নয়ন সাধন করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের দিক দিয়ে চাঁদপুর একটি সম্ভবনাময় জেলা। আমাদেরকে চাঁদপুরের খ্যাতিমান জিনিসগুলো তুলে ধরতে হবে। আমাদের দেশের প্রত্যেক জেলাই সিঙ্গাপুর হতে পারে। কারণ আমরা সিঙ্গাপুরের আয়তন জানি। দেশের ৬৪ জেলাকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য কাজ চলছে। এর মধ্যে চাঁদপুরে প্রথম ব্র্যান্ডিং কর্মশালা শুরু হলো। ব্র্যান্ডিং মানে এই নয় যে, আমরা কোন কিছুর উপর গুরুত্ব দিবো। কিন্তু বাকি বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে না। কোন জেলা ব্র্যান্ডিং করার ক্ষেত্রে ওই জেলার দু’-একটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হবে না বরং ওই জেলার সকল বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হবে। আর এগুলো দেশে এবং বিদেশে তুলে ধরলে সামগ্রিকভাবে মূল্য বহন করবে। আর এ উদ্দেশ্যে আজকে জেলা পর্যায়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
    তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরকে সারা বিশে^র পর্যটকদের কাছে পরিচিত করে তুলতে আমরা কাজ করে যাবো। পাশাপাশি চাঁদপুরের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আমাদের পথচলা শুরু হলো। চাঁদপুর জেলাকে আমরা সারা বিশে^র পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে রূপান্তর করবো। চাঁদপুর হবে পর্যটকদের পছন্দের প্রথম স্থান।
    কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর ম-ল বলেন, প্রাচীনকাল থেকে চাঁদপুরকে রূপালী ইলিশের শহর বলা হয়। সে হিসেবে চাঁদপুরকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য “চাঁদপুর সিটি অব হিলশা’ নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও এর বাংলা করা হয়েছে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’। এখন থেকে বিশ্বব্যাপী চাঁদপুর এই নামেই পরিচিতি লাভ করবে।
    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপ-সচিব আব্দুল মান্নান, উপ-সচিব মামুনুর রশিদ ভূঁইয়া, এটুআই-এর ক্যাপাসিটি ডেভোলপমেন্ট স্পেশালিস্ট মানিক মাহামুদ, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের ফাউন্ডার শরীফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। চাঁদপুর জেলার খ্যাতিনামা জিনিসগুলো তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই ই-সার্ভিসের পরিচালক ড. মোঃ আব্দুল মান্নান।
    অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মতিন মিয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি বিএম হান্নান, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান, শাহারাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল ইসলাম, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ মোরশেদুল হক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তার হোসেন, বাগাদী ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বিল্লাল প্রমুখ। এসময় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর