শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
সদ্য সংবাদ :

জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল না হওয়া দুঃখজনক: প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরী নার্সের সান্নিধ্যে সারবে ধূমপানের বদ অভ্যাস!

এমটিসি গ্লোবাল-আইসিটি এ্যাওয়ার্ড পেলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান

এ সংগঠনের ন্যায় সকল সংগঠনেরই মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এগিয়ে আসা প্রয়োজন

হরিণা ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি

ঈদুল আযহা শেষ হলেও চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ভিড় কমেনি

চাঁদপুর মাছঘাট থেকে ইলিশের ডিম প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশ পাঠানো হচ্ছে

কৃষি, মৎস্যখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে নজর দিতে হবে

'রিজার্ভ চুরির ১১৯ কোটি টাকা দু'এক দিনের মধ্যে আসছে'

গম্ভীরকে সবচেয় বেশি ঘৃণা করি: আফ্রিদি

হরিণা ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪৫:১২
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় নীরব চাঁদাবাজি কিছুতেই থামছে না। ওই এলাকার দু’টি গ্রুপ ফেরিঘাটে আসা ট্রাক ও লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর হরিণা ফেরিঘাটে সকালে তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে। একটি তেলের ভাউচার থেকে দু’টি গ্রুপ দু’ভাবে চাঁদবাজি করছে এমন খবর জানতে পেরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম সেখানে ছুটে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে লরিচালক চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করতে না পারায় পুলিশ ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন।
    ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ঢ-৪১-০৩৫৯ নং-এর একটি তেলের লরি বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাটে আসে। এসময় ওই রাতে  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবু ছৈয়ালের পক্ষের স্থানীয় লেংরা খোরশেদের নেতৃত্বে একদল যুবক লরির চালকের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে যায়। গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে অপর একটি গ্রুপ এসে পুনরায় ওই লরি চালকের কাছে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি তিনি পুলিশকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিত গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আহসানুজ্জামান লাবুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে ছুটে যায়। পরে পুলিশ ওই এলাকার চিহ্নিত একাধিক যুবককে ধরে লরি চালকদের সামনে আনে। কিন্তু লরি চালক আরমান ও হেলপার বাবু তাদের কাছে চাঁদা নেয়া যুবকদের চিহ্নিত করতে না পারায় পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
    জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবু ছৈয়ালের গ্রুপ চাঁদাবাজি করে। তার শ্যালক লেংরা খোরশেদ ও তার ছেলের নেতৃত্বে স্থানীয় হাসান, হাবিব, জসিমসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন হরিণা ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি করে আসছে। অপরদিকে গতকাল সোমবার সকালে যে গ্রুপটি ৫ হাজার টাকা দাবি করেছে সেটি হানারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানে আঃ ছাত্তার রাঢ়ীর পক্ষের লোক। চেয়ারম্যানের ছেলে ও তার ভাতিজা আহসানের নেতৃত্বে হাবিব, জসিমসহ একটি দল বর্তমানে ফেরিঘাট নিয়ন্ত্রণ করছে।
    জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক আহসানুজ্জামান লাবু বলেন, হরিণা ফেরিঘাটে এ বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষ হয়রানির শিকার হতে হয়নি পুলিশের তৎপরতার কারণে। তবে দীর্ঘদিন ধরে হাবু ছৈয়াল এ হরিণা ফেরিঘাটে রাজত্ব করেছিলো। এখন তার পক্ষে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় একটি চক্রও সক্রিয় থেকে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে চালক ও হেলপারদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হচ্ছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে আমরা চাঁদাবাজদের আটক করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করবো।
    এ বিষয়য়ে হানারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ ছাত্তার রাঢ়ি বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি। আমার কোনো দল নেই। যারা এ ধরনেই মিথ্যা অভিযোগ করেছে মূলতঃ তারাই এ কাজের সাথে জড়িত। একজন জনপ্রনিধি হিসেবে আমি সকল প্রকার অন্যায় কাজের বিরোধিতা করি। আমি চাই হরিণা ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হোক। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনকে সকল প্রকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। কারা এর সাথে জড়িত তাদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি তাদের নাম বলতে পারি না।
    ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবু ছৈয়াল জানান, আমার পরিবারের কেউ চাঁদাবাজির সাথে জড়িত না। যারা এসব বলে তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে। আমার পরিবারের সবাই ব্যবসা করে এবং আমি নিজেও ব্যবসা করি। তবে ফেরিঘাটের চাঁদাবাজির সাথে জড়িত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলে এবং তার ভাতিজা। লরি চালকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অপরাধে পুলিশ চেয়ারম্যানের ভাতিজাকে আটক করলেও উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে।
    এ বিষয়ে ফেরিঘাট কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন ফেরিঘাটের এ পাড়ে (চাঁদপুর) ফেরি কম থাকায় চাঁদাবাজি হয়না।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর